
রাশিয়ার আগ্রাসনের কবলে পড়ে ইউক্রেনের খাদ্যশস্য রফতানি সক্ষমতা দিন দিন কমছে। যদি রাশিয়া যুদ্ধ বন্ধ ঘোষণা করে, তবেই এ পরিস্থিতি থেকে উত্তরণ সম্ভব। সম্প্রতি এ কথা জানিয়েছেন ইউক্রেনের নতুন কৃষিমন্ত্রী মিকোলা সলস্কি।
এ বিষয়ে স্থানীয় টেলিভিশনে ব্রিফিংকালে মন্ত্রী বলেন, ইউক্রেন বিশ্বের অন্যতম শীর্ষ খাদ্যশস্য উৎপাদনকারী দেশ। প্রতি মাসেই দেশটি সাধারণত ৪০-৫০ লাখ টন খাদ্যশস্য রফতানি করে। কিন্তু সম্প্রতি রফতানির পরিমাণ মাত্র কয়েকশ হাজার টনে নেমে গিয়েছে।
তিনি আরো বলেন, খাদ্যশস্য রফতানিতে নেমে আসা বিপর্যয় বিশ্ববাজারে নাটকীয়ভাবে বড় পরিসরে প্রভাব ফেলেছে। এ প্রভাব একেবারেই প্রত্যক্ষ। যত দিন যাচ্ছে, পরিস্থিতির তত অবনতি হচ্ছে।
চলতি মৌসুমের জন্য ইউক্রেনের খাদ্যশস্য রফতানি পূর্বাভাস কমিয়েছে কৃষিপণ্যের বাজার পরামর্শক প্রতিষ্ঠান এপিকে-ইনফর্ম। মৌসুম শেষে রফতানির পরিমাণ দাঁড়াবে ৪ কোটি ৪০ লাখ টনে, যা আগের পূর্বাভাসের তুলনায় ২৯ শতাংশ কম। এছাড়া ২০২০-২১ মৌসুমের তুলনায় রফতানি কমতে পারে ৩ শতাংশ।
এ বছরের জুলাইয়ে ২০২২-২৩ বিপণন মৌসুম শুরু হয়ে আগামী বছরের জুনে শেষ হবে। এ মৌসুমে দেশটির খাদ্যশস্য রফতানি ৩২ শতাংশ কমতে পারে। রফতানির পরিমাণ দাঁড়াবে প্রায় তিন কোটি টনে। এর মধ্যে এক কোটি টন গম ও ১ কোটি ৯০ লাখ টন ভুট্টা রফতানি করা হবে।
২০২১-২২ মৌসুমের শুরু থেকে রুশ আক্রমণ পর্যন্ত সাত মাস অতিবাহিত হয়েছে। এর মধ্যে ইউক্রেন ৮০ শতাংশ গম ও ৮৯ শতাংশ যব রফতানি করতে সক্ষম হয়েছে। ভুট্টার ক্ষেত্রে মৌসুমের পাঁচ মাস অতিবাহিত হয়েছে। এর মধ্যে শস্যটি ৫৩ শতাংশ রফতানি করা হয়েছে।
তথ্য বলছে, রুশ আক্রমণের পর ইউক্রেনের সমুদ্রবন্দরগুলো পুরোপুরি বন্ধ হয়ে গিয়েছে। ইউক্রেন সমুদ্রবন্দর দিয়েই মোট খাদ্যশস্য রফতানির ৯৯ শতাংশ জাহাজীকরণ করত। তবে বর্তমানে পশ্চিমাঞ্চলের সীমান্ত দিয়ে দেশটি রেলযোগে কিছু খাদ্যশস্য রফতানি করছে। বন্দরের তুলনায় রেলওয়ের রফতানি সক্ষমতা অনেক কম। অন্যদিকে ইউরোপীয় ইউনিয়নভুক্ত দেশগুলোয় ইউক্রেনের খাদ্যশস্যের চাহিদা কমাও রফতানিতে নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে।
সানবিডি/এনজে