৪ কোটি টন কমতে পারে বৈশ্বিক খাদ্যশস্য উৎপাদন

সান বিডি ডেস্ক আপডেট: ২০২২-০৬-১০ ১০:৪৯:৪৩


২০২২-২৩ মৌসুমে বৈশ্বিক খাদ্যশস্যের উৎপাদন  চার কোটি টন কমে যাওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। গম, ভুট্টা ও যবের নিম্নমুখী উৎপাদন খাদ্যশস্যের সর্বোপরি উৎপাদনে নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে। সম্প্রতি ইন্টারন্যাশনাল গ্রেইনস কাউন্সিল (আইজিসি) ৫৬তম কাউন্সিল সেশনে এ তথ্য জানিয়েছে।

আইজিসি বলছে, ২০২২-২৩ মৌসুমে বিশ্বজুড়ে খাদ্যশস্য উৎপাদনের পরিমাণ দাঁড়াবে ২২৫ কোটি ১০ লাখ টনে। এদিকে উৎপাদন কমলেও খাদ্যশস্যের চাহিদার মাত্রা ঊর্ধ্বমুখীই থাকবে। ফলে মৌসুম শেষে বৈশ্বিক মজুদ কমে যাওয়ার আশঙ্কাও রয়েছে।

গ্রেইনস কাউন্সিলের দেয়া তথ্যানুযায়ী, ২০২২-২৩ মৌসুমে খাদ্যশস্যের বৈশ্বিক বাণিজ্য ৩ শতাংশ কমতে পারে। এ সময় বাণিজ্যের পরিমাণ দাঁড়াবে ৪০ কোটি ৪০ লাখ টনে। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি কমবে ভুট্টা ও যবের বাণিজ্য।

তবে সয়াবিনের বৈশ্বিক উৎপাদন ঘুরে দাঁড়ানোর সম্ভাবনা দেখছে আইজিসি। গত মৌসুমের তুলনায় উৎপাদন ১১ শতাংশ বেড়ে ৩৭ কোটি ৮০ লাখ টনে উন্নীত হতে পারে। শস্যটির বাণিজ্য ৮ শতাংশ বাড়বে বলে প্রত্যাশা করা হচ্ছে। এশিয়ার বাজারেই শস্যটির সবচেয়ে বেশি লেনদেন হবে। অন্যদিকে চালের বৈশ্বিক উৎপাদনও বাড়বে বলে ধারণা করা হচ্ছে। উৎপাদন বৃদ্ধিতে প্রধান ভূমিকা রাখবে এশিয়া।

বিশ্লেষকরা বলছেন, করোনা মহামারীর ধাক্কা সামলে বিশ্ব অর্থনীতিতে যখন গতি সঞ্চার হচ্ছিল, তখন খাদ্যশস্যের বাজার চাঙ্গা হয়ে ওঠে। কিন্তু লজিস্টিকস, পরিবহন, শ্রমিক সংকটসহ নানা প্রতিবন্ধকতায় বাজার ধীরে ধীরে অস্থিতিশীল হতে শুরু করে। এর মধ্যেই রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের সূত্রপাত বাজারকে দীর্ঘ অনিশ্চয়তার দিকে ঠেলে দেয়।

বৈশ্বিক গম রফতানির সিংহভাগই আসে রাশিয়া ও ইউক্রেন থেকে। যুদ্ধের প্রভাবে ইউক্রেনের কৃষ্ণ সাগরীয় বন্দরগুলো অবরুদ্ধ হয়ে পড়লে তলানিতে নামে রফতানি। অন্যদিকে পশ্চিমা দেশগুলোর একের পর এক নিষেধাজ্ঞায় রাশিয়ার রফতানিও ব্যাহত হয়। বাজার যখন যুদ্ধসহ বহুমুখী সংকটে জর্জরিত ঠিক তখনই গম রফতানি বন্ধের ঘোষণা দেয় অন্যতম শীর্ষ উৎপাদক ভারত। এ ঘোষণার পর খাদ্যশস্যের বাজার আরো নিয়ন্ত্রণহীন হয়ে পড়ে।

এদিকে বৈরী আবহাওয়ায় লাতিন আমেরিকার দেশগুলোয় উৎপাদন হতাশার জন্ম দিয়েছে। এ অঞ্চল থেকে প্রত্যাশিত উৎপাদন আসার সম্ভাবনা না থাকায় বাজারে সরবরাহ ও চাহিদার ভারসাম্য নিয়ে উদ্বেগ কাটছে না কোনোভাবেই।

সানবিডি/এনজে