
চলতি ২০২২ বছরের জন্য অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের বৈশ্বিক চাহিদা পূর্বাভাস কমিয়েছে ইন্টারন্যাশনাল এনার্জি এজেন্সি (আইইএ)। ইউক্রেনে হামলা চালানোর প্রতিক্রিয়াস্বরূপ রাশিয়ার বিরুদ্ধে আরোপিত নিষেধাজ্ঞা বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহকে আরো চাপের মুখে ফেলবে বলেও সতর্ক করেছে সংস্থাটি।
জ্বালানি পণ্যের বাজারবিষয়ক মাসভিত্তিক প্রতিবেদনে আইইএ জানায়, আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজার বর্তমানে ভয়াবহ অনিশ্চয়তার মধ্যে। অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের সরবরাহ সংকট যেকোনো সময় এক দশকের সর্বোচ্চে পৌঁছনোর আশঙ্কা রয়েছে।
প্যারিসভিত্তিক সংস্থাটি বলছে, জ্বালানি বাজারের জন্য ভবিষ্যতে কী অপেক্ষা করছে তা এখনো বলা যাচ্ছে না। কারণ চলমান সংকটে বাজার পরিস্থিতিতে অব্যাহত পরিবর্তন দেখা দিতে পারে।
রাশিয়া বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ জ্বালানি তেল রফতানিকারক দেশ। আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞায় দেশটি বড় ধরনের বিপর্যয়ের মুখে পড়েছে। এ কারণে বিশ্ববাজারে লাফিয়ে বাড়ছে জ্বালানি তেলের দাম।
আইইএ বলছে, রাশিয়ার জ্বালানি বাণিজ্যের ওপর এখনো কোনো প্রত্যক্ষ নিষেধাজ্ঞা দেয়া হয়নি। কিন্তু অন্যান্য নিষেধাজ্ঞার কারণে শীর্ষ জ্বালানি তেল কোম্পানি, বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান, জাহাজীকরণ সংস্থা ও ব্যাংক দেশটির সঙ্গে যেকোনো ধরনের বাণিজ্য থেকে বিরত আছে। যুক্তরাষ্ট্র ও ব্রিটেন দেশটি থেকে জ্বালানি আমদানি বন্ধের ঘোষণা দিয়েছে।
আইইএ জানায়, জ্বালানি তেল রফতানিতে রাশিয়া কতটুকু লোকসানের মুখে পড়তে যাচ্ছে তা এখনো স্পষ্ট বলা যাচ্ছে না। তবে ব্যাপক নিষেধাজ্ঞার কারণে দেশটিতে জ্বালানি তেল উত্তোলনে প্রতিবন্ধকতার পরিসর বড় হচ্ছে। অন্যদিকে শীর্ষ কোম্পানিগুলো রাশিয়ার জ্বালানি তেল থেকে মুখ ফিরিয়ে নেয়ায় জ্বালানি তেলের বৈশ্বিক সরবরাহ হুমকিতে।
সংস্থাটি অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের বৈশ্বিক চাহিদা পূর্বাভাস প্রায় দৈনিক ১০ লাখ ব্যারেল কমিয়েছে। নতুন পূর্বাভাস অনুযায়ী, চলতি বছর বিশ্বজুড়ে দৈনিক ৯ কোটি ৯৭ লাখ ব্যারেল জ্বালানি তেলের চাহিদা থাকবে বলে প্রত্যাশা করা হয়েছে।
এদিকে গত মাসেও অপরিশোধিত জ্বালানি তেল উত্তোলন লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে ব্যর্থ হয়েছে ওপেক প্লাস। অব্যাহতভাবে ব্যর্থ হওয়ায় সরবরাহ ব্যবধান বাড়ছে। মূলত রাশিয়ায় যুদ্ধের কারণে জ্বালানি তেল সরবরাহ নিয়ে যে জটিলতা তৈরি হয়েছে, সেটিই বাজারকে আরো সংকুচিত করে তুলছে।
ইন্টারন্যাশনাল এনার্জি এজেন্সি জানায়, জ্বালানি তেলের বাজারে চলতি বছরের দ্বিতীয় প্রান্তিকে দৈনিক সাত লাখ টনের ঘাটতি দেখা দিতে পারে। কারণ পাশ্চাত্যের দেশগুলোর নিষেধাজ্ঞার কবল থেকে বাঁচতে রাশিয়া থেকে জ্বালানি তেল ক্রয় কমিয়ে এনেছে। ফলে এপ্রিলে দেশটির সরবরাহ দৈনিক ৩০ লাখ ব্যারেল কমতে পারে।
তথ্য বলছে, ফেব্রুয়ারিতে ওপেক প্লাস দৈনিক ১০ লাখ ৫০ হাজার ব্যারেল জ্বালানি তেল উত্তোলন করেছে, যা জোটটির লক্ষ্যমাত্রার তুলনায় অনেক কম। যুক্তরাষ্ট্রসহ বেশ কয়েকটি দেশ জোটটিকে অতিরিক্ত জ্বালানি তেল উত্তোলনের আহ্বান জানালেও সেটির তোয়াক্কা করেনি ওপেক প্লাস। এতে জ্বালানি তেলের দাম ক্রমেই বাড়ছে।
এর আগে জানুয়ারিতে অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের বৈশ্বিক চাহিদা ব্যাপক হারে বাড়ার পূর্বাভাস দিয়েছিল জোটটি। সে সময় ওপেক জানায়, চলতি বছরের তৃতীয় প্রান্তিকে জ্বালানি তেলের বৈশ্বিক ব্যবহার দৈনিক ১০ কোটি ব্যারেল ছাড়াবে। ওপেকের তথ্যানুসারে, সর্বশেষ ২০১৯ সালে জ্বালানি পণ্যটির ব্যবহার দৈনিক ১০ কোটি ব্যারেলের বেশি হয়েছিল।
সানবিডি/এনজে