টাকা তুলে নিচ্ছেন আমানতকারীরা,তবু ঝুঁকি নিচ্ছে ব্যাংক

নিজস্ব প্রতিবেদক প্রকাশ: ২০২২-০৩-২৪ ১২:২১:০৪


দ্রব্যমূল্য সামাল দিতে ব্যাংক থেকে টাকা তুলে নিচ্ছেন অনেকে। কেউ আবার ‘ব্যাংকে টাকা রাখলে লাভ পাওয়া যায় না’ বলেও টাকা সরিয়ে অন্য কোথাও খাটানোর চেষ্টা করছেন। আমানতকারীদের যখন এ অবস্থা, তখন খোদ ব্যাংকগুলোই শেয়ারবাজারের মতো ঝুঁকিপূর্ণ খাতে ঝুঁকছে।

এ বিষয়ে বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য বলছে, দুই বছর আগে গঠিত হওয়া ব্যাংকগুলোর বিশেষ তহবিলের (পুঁজিবাজারে বিনিয়োগের জন্য) পরিমাণ ধীরে ধীরে বাড়ছে। এ পর্যন্ত ৩৬টি ব্যাংক সাড়ে ছয় হাজার কোটি টাকার তহবিল গঠন করেছে। যার মধ্যে শেয়ারবাজারে বিনিয়োগ হয়েছে তিন হাজার ৬০০ কোটি টাকা।

এ বিনিয়োগ থেকে এক হাজার ৪০০ কোটি টাকা গেছে সম্প্রতি তালিকাভুক্ত হওয়া বেসরকারি খাতে দেশের প্রথম সুকুক বন্ড বেক্সিমকো গ্রিন সুকুক আল ইস্তিসনায়। বেক্সিমকোর সুকুকে ব্যাংকগুলোর মোট বিনিয়োগ দুই হাজার ২২০ কোটি টাকা, যা বন্ডটির মোট আকারের ৭৪ শতাংশ। বিশেষ তহবিলের বাইরে আরও প্রায় ৯০০ কোটি টাকা নিজস্ব তহবিল থেকেও বিনিয়োগ করেছে ব্যাংকগুলো।

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কর্মকর্তারা বলছেন, ঝুঁকিপূর্ণ হলেও ব্যাংকগুলো যাতে শেয়ারবাজারে টাকা ঢালে, তাতে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সায় আছে।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের শীর্ষ এক কর্মকর্তা বলেন, শেয়ারবাজারে ব্যাংক যাতে বাড়তি টাকা ঢালতে পারে এবং এক্ষেত্রে কেন্দ্রীয় ব্যাংক যেন সায় দেয়, সে ব্যাপারে সরকারের পক্ষ থেকেও এক ধরনের নির্দেশনা আছে।

অর্থনীতিবিদরা বলছেন, ব্যাংকগুলোকে জোর খাটিয়ে শেয়ারবাজারে আনা উচিত হচ্ছে না। ব্যাংকের টাকা মূলত আমানতকারীদের। এটা ঝুঁকির মুখে ফেলা ঠিক নয়।

এ প্রসঙ্গে বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর ড. সালেহউদ্দিন আহমেদ বলেন, আমানতকারীদের স্বার্থ আগে দেখতে হবে। বাংলাদেশ ব্যাংককে আরও দায়িত্বশীল হওয়ার পরামর্শ দিয়ে তিনি বলেন, ঝুঁকিপূর্ণ খাতে বিনিয়োগের বিষয়ে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের যে ক্ষমতা আছে সেটা প্রয়োগ করতে হবে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রতিবেদনে দেখা গেছে, গত বছরের সেপ্টেম্বর শেষে ব্যাংক খাতে গ্রাহকের আমানত ছিল ১৪ লাখ ৬২ হাজার ১৯ কোটি টাকা। ডিসেম্বর শেষে আমানত দাঁড়িয়েছে ১৪ লাখ ৯ হাজার ৩৪ কোটি টাকায়। অর্থাৎ, এই সময়ে ব্যাংক খাত থেকে ৫২ হাজার ৮৪ কোটি টাকা চলে গেছে।

এদিকে গত ৯ মার্চ শেয়ারবাজারে ব্যাংকের বিনিয়োগ বাড়ানোর উদ্দেশ্যে পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত ব্যাংকের প্রধান হিসাব কর্মকর্তাদের (সিএফও) সঙ্গে বৈঠক করে বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি)। ব্যাংক কর্মকর্তাদের সঙ্গে এই বৈঠকের পরই ঘুরে দাঁড়ায় দেশের শেয়ারবাজার।

সানবিডি/এনজে