
বাংলাদেশ থ্যালাসেমিয়া সমিতি ও হেমাটোকেয়ারের যৌথ উদ্যোগে “থ্যালাসেমিয়া প্রতিরোধ –জাতীয় পরিকল্পনায় বাহক নির্ণয়ের গুরুত্ব” শীর্ষক অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়েছে । অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্য প্রযুক্তি মন্ত্রী মোস্তাফা জব্বার।
এছাড়া বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সংসদ সদস্য ও বিকন ফার্মাসেটিক্যালের ব্যবস্থপনা পরিচালক মোহাম্মদ এবাদুল করিম এম পি, এমিরেটাস অধ্যাপক এবং মাননীয় প্রধান মন্ত্রীর ব্যক্তিগত চিকিৎসক অধ্যাপক ডাঃ এ বি এম আব্দুল্লাহ, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব বিশ্ববিদ্যালয়ের হেমাটোলজি বিভাগের অধ্যাপক এবং হেমাটোলজি সোসাইটির সভাপতি অধ্যাপক ডাঃ মোঃ এম এ আজিজ, প্রাক্তন সচিব ডঃ মিহির কান্তি মজুমদার, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান স্মৃতি জাদুঘরের কিউরেটর ও প্রাক্তন সচিব এন আই খান, স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব জনাব মোঃ এনামুল হক এবং বাংলাদেশ থ্যালসেমিয়া সমিতির সম্মানিত উপদেষ্টা জনাব সৈয়দ দিদার বখত। উক্ত অনুষ্ঠান সভাপতিত্ব করেন বাংলাদেশ থ্যালসেমিয়া সমিতির ভারপ্রাপ্ত সভাপতি ডঃ এম এ মতিন। অনুষ্ঠান শেষে সবাই ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেন ডাঃ মাফরুহা আক্তার, সহকারী অধ্যাপক, হেমাটোলজি ও বি এম টি বিভাগ, ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল।
অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি বিশ্ব থ্যালসেমিয়স দিবস ২০২২ উপলক্ষ্যে দেশী ব্যাপী তিন জেলায় (ঢাকা, চট্টগ্রাম, দিনাজপুরে) বাহক নির্ণয় কর্মসূচীর আনুষ্ঠানিক উদ্ধোধন করেন।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি তার বক্তব্য বলেন, থ্যালাসেমিয়া মুক্ত বাংলাদেশ গড়তে হলে বাহক নির্ণয়ের কোন বিকল্প নেই। আমি সাধু বাদ জানাই বাংলাদেশ থ্যালসেমিয়া সমিতি ও হেমাটো কেয়ারকে যে তারা ইয়ুথ ক্লাব অব বাংলাদেশর তরুণদের সাথে নিয়ে এই কর্মযজ্ঞ শুরু করার জন্য বিকেন ফার্মা সিটিকেলের মত মাল্টি ন্যাশনাল কোম্পানি সামনে এগিয়ে এসে তাদেরকে যে ভাবে সাহায্য সহযোগিতা করছে তাঁর জান্য এম পি এবাদুল করিম কে ধন্যবাদ। সরকারের পাশা পাশি সমাজের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান যদি সামনে এগিয়ে আসে তাহলে যে কোন অসাধ্য কে সাধন করা সম্ভব। আমাদের সকলের উচিত থ্যালসেমিয়া প্রতিরোধের জন্য এক যোগে কাজ করা।
জনস্বাস্থ্য প্রেক্ষাপটে বাংলাদেশের জন্য থ্যালাসিমিয়া একটি গুরুতর সমস্যা।এটি মূলত জীনগত ও জন্মগত একটি রক্তশূন্যতাজনিত রোগ। আক্রান্ত রোগীদের সারাজীবন চিকিৎসার উপর নির্ভরশীল থাকতে হয়। যেমন বারবার রক্ত পরিসঞ্চালন করা, আয়রন কমানোর ঔষধ সেবন ইত্যাদি। সামষ্টিক চিকিৎসা ব্যায় অনেক বেশি। যেহেতু বংশগত রোগ তাই পিতা ও মাতা উভয়েই যদি থ্যালাসিমিয়ার বাহক হন তবে অনাগত সন্তানের থ্যালাসিমিয়া রোগ হতে পারে। উল্লেখ্য যে বাহকের নিজের তেমন কোন শারিরীক সমস্যা থাকে না। তাই বাহক নির্ণয়ের ক্ষেত্রে বেশির ভাগ সময়েই সচেতনতা ও জ্ঞানের অভাব থাকে। অথচ রক্তের হিমোগ্লোবিন ইলেকট্রফরেসিস পরীক্ষার মাধ্যমে সহজেই নির্ণয় করা যায়।
দেশে শতকরা ১০-১২ ভাগ মানুষ থ্যালাসেমিয়া এবং হিমোগ্লোবিন-ই বাহক অর্থাৎ মোট জনসংখ্যার ১.৫ কোটি মানুষ থ্যালাসেমিয়া রোগের জীন বহন করে। থ্যালাসেমিয়া একটি রক্তস্বল্পতা জনিত মারাত্মক বংশগত রোগ। বাবা এবং মা উভয়ই এই রোগের জীন বহন করলে সন্তানেরা এই রোগ নিয়ে জন্ম গ্রহণের সম্ভাবনা থাকে। বাংলাদেশে এখন এই সঠিক কোন তথ্য উপাত্ত নেই তবে বিভিন্ন গবেষণা হতে প্রাপ্ত তথ্যের ভিত্তিতে বলা হয় দেশে প্রতি বছর ৮০০০-১৫০০০ শিশু থ্যালাসেমিয়া রোগ নিয়ে জন্ম গ্রহণ করেন। আর এর সংখ্যা দিন দিন বেড়েই চলছে।
থ্যালাসেমিয়াকে আমাদের দেশে হতে নির্মূল করতে হলে সচেতনতার কোন বিকল্প নেই। বিবাহরে আগে প্রত্যেক তরুণ তরুণীর রক্তের একটি পরীক্ষা ( হিমোগ্লোবিন ইলেক্ট্রোফরসিস) করে জেনে নিতে হবে সে থ্যালাসেমিয়া রোগের বাহক কিনা? বাহক নির্ণয়ের পাশাপাশি থ্যালাসেমিয়া রোগীদের জন্য দেশে পর্যাপ্ত ও উন্নত মানের চিকিৎসার ব্যবস্থা করে হবে এবং মানুষ কে আরো সচেতন করতে হবে যাতে তারা তাদের বাহক নির্নয় পরীক্ষা করে এবং বাহকে বাহকে বিবাহ বন্ধ করে। মানুষকে সচেতন এবং থ্যালাসেমিয়া রোগীদের যথাপুযুক্ত চিকিৎসা ব্যবস্থা যাতে নিশ্চিত করা হয় এই লক্ষ্যে এই বছরের প্রতিপাদ্য – “ থ্যালাসেমিয়াঃ নিজে জানি, যত্নবান হই এবং অপরকে সচেতন করি।
এখনি সময় এই রোগ নিয়ে সকল মহলের যথাপুযুক্ত উদোগ্য গ্রহণ করতে হবে এবং আমাদের সকলকে মিয়ে থ্যালাসেমিয়া মুক্ত বাংলাদেশ গড় তোলতে হবে।
এএ