
অর্থনৈতিক সংকটে নাকাল ঋণে জর্জর পাকিস্তান। প্রবাসী ও রপ্তানি আয় কমায় বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভে টান পড়েছে। পরিস্থিতি সামাল দিতে ব্যয় সংকোচনের পথে হাঁটছে দেশটির সরকার। তারই অংশ হিসেবে এবার মন্ত্রী ও সরকারি কর্মকর্তাদের বিদেশে চিকিৎসা গ্রহণে নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়েছে। খবর জিও নিউজের।
গতকাল মঙ্গলবার মন্ত্রিসভার গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকের পর তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী মরিয়াম আওরঙ্গজেব এ সিদ্ধান্তের কথা জানান। বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ।
মরিয়াম আওরঙ্গজেব বলেন, গুরুত্বপূর্ণ সফর ছাড়া সরকারি কর্মকর্তাদের অপ্রয়োজনীয় বিদেশ ভ্রমণ নিষিদ্ধ করা হয়েছে। মন্ত্রিসভার সদস্য ও সরকারি কর্মকর্তাদের বিদেশে চিকিৎসা নেওয়াও নিষিদ্ধ করা হয়েছে। তিনি আরও জানান, মন্ত্রী ও সরকারি কর্মকর্তাদের জন্য বরাদ্দ জ্বালানি কোটা ৪০ শতাংশ কমানোর অনুমোদন দিয়েছে মন্ত্রিসভা। সরকারি পর্যায়ে গাড়ি ক্রয়ের ওপর বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়েছে। সরকারি বৈঠকগুলো ভার্চ্যুয়ালি করার বিষয়ে সিদ্ধান্ত হয়েছে। সরকারি দপ্তরে মধ্যাহ্নভোজ, আপ্যায়ন ও নৈশভোজ আয়োজনও নিষিদ্ধ করা হয়েছে।
এদিকে, লোডশেডিং কমিয়ে আনতে কয়েকটি সিদ্ধান্ত নিয়েছে মন্ত্রিসভা। বিদ্যুৎ সাশ্রয়ের জন্য রোববারের পাশাপাশি শনিবারও সাপ্তাহিক ছুটির দিন বহাল রাখার ইঙ্গিত দিয়েছে সরকার। শাহবাজ প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব নেওয়ার দিনই শনিবারের সাপ্তাহিক ছুটি বাতিলের ঘোষণা দিয়েছিলেন। অবশ্য কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বিরোধিতার মুখেও পড়েন তিনি।
মরিয়াম আওরঙ্গজেব বলেন, শনিবার সাপ্তাহিক ছুটি বহালের বিষয়টি মন্ত্রিসভা অনুমোদন দিলেও সন্ধ্যা ৭টার পর দোকানপাট বন্ধ রাখার বিষয়ে এখনো কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি।
মরিয়াম আওরঙ্গজেব আরও বলেন, শুক্রবার বাসা থেকে অফিস করা এবং দোকানপাট দ্রুত বন্ধ করার পরামর্শ এসেছে। দ্রুত দোকানপাট বন্ধের বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিতে মন্ত্রিসভার একটি উপকমিটি গঠন করা হয়েছে। তারা এ বিষয়ে ব্যবসায়ীদের সঙ্গে আলাপ করবে।
এএ