

প্রায় দুই দিন হাতে রেখে পাকিস্তানের সামনে পাঁচশ রানের লক্ষ্য ঝুলিয়ে দিয়েছিল অস্ট্রেলিয়া। পরের গল্পটা কেবলই বাবর আজম আর মোহাম্মদ রিজওয়ানদের। বাকিদের যোগ্য সঙ্গ পেয়ে রীতিমতো এক বীরত্বগাথাই লিখে বসেছেন দুজন। তাতেই দুই দিন ঠেকিয়ে হার এড়ানোর অসাধ্যটা সাধন করে বসেছে স্বাগতিক পাকিস্তান। পেয়েছে জয়ের সমান এক ড্র।
প্রথম ইনিংসে পাকিস্তান খেলতে পেরেছিল মোটে ৫৩ ওভার, অলআউট হয়েছিল মাত্র ১৪৮ রানে। সেখানে দ্বিতীয় ইনিংসে বাবর আজমের ১৯৬, মোহাম্মদ রিজওয়ানের অপরাজিত ১০৪ রানের ওপর ভর করে ৭ উইকেটে পাকিস্তান সংগ্রহ করে ৪৪৩ রান। কঠিন চাপের মধ্যে রেখেও বাবর আজমদের অলআউট করতে পারেনি অস্ট্রেলিয়া।
নাথান লিওন মাঝে একটু ঝলসে উঠেছিলেন, দ্রুত ৩-৪টি উইকেট পড়ে যাওয়ায় পাকিস্তানও কিছুটা চাপের মুখে পড়ে যায়। কিন্তু শেষ মুহূর্তে মোহাম্মদ রিজওয়ানের দৃঢ়তা আর পাকিস্তানকে হারতে দেয়নি।
রাওয়ালপিন্ডির পর করাচি টেস্টও হলো ড্র। ২ ম্যাচের সিরিজও শেষ পর্যন্ত থাকলো অমিমাংসিত। ২৪ বছর পর পাকিস্তানে খেলতে এসে কোনো জয় নিয়েই ফিরতে পারলেন না প্যাট কামিন্সরা। যদিও কোনোটাতে হারতেও হয়নি তাদের।
শেষদিনে অস্ট্রেলিয়া ৯০ ওভারে পাকিস্তানের ৫ উইকেট তুলতে পারে। জয়ের পেছনে না ছুটে পাকিস্তানী ব্যাটাররা সারাদিনে তোলেন ২৫৩ রান। শেষ পর্যন্ত ৫০৬ রানের জয়ের লক্ষ্যে খেলতে নামা পাকিস্তান ৭ উইকেটে ৪৪৩ রান তোলে।
এদিন আগের দিনে শতক হাঁকানো বাবর ১০২ রান ও আবদুল্লাহ শফিক ৭১ রান নিয়ে খেলতে নামেন। লাঞ্চের আগে শফিককে ৪ রান দূরে থামিয়ে দেন অজি অধিনায়ক প্যাট কামিন্স। ৩০৫ বলে ৯৬ রান করেন শফিক।
পাঁচে নামা ফাওয়াদ আলম অধিনায়ক বাবরকে যোগ্য সঙ্গ দিতে পারেনি। ৯ রান করে কামিন্সের দ্বিতীয় শিকারে পরিণত হন। বাঁহাতি এই ব্যাটার ফিরলে পঞ্চম উইকেটে বাবরের সঙ্গে ১১৫ রানের জুটি গড়ে তোলেন রিজওয়ান। এই দুই ব্যাটার উইকেটে কাটিয়ে দেয় ৪১ ওভার।
টেস্ট ক্যারিয়ারে নিজের সর্বোচ্চ রান করা বাবর দারুণ ব্যাটিংয়ে প্রথম ডাবল সেঞ্চুরির দ্বারপ্রান্তেই ছিল। তবে নাথান লায়ন ৪২৫ বলে ১৯৬ রান করা বাবরকে লাবুশেনের ক্যাচে পরিণত করে ফেরান। ডাবল সেঞ্চুরি মিস করলেও চতুর্থ ইনিংসে অধিনায়ক হিসেবে সর্বোচ্চ রানের রেকর্ড নিজের করে নেন বাবর। ১৯৯৫ সালে ইংল্যান্ডের মাইকেল আথারটনের করা অপরাজিত ১৮৫ রানের রেকর্ড ২৭ বছর পর নিজের দখলে নেন বাবর। ম্যাচ ড্র করা ক্যারিয়ারের সর্বোচ্চ টেস্ট ইনিংস খেলে ম্যাচসেরা হয়েছেন বাবর।
বাবর ফেরার পর লায়ন ফাহিম ও সাজিদকেও তাড়াতাড়ি ফেরান। তবে নোমান আলীকে নিয়ে শেষ ৮ ওভার সাবধানে কাটান রিজওয়ান। নিজেও তুলে নেন ক্যারিয়ারের দ্বিতীয় শতক। শেষ পর্যন্ত ১৭৭ বলে ১০৪ রান করে অপরাজিত থাকেন রিজওয়ান। নাথান লায়ন ১১২ রানে নেন ৪ উইকেট।
সংক্ষিপ্ত স্কোর:
অস্ট্রেলিয়া ১ম ইনিংস: ৫৫৬/৯ ডিক্লে.
(খাজা ১৬০, স্মিথ ৭২, ক্যারে ৯৩; সাজিদ ২/১৬৭, ফাহিম ২/৫৫)
পাকিস্তান ১ম ইনিংস: ১৪৮/১০
(বাবর ৩৬; স্টার্ক ৩/২৯)
অস্ট্রেলিয়া ২য় ইনিংস: ৯৭/২ ডিক্লে.
(খাজা ৪৪*, লাবুশেন ৪৪; শাহীন ১/২১)
পাকিস্তান ২য় ইনিংস: ৪৪৩/৭
(বাবর ১৯৬, রিজওয়ান ১০৪, শফিক ৯৬; লায়ন ৪/১১২)
ম্যাচসেরা: বাবর আজম
এএ