
শরীয়তপুরের নির্মাণাধীন একটি বাড়ির সেপটিক ট্যাংকিতে কাজ করতে গিয়ে দুই শ্রমিকের মৃত্যু হয়েছে। আহত হয়েছেন আরও এক শ্রমিক। আহত ওই শ্রমিককে ডামুড্যা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে।
বুধবার বিকাল ৪টার দিকে জেলার ডামুড্যা উপজেলার এই মর্মান্তিক ঘটনাটি ঘটে।
নিহত দুই শ্রমিক মো. তুহিন ও ইব্রাহীমের বাড়ি একই উপজেলার সিড্যা ইউনিয়নের মধ্য সিড্যা গ্রামে। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন ডামুড্যা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা শরীফ আহমেদ।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বুধবার বিকাল ৪টায় উপজেলার সিড্যা ইউনিয়নের আব্দুল খালেক মীরের নির্মাণাধীন ভবনে কাজ করছিলেন শ্রমিকরা। এ সময় ওই ভবনের সেফটি ট্যাংকের সেন্টারিংয়ের মালামাল খুলতে ট্যাংকির ভিতরে প্রবেশ করেন ঠিকাদার মো. তুহিন (৩০) ও তার সহযোগী ইব্রাহীম (২২)। দীর্ঘ সময় পার হওয়ার পরও তাদের কোনো সাড়াশব্দ না পেয়ে আবুল হোসেন (৪৫) নামের আরেক শ্রমিক ওই ট্যাংকির ভিতরে প্রবেশ করেন। এক পর্যায়ে আবুল হোসেনের কোনো সাড়াশব্দ না পেয়ে স্থানীয়দের মাঝে সন্দেহ দেখা দেয়। পরে স্থানীয়রা ট্যাংকির একটি অংশ ভেঙে ভিতরে প্রবেশ করে তাদেরকে উদ্ধার করে স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। কর্তব্যরত চিকিৎসক তুহিন ও ইব্রাহীমকে মৃত ঘোষণা করেন। আহত আবুল হোসেনকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। তাকে চিকিৎসা দেয়া হচ্ছে।
ডামুড্ডা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা মোস্তফা খোকন বলেন, অসুস্থ তিনজন নির্মাণ শ্রমিককে হাসপাতালে আনা হয়। তাদের মধ্যে দু’জনকে মৃত অবস্থায় পাওয়া গেছে এবং আহত একজনকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। প্রাথমিক ধারণায় বোঝা যাচ্ছে সেপটিক ট্যাংকের মধ্যে সৃষ্ট বিষাক্ত গ্যাসের কারণে তাদের মৃত্যু হতে পারে।
ডামুড্যা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা শরীফ আহমেদ বলেন, সেফটি ট্যাংকিতে কাজ করা অবস্থায় দুই শ্রমিকের মৃত্যু হয়েছে। ঘটনাটি শুনে ডামুড্যা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে এসেছি। বিষয়টি তদন্ত করা হচ্ছে। তদন্ত সাপেক্ষে আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়া হবে।