
হারানো যৌবন ফিরে পেতে পুরুষাঙ্গ এবং চোখ আনতে হবে! কবিরাজ আবদুল বারেকের এমন আদেশে নকিম উদ্দীন নামের এক কৃষককে হত্যা করে লিটন নামের এক যুবক। তবে যৌবন ফিরে না পেলেও পুলিশের হাতে আটক হয়েছেন খুনি লিটন এবং কবিরাজ আবদুল বারেক।
তাদেরকে আটকের পর বৃহস্পতিবার (২ জুন) সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান যশোর জেলা গোয়েন্দা পুলিশ।
সোমবার (৩০ মে) দিনগত রাতে যশোরের বাঘারপাড়া উপজেলার দরাজহাট ইউনিয়নের পাইকপাড়ার বেনজির আহম্মেদের বাড়ির একটি কক্ষ থেকে নকিম উদ্দিন নামে এক কৃষকের মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। নকিম উদ্দিনকে চোখ উপড়ে পুরুষাঙ্গ কেটে হত্যা করা হয়। মরদেহ উদ্ধারের ছয় দিনের মাথায় ক্লুলেস এ হত্যাকাণ্ড রহস্য উদ্ঘাটন করেছে যশোরের ডিবি পুলিশ।
পুলিশ জানায়, দুই দিন অভিযান চালিয়ে হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত দুই ব্যক্তিকে আটক করেছে যশোর ডিবি পুলিশের একটি চৌকস দল। প্রথমে মানিকগঞ্জের ঘিওর উপজেলার পয়লা ইউনিয়নের চড় বাইলজুরী এলাকা থেকে লিটন মালিতা এবং তার স্বীকারোক্তি অনুযায়ী চুয়াডাঙ্গার দামুড়হুদা উপজেলা থেকে কবিরাজ আবদুল বারেককে আটক করা হয়। এ সময় গ্রেপ্তারকৃত লিটন মালিতার কাছ থেকে একটি পুরুষাঙ্গ, অণ্ডকোষ ও একটি চোখ উদ্ধার করে পুলিশ। এ ছাড়া ভণ্ড কবিরাজ আবদুল বারেকের কাছ থেকে জব্দ করা হয় বিভিন্ন তান্ত্রিক কাজের সরঞ্জাম।
গত ২৬ মে উপজেলার ছাতিয়ানতলা বাজার থেকে ধান কাটার জন্য কৃষক হিসেবে নকিম উদ্দীনসহ তিনজনকে বাড়িতে নিয়ে যান পাইকপাড়া গ্রামের মৃত ইবাদ মোল্যার ছেলে বেনজির আহম্মেদ। এর মধ্যে গত রোববার বিকেলে পারিশ্রমিকের টাকা বুঝে নিয়ে একজন চলে যায় এবং বাকি দুজন লিটন মালিতা ও নকিম উদ্দীন রাতে খাবার খেয়ে একই কক্ষে ঘুমিয়ে পড়ে। পরে বাড়ির মালিক বেনজির আহম্মেদ সোমবার সকালে তাদের ডাক দিলে বাইরে থেকে দরজা খোলা দেখতে পান। দরজা খোলা দেখে তিনি ভেতরে প্রবেশ করে দেখেন জখম অবস্থায় নকিম উদ্দীনের মরদেহ খাটের ওপর পড়ে আছে। এর পরপরই ক্লুলেস এ হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদ্ঘাটনে মাঠে নামে যশোর গোয়েন্দা পুলিশ। দুই দিনের অভিযানে পৃথক দুই জেলা থেকে হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত দুই আসামিকে গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হয় পুলিশ।
কৃষক নকিম উদ্দিনের স্বজনরা জানিয়েছেন, হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত দুজনের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চাই।
যশোরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার সাইফুল ইসলাম জানিয়েছেন, আটককৃত আসামিদের বিরুদ্ধে বাঘারপাড়া থানায় মামলা রেকর্ড করে তাদের আদালতে সোপর্দ করার প্রস্তুতি চলছে।