তীব্র খরায় আবাদ ব্যাহত
তুলার বৈশ্বিক সরবরাহ তীব্র হওয়ার শঙ্কা
সান বিডি ডেস্ক আপডেট: ২০২২-০৫-৩১ ১০:৩৪:০৭

যুক্তরাষ্ট্রের পশ্চিম টেক্সাসের ফসিল মাঠগুলো ভয়াবহ খরার প্রভাবে ফেটে চৌচির। দেশটির শীর্ষ তুলা উৎপাদনশীল অঞ্চলে এমন পরিস্থিতি জাতীয় উৎপাদনকে বিপর্যয়ের দিকে টেনে নিয়ে যাচ্ছে। ফলে তুলার বৈশ্বিক সরবরাহ চেইনে সংকট আরো ঘনীভূত হওয়ার আশঙ্কা করছেন বিশ্লেষকরা। এ পরিস্থিতিতে পণ্যটির বাজারদরেও অস্থিতিশীলতা প্রকট হচ্ছে।
এদিকে উৎপাদন ঘাটতি ও ঊর্ধ্বমুখী দামের কারণে চলতি মৌসুমে তুলার বৈশ্বিক ব্যবহার কমতে পারে। মৌসুম শেষে ব্যবহারের পরিমাণ দাঁড়াতে পারে ১২ কোটি ২০ লাখ বেলে, যা আগের মৌসুমের তুলনায় ১০ লাখ বেল কম।
তথ্য বলছে, সার ও পরিবহন ব্যয়সহ উৎপাদন ব্যয়ের ঊর্ধ্বমুখিতা এমনিতেই চাষীদের জন্য বোঝা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তার ওপর ভয়াবহ খরা পরিস্থিতিকে আরো জটিল করে তুলেছে। লা নিনা পরিস্থিতির কারণে আগামী বছরের দ্বিতীয়ার্ধেও খরার প্রভাব থাকবে বলে জানিয়েছেন আবহাওয়াবিদরা।
যুক্তরাষ্ট্র বিশ্বের শীর্ষ তুলা রফতানিকারক দেশ। আর দেশটিতে উৎপাদিত তুলার প্রায় অর্ধেকই আসে পশ্চিম টেক্সাস থেকে। র্যাংকিংয়ে দ্বিতীয় অবস্থানে থাকা ব্রাজিলের তুলনায় দেশটি প্রায় দ্বিগুণ তুলা রফতানি করে।
বিশ্লেষকরা জানান, বিশ্বজুড়ে ভোক্তারা ব্যাপক মূল্যস্ফীতির কারণে এমনিতেই অস্বস্তির মধ্যে রয়েছে। তার ওপর যুক্তরাষ্ট্রে নিম্নমুখী উৎপাদন তাদের আরো ভোগাবে।
২০২০ সালের এপ্রিলের পর থেকে তুলার ভবিষ্যৎ সরবরাহ মূল্য বেড়ে তিন গুণ হয়েছে। দাম আরো বাড়তে পারে। এতে বস্ত্র খাতের ব্র্যান্ডগুলো ঊর্ধ্বমুখী ব্যয়জনিত চাপের মুখে।
বিশ্লেষকরা বলছেন, পশ্চিম টেক্সাসে বৃষ্টি না হলে যুক্তরাষ্ট্রে তুলার অবিশ্বাস্য রকম সরবরাহ সংকট দেখা দিতে পারে। দাম বেড়ে পৌঁছতে পারে এক দশকের সর্বোচ্চে।
সংশ্লিষ্টরা জানান, এ বছর যুক্তরাষ্ট্রের তুলাচাষীরা খরার কারণে ৫৫ শতাংশ আবাদ করা জমি পরিত্যাগ করেছেন। আগামী দিনগুলোয় খরা আরো ভয়ানক হয়ে উঠতে পারে।
এদিকে ভূরাজনৈতিক উদ্বেগ তুলা শিল্পে আরো জটিলতা যুক্ত করেছে। রাশিয়া কিংবা ইউক্রেন কোনো দেশই গুরুত্বপূর্ণ তুলা উৎপাদক বা ব্যবহারকারী নয়। রাশিয়ার বছরওয়ারি তুলা পণ্যের আমদানি দাঁড়ায় প্রায় ৩০০ কোটি ডলার। অন্যদিকে ইউক্রেন আমদানি করে প্রায় ৫০ কোটি ডলারের তুলাজাত পণ্য।
কিন্তু রাশিয়া ইউক্রেনে হামলা চালানোর পর পণ্যটির ভোক্তা চাহিদা সংকুচিত হয়ে পড়েছে। বিশ্বজুড়ে তুলার মিলগুলোয় সমস্যা মাথাচাড়া দিয়ে উঠেছে। এর মধ্যে রয়েছে ঊর্ধ্বমুখী উৎপাদন ব্যয়, জ্বালানি পণ্যের আকাশছোঁয়া দাম এবং সুতা উৎপাদন ও বিদ্যুতের মূল্যবৃদ্ধি।
ব্যবসায়ীরা জানান, বর্তমান বাজার পরিস্থিতি ও সামষ্টিক অর্থনীতিতে চাপ সুতা উৎপাদকদের মুনাফা লাভে বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। ব্যবসার প্রত্যেক ক্ষেত্রেই তারা মূল্যস্ফীতির মুখোমুখি হচ্ছেন। ভোক্তাদেরও একই অবস্থা।
এদিকে আগামী দিনের জন্য তুলার মজুদ ধরে রাখাও অনেক বেশি ঝুঁকিপূর্ণ। মজুদ থেকে সরবরাহ না করলে দাম অব্যাহতভাবে বাড়বে। আবার সরবরাহ বাড়ালে মজুদ তলানিতে নামার আশঙ্কা রয়েছে। বিশ্লেষকরা বলছেন, বিশ্ববাজারে পণ্যটির দাম ১১ বছরের সর্বোচ্চে। অন্যদিকে সামষ্টিক অর্থনীতির বৈশ্বিক পরিস্থিতি তুলার ব্যবহার প্রবৃদ্ধিকে ব্যাহত করছে।
এ বছরের শুরুর দিকে এক প্রতিবেদনে বাজার গবেষণা প্রতিষ্ঠান ইনডেক্স বক্স জানায়, গত বছর তুলার বৈশ্বিক গড় দাম ৪১ শতাংশ বেড়েছিল। ওই সময় প্রতি কেজির মূল্য দাঁড়ায় ২ ডলার ২৩ সেন্টে। মহামারীর ধাক্কা সামলে বৈশ্বিক উৎপাদন ঘুরে দাঁড়ানোয় উৎপাদনের পরিমাণ ২ কোটি ৬৩ লাখ টনে উন্নীত হয়, যা মহামারীর আগের বছরের চেয়েও বেশি। কিন্তু ব্যাপক চাহিদা সরবরাহকে ছাড়িয়ে যাওয়ায় দাম ছিল আকাশচুম্বী।
চলতি বছরের প্রথমার্ধে তুলার দাম আরো বাড়ার প্রক্ষেপণ করেছে ইনডেক্স বক্স। কারণ বছরের শুরুতে তুলার বৈশ্বিক উৎপাদন ছিল নিম্নমুখী। এক্ষেত্রে প্রধান ভূমিকা রেখেছে ভারত ও যুক্তরাষ্ট্র।
সানবিডি/এনজে







সানবিডি২৪ এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি ফলো করুন













