তরুণ উদ্ভাবক রাজু’র আবিষ্কার “নূরজাহান বালতি”

আপডেট: ২০১৬-০৩-০৩ ২০:৩১:৪৪


Naogaon Pic 03- 03- 16বিদ্যুৎ দিয়ে পানি গরম করার সময় অসাবধানতার কারণে পানি বিদ্যুতায়ন হয়ে প্রতি বছরই ঘটে নানান দুর্ঘটনা। বিদ্যুৎ খরচও হয় ব্যাপক। দুর্ঘটনা মুক্ত, নিরাপদ, বিদ্যুৎ সাশ্রয়ী ও স্বল্প মূল্যে সাধারণ মানুষের ক্রয় ক্ষমতার মধ্যে রাখতে মাত্র এক মাসের চিন্তা ভাবনায় দেশীয় প্রযুক্তি দিয়ে বিদ্যুৎ সাশ্রয়ী ও বিদ্যুৎ নিরোধক পানি গরম করার যন্ত্র আবিষ্কার করলেন নওগাঁর তরুণ উদ্ভাবক এসএম ইব্রাহীম হোসেন রাজু। এর ফলে পানি বিদ্যুতায়ন হয়ে কোন প্রাণী আর মারা যাওয়া বা কোন দুর্ঘটনা ঘটার সম্ভব নেই। তার মায়ের নাম অনুসারে এই যন্ত্রটির নাম দিয়েছেন “নূরজাহান বালতি”।

নওগাঁ শহরের দুবলহাটী রোডে হাট-নওগাঁ আলহাজ্ব ইদ্রীস আলী ইলেকট্রিক এন্ড ওয়ার্কসপ নামের প্রতিষ্ঠানে তরুন উদ্ধাবক এসএম ইব্রাহীম হোসেন রাজু সানবিডিকে জানান, বর্তমানে বাজারে ট্যাংকসহ ও ট্যাংকবিহীন ওয়াটার হিটার আছে। এই হিটারগুলো গ্যাস এবং বিদ্যুৎ দিয়ে ব্যবহার করা যায়। শীতে ঠান্ডা পানি ব্যবহারে কষ্টকে দূর করতে গরম পানির সহজ ব্যবস্থা আরেকটি ইলেকট্রিক যন্ত্র হচ্ছে গিজার। পানি গরম করার আধুনিক মেশিন গিজার, ওয়াটার হিটার ট্যাংকের দাম বেশি হওয়ায় সবার পক্ষে কিনে ব্যবহার করা সম্ভব হয় না। বিদ্যুৎ খরচও বেশি হয়, দামও সাধারণ মানুষের হাতের নাগালের বাহিরে। আবার পানি বিদ্যুৎতায়ন হয়ে ঘটে নানা দূর্ঘটনা। তাই বিদ্যুৎ ও পানি একে অপরের চির শত্র“কে বন্ধু করা, দূর্ঘটনা রোধ এবং সাধারণ মানুষের ক্রয় ক্ষমতার কথা চিন্তা করে ও বিদ্যুৎ সাশ্রয়ী করতে প্রায় পনেরো দিন আগে তিনি এই যন্ত্রটি আবিষ্কার করেছেন।

তার এই যন্ত্রটিতে ইন্ট্রিগেটর, ফিউজ, হিটার/কয়েল ব্যবহৃত হয়েছে। যন্ত্রটিতে সাড়ে ৭শ’ ওয়াট ক্ষমতা সম্পন্ন হিটার ব্যবহার করে ঘন্টায় ৮০ থেকে ১০০ লিটার পানি গরম করতে মাত্র পোনে এক ইউনিট (শূন্য দশমিক ৭৫ ইউনিট) খরচ হয়। পানির পরিমাণ বেশি হলে প্রয়োজনের তুলনায় কিছুটা সময় কম লাগবে। অথচ বাজারে বিভিন্ন কোম্পানির সর্বনিম্ন এক হাজার ওয়াট ক্ষমতা সম্পন্ন পানি হিটার গুলোতে ঘন্টায় এক ইউনিট বিদ্যুৎ খরচ হয়। সেখান থেকে গরম পানি পাওয়া যায় মাত্র ৫০ থেকে ৬০ লিটার।

বাজারে যেসব কোম্পানির পানির হিটার পাওয়া যায় তা নষ্ট হয়ে গেলে যন্ত্রাংশ পরিবর্তন কিংবা মেরামত করা সম্ভব হয় না। আবার এক হাজার ওয়াট ক্ষমতা সম্পন্ন পানি হিটারের সর্বনিম্ন দাম ৫ থেকে ৬ হাজার টাকা।

অথচ “নূরজাহান বালতি” নামে যন্ত্রটি তৈরী করতে বাজার থেকে ২০ লিটারের একটি ১৬০ থেকে ১৮০ টাকা খরচ করতে হয়। আর দেশীয় প্রযুক্তি দিয়ে তার উদ্ভাবনকৃত যন্ত্রটিতে খরচ হয় ১৯০ টাকা। সর্ব মোট সাড়ে ৩শ’ টাকার মত খরচ হয়। এ যন্ত্রের কোন যন্ত্রাংশ নষ্ট হলে তা সহজে পরিবর্তন করা সম্ভব।

শহরের হাট-নওগাঁ মহল্লার শিক্ষক আবু সুবাইব, মানিক হোসেন, মুরাদ হোসেনসহ অনেকে জানান, তাদের পরিবারে দেড় সপ্তাহ থেকে এই বালতিতে তারা পানি গরম করে আসছেন। পানি ফুটানোর সময় হাত দিলেও কোন দুর্ঘটনা ঘটে না। এতে তাদের পরিবারের শিশুদের কোন দুর্ঘটনা ঘটার সম্ভবনা নেই। তারা আরো জানান, সরকার যদি এই যন্ত্রের দিকে লক্ষ্য দেয় তাহলে দেশে বিদ্যুৎ খরচ অনেক কম হবে। পাশাপাশি সাধারণ মানুষরাও পানি গরম করার এই যন্ত্রটি কিনতে পারবে।

উদ্ভাবক এসএম রাজু সানবিডিকে জানান, তার এই যন্ত্রটি বাড়ী, বিভিন্ন কারখানা, গার্মেন্টসের বড় বড় ট্যাংগুলোতে ব্যবহার করা যাবে। একশ’টি পরিবার বাজার থেকে আনা পানি হিটার ১ ঘন্টা  ব্যবহার করলে যে পরিমান বিদ্যুৎ খরচ হবে, তার চেয়ে নুরজাহান বালতিতে ২৪ ইউনিট বিদ্যুৎ খরচ কম হবে। অন্য দিকে পরিমানে বেশি গরম পানিও পাওয়া যাবে। একই ভাবে দেশের বিভিন্ন গার্মেন্টস বা কারখানায় এই যন্ত্রটি ব্যবহার করতে গেলে কারখানায় ব্যাবহার উপযোগী করেও তৈরী করা সম্ভব। এতে হাজার হাজার ইউনিট বিদ্যুৎ খরচ কম হবে। বালতিতে পানি গরম হওয়ার সময় পানিতে হাত বা ধাতব কোন জিনিস দিয়ে স্পর্শ করলেও শক লাগবে না। এমনকি খালি পায়ে পানিতে হাত দিলেও শক লাগবে না। যন্ত্রটি নষ্ট হয়ে গেলে ফিউজটা কেটে যাবে। ফলে পানিতে বিদ্যুৎ প্রবাহিত হবে না। স্বল্প সময়ে এবং স্বল্প খরচে পানি গরম হওয়ায় তা বাড়ির সব ধরনের কাজে ব্যবহার করা যাবে।

রাজু আরো জানান, বাংলাদেশ সরকার বিদ্যুৎ সাশ্রয়ের বিভিন্ন পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। সরকার যদি এই যন্ত্রটি বাজারজাত করতে এগিয়ে আসে তাহলে শতশত ইউনিট বিদ্যুৎ সাশ্রয় হবে। পানি গরম (সাড়ে ৭শ’ ওয়াট ক্ষমতা সম্পন্ন )করা এই যন্ত্রটি বাজারজাত শুরু করা গেলে ২০ লিটার ধারণ সম্পন্ন একটি পানি বালতি ৩শ’ টাকা থেকে সাড়ে ৩শ’ টাকায় সাধারণ মানুষ কিনতে পারবেন। বেশি পানি গরম করার জন্যে পানি রাখার পাত্র কিনতে হবে। আর সাড়ে ৭শ’ ওয়াট ক্ষমতা সম্পন্ন হিটার ব্যবহার করা যাবে। এতে সময় একটু বেশি লাগবে।

সানবিডি/ঢাকা/আহো