
সিলেটের প্রত্যন্ত এলাকার এক অশিক্ষিত পান বিক্রেতার বিরুদ্ধে রাষ্ট্রদ্রোহ মামলার অনুমোদন দিয়েছে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। এ অভিযোগে তাকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। অভিযুক্ত ব্যক্তি সিলেটের বিয়ানীবাজারের বাবুল আহমেদ।
স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, মানবতাবিরোধী অপরাধে মৃত্যুদণ্ডাদেশপ্রাপ্ত জামায়াতে ইসলামীর আমির মতিউর রহমান নিজামীকে নিরপরাধ দাবি করে তাঁর মুক্তি চেয়ে অ্যাটর্নি জেনারেলের কাছে চিঠি পাঠিয়েছিলেন বাবুল আহমেদ (৩৫) নামের এক ব্যক্তি। চিঠিতে অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলমকে হত্যার হুমকি এবং আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের বিচারকদের প্রতি ঘৃণা ও অবজ্ঞা প্রকাশ করা হয়। এ ঘটনায় বাবুলের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রদ্রোহ মামলা করার অনুমোদন চেয়েছিল পুলিশ। গত সপ্তাহে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সেই অনুমোদন দিয়েছে।
গত জানুয়ারির শুরুর দিকে চিঠিটি পাঠান বাবুল। ১৭ জানুয়ারি তাঁকে বিয়ানীবাজার থেকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। পরে আদালতের মাধ্যমে তাঁকে দুই দিনের রিমান্ডে নেওয়া হয়।
স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সূত্র জানায়, ওই চিঠিতে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের বিচারকদের সম্পর্কে ঘৃণা ও অবজ্ঞা প্রকাশ করা হয়েছে। চিঠি পাওয়ার পর ৬ জানুয়ারি শাহবাগ থানায় সাধারণ ডায়েরি করা হয়। তাতে উল্লেখ করা হয়, বাবুল দেশের প্রচলিত আইন, আদালত, সরকার, বিচারপতি এবং দেশের সর্বোচ্চ আইন কর্মকর্তার প্রতি ঘৃণা ও অবজ্ঞা সৃষ্টি করে রাষ্ট্রদ্রোহের অপরাধ করেছেন। অভিযোগের ভিত্তিতে পরে পুলিশের পক্ষ থেকে বাবুলের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রদ্রোহ মামলা করার জন্য স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অনুমতি চাওয়া হয়। গত ২৫ ফেব্রুয়ারি সেই অনুমোদন দিয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়।
বাবুলের মা মিনারা বেগম বলেন, ‘আমার ছেলে বাজারে পান বিক্রি করে। সে রাজনীতি বোঝে না। তার পান দোকানে এসে বিভিন্ন জন যা আলাপ করে তাই সে মাথায় নেয়। এভাবেই সে চিঠি লিখে পাঠিয়েছে। খামে নিজের ঠিকানাও দিয়ে দিয়েছে। সরল আর বোকা না হলে কেউ নিজের ঠিকানা দেয়? সরকার যদি এই অশিক্ষিত লোকের কথায় এমন বড় মামলা দেয়, তাহলে তো প্রতিদিন মামলা হবে।’
স্থানীয় বৈরাগীবাজার গ্রামের লোকজন জানান, বাবুল খুব সহজ সরল ছেলে। না বুঝে এসব করেছে।
স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সহকারী সচিব এ এম তৌহিদুল আলম জানান, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় রাষ্ট্রদ্রোহের মামলা করার অনুমতি দেওয়ার পর এখন থানা কর্তৃপক্ষ বিষয়টি তদন্ত করে দেখবে।
তবে শাহবাগ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবু বকর সিদ্দিক জানান, অভিযোগ অনুযায়ী তারা শুধু থানায় সাধারণ ডায়েরি লিপিবদ্ধ করেছেন। বিষয়টি তদন্ত করছে মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ। সূত্র: সময়ের কণ্ঠস্বর