ঢাকা, , শনিবার, ১৭ নভেম্বর ২০১৮

‘ঘোষণা দিয়েও প্রতিশ্রুত অর্থ দেয়নি অনেক দেশ ও দাতা সংস্থা’

নিজস্ব প্রতিবেদক || প্রকাশ: ২০১৮-০৯-১৩ ২০:৩৯:১৬ || আপডেট: ২০১৮-০৯-১৩ ২০:৪১:৪৮

ঋণ ও অনুদার দেওয়ার ঘোষণা দিয়েও শেষপর্যন্ত অনেক দেশ ও দাতা সংস্থা তাদের প্রতিশ্রুত অর্থের পুরোটা দেয়নি বলে জানিয়েছেন অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আব্দুল মুহিত। তবে এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক (এডিবি) তাদের প্রতিশ্রুতির চেয়েও বেশি অর্থ দিয়েছে বলে জানান তিনি।

বৃহস্পতিবার (১৩ সেপ্টেম্বর) জাতীয় সংসদে প্রশ্নোত্তর পর্বে সরকারদলীয় সদস্য এ কে এম রহমতুল্লাহর লিখিত প্রশ্নের জবাবে অর্থমন্ত্রী সংসদকে এতথ্য জানান।

আবুল মাল আবদুল মুহিত জানান, গত অর্থবছরে (২০১৭-১৮) বিশ্বের বিভিন্ন দেশ ও দাতা সংস্থার কাছ থেকে বৈদেশিক প্রাপ্ত সাহায্যের পরিমাণ ছিল ১৪ হাজার ৬১২.১৮ মিলিয়ন মার্কিন ডলার। এসব অর্থের মধ্যে ঋণের পরিমাণ ১৪ হাজার ২৩১.৪৫ মিলিয়ন মার্কিন ডলার, অনুদান ৩৮০.৭৩ মিলিয়র মার্কিন ডলার।

মন্ত্রী বলেন, ‘প্রাপ্ত ঋণ ও অনুদানগুলো বৈদেশিক সাহায্য বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচির মাধ্যমে কৃষি, পল্লী উন্নয়ন ও পল্লী প্রতিষ্ঠান, পানিসম্পদ, শিল্প, বিদ্যুৎ, তৈল-গ্যাস ও প্রাকৃতিক সম্পদ, পরিবহণ, যোগাযোগ, ভৌত পরিকল্পনা, পানি সরবরাহ, শিক্ষা ও ধর্ম, স্বাস্থ্য-পুষ্টি জনসংখ্যা ও পরিবার কল্যাণ, সমাজকল্যাণ, যুব উন্নয়ন ও মহিলা বিষয়ক, জন প্রশাসন, ক্রীড়া ও সংস্কৃতি, গণযোগাযোগ, বিজ্ঞান-তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি সেক্টর ও সাব-সেক্টরে সর্বাধিক ব্যবহার হয়েছে। এ প্রকল্প যথাসময়ে বাস্তবায়নের জন্য ইআরডি’র মনিটরিং ব্যবস্থা চালু আছে।’

তিনি জানান, ঋণ ও অনুদান দেওয়া দেশ ও সংস্থাগুলোর মধ্যে এশীয় উন্নয়ন ব্যাংকের প্রতিশ্রুত ৭৮০.৬৯ মিলিয়ন মার্কিন ডলারের মধ্যে পাওয়া গেছে ৮৯৬.৩৯ মিলিয়ন মার্কিন ডলার, আইডিএ (বিশ্বব্যাংক) প্রতিশ্রুতি ২৯৩০.৬৪ মিলিয়ন মার্কিন ডলারের বিপরীতে প্রাপ্ত অর্থের পরিমাণ ১৪২২.৬৫ মিলিয়ন মার্কিন ডলার, চীনের প্রতিশ্রুত ৩৬০৭.৩০ মিলিয়ন মার্কিন ডলারের বিপরীতে প্রাপ্ত অর্থের পরিমাণ ৯৭৮.৬৬ মিলিয়ন মার্কিন ডলার, ইউএন সংস্থার প্রতিশ্রুতি ১৮৩.০৯ মিলিয়ন মার্কিন ডলারের বিপরীতে প্রাপ্ত অর্থের পরিমাণ ১৬৯.৯৬ মিলিয়ন মার্কিন ডলার, আইডিবির প্রতিশ্রুতি ১১৩ মিলিয়ন মার্কিন ডলারের বিপরীতে প্রাপ্ত অর্থের পরিমাণ ৩২.৯৬ মিলিয়ন মার্কিন ডলার, জাপানের প্রতিশ্রুত ১৮২৮.৬৭ মিলিয়ন মার্কিন ডলারের বিপরীতে প্রাপ্ত অর্থের পরিমাণ ১৫৪৪ দশমিক ১৪ মিলিয়ন মার্কিন ডলার, ভারতের প্রতিশ্রুত ৪৫০৭.৪৩ মিলিয়ন মার্কিন ডলারের বিপরীতে প্রাপ্ত অর্থের পরিমাণ ৪৯.৯০ মিলিয়ন মার্কিন ডলার। রাশিয়ার প্রতিশ্রুত সব অর্থ পাওয়া গেছে, দেশটির প্রাপ্ত অর্থের পরিমাণ ৮৩২ দশমিক ৮২ মিলিয়ন মার্কিন ডলার।

মুহাম্মদ মিজানুর রহমানের প্রশ্নের জবাবে অর্থমন্ত্রী বলেন, ‘বর্তমানে দেশের পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত কোম্পানির সংখ্যা ৩০৬টি। এসব কোম্পানির মধ্যে জেডর্ভুক্ত কোম্পানির ৪৪টির মধ্যে ৩৭টি আংশিক বা পুরোপুরি উৎপাদনে রয়েছে। তবে, এ শ্রেণিভুক্ত কোম্পানির মধ্যে যারা উৎপাদন কার্যক্রমে নেই সেসব কোম্পানির শেয়ারহোল্ডারদের অব্যাহত আর্থিক ক্ষতি থেকে বাঁচাতে স্টক এক্সচেঞ্জ থেকে বিধিমতে তালিকাচ্যুতিকরণ কার্যক্রম চলমান রয়েছে। এর ধারাবাহিকতায় গত ১৯ জুলাইয়ে রহিমা ফুড লিমিটেড এবং মর্ডান ডাইং এন্ড স্ত্রিন প্রিন্টিং লিমিটেডকে তালিকাচ্যুত করা হয়েছে।

মন্ত্রী আরো বলেন, ‘সিকিউরিটিজ আইন অনুযায়ী জেড শ্রেণিভুক্ত কোম্পানিগুলো বাৎসরিক মুননাফা থেকে লভ্যাংশ বিতরণ করলে স্বয়ংক্রিয়ভাবে তাদের শ্রেণি পরিবর্তন হয়।’

মো. সোহরাব উদ্দিনের লিখিত প্রশ্নের জবাবে অর্থমন্ত্রী বলেন, ‘সাধারণভাবে প্রবৃদ্ধি বাড়লে দারিদ্র হ্রাস পায়। তবে, অর্থনীতির কাঠামোগত সীমাবদ্ধতার কারণে প্রবৃদ্ধির সুফল সমানভাবে সকলের কাছে পৌঁছায় না। দারিদ্র ও অসমতার হ্রাসের ক্ষেত্রে আমরা করকাঠামো সংস্কার, অভ্যন্তরীণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান, ক্ষুদ্রঋণ ও দক্ষতামূলক প্রশিক্ষণ, আশ্রয়ণ প্রকল্প, সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচির মাধ্যমে আয় হস্তান্তর ইত্যাদি কৌশল প্রয়োগ করে আসছি। ২০১৮-১৯ অর্থবছরে সামাজিক নিরাপত্তাখাতে বরাদ্দ ৬৪ হাজার ১৭৭ কোটি টাকায় উন্নীত করা হয়েছে, যা জিডিপি’র ২.৫৩ শতাংশ এবং মোট বাজেটের ১৩.৮১ শতাংশ।’

এছাড়া ২০০৫ সালে ১৩ শতাংশ পরিবার সুবিধা ভোগ করে এবং পরবর্তী বছরে ২০০৬ সালে তা উন্নীত করা হয়, যার হার ২৮.৭ শতাংশ। এই উদ্যোগের ফলে দারিদ্রের হার ২০১০ সালের ৩১.৫ শতাংশ থেকে কমে ২০১৬ সালে কমে এসে দাড়ায় ২৪.৩ শতাংশ এবং অতি-দরিদ্রের হার ১৭.৬ শতাংশ থেকে ১২.৯ শতাংশে হ্রাস পেয়েছে।

আর্কাইভ