

নওগাঁর মান্দায় মৈনম সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের বিরুদ্ধে মিথ্যা হয়রানি বন্ধের জন্য প্রতিষ্ঠানের অভিভাবক ও কিছু শিক্ষার্থীরা ক্ষোভে ফেটে পড়ে কতিপয় কুচক্রী মহলের বিরুদ্ধে প্রতিষ্ঠানে এসে তাৎক্ষণিক একটি ঝাড় প্রাচীর তৈরি করেছে।
সোমবার প্রতিষ্ঠানে তদন্তকারি কর্মকর্তার আসার সংবাদ পেয়ে কিছু অভিভাবক প্রতিষ্ঠানে এসে ক্ষোভে ওই ঝাড়– প্রাচীর তৈরি করে এবং শিক্ষকদের হয়রানি বন্ধে দাউদ, আলেয়া, মাজেদা, নার্গিস, সাজেদা, শামীম, রাশেদা খাতুন, মোমেনা, রিক্তা, ফাইমা, শিরিন, জয়নুর, পপি, জয়ন্তী, সাইদুরসহ প্রায় শতাধিক অভিভাবক ও স্থানীয়দের স্বাক্ষরিতে একটি অভিযোগও প্রেরণ করা হয়েছে দায়িত্ব প্রাপ্ত উপজেলার প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তার নিকট।
অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, এলাকার কতিপয় ব্যক্তির মধ্যে এ বি এম হাসান রিপু ও শ্রী সুবল চন্দ্র কবিরাজদ্বয়সহ আরও ব্যক্তিবর্গ নিজেদের স্বার্থ চরিতার্থ করার জন্য অত্র বিদ্যালয়ের শিক্ষক বৃন্দের বিরুদ্ধে মিথ্যা, বানোয়াট ও ভিত্তিহীন পরিকল্পিত কিছু অসত্য তথ্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নিকট প্রদান করেছেন। যার কোন সত্যতা নেই। যা প্রায়ই বিদ্যালয়ের পাঠদানের ও শিক্ষার সুষ্ঠ পরিবেশে বিঘ্ন ঘটায়। ওই সকল কুচক্রী ব্যক্তি বর্গের মিথ্যা বানোয়াট তথ্য প্রদানে তীব্র নিন্দা জ্ঞাপনসহ বিদ্যালয়ের সুষ্ঠ পরিবেশে বিঘ্ন ঘটাতে না পারে সে জন্যও কর্তৃপক্ষের নিকট তাদের আকুল আবেদন।
সরেজমিনে গিয়ে দেখা গেছে, তদন্তকারি কর্মকর্তাগণ আগমনের সংবাদ পেয়ে দফায় দফায় অভিভাবকগণ প্রতিষ্ঠানে এসে ভিড় জমায়, প্রতিবাদ জানায় এবং তাৎক্ষণিক ঝাড়– প্রাচীর তৈরি করেন। মান্দা উপজেলা রিসোর্স সেন্টারের ইন্সট্যাক্টর কায়সার হাবিব ও উপজেলা সহকারি শিক্ষা কর্মকর্তা মোসাব্বির হোসেন, রেজাউল করিম এবং উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষক সমিতির সভাপতি শাহদত হোসেন, সাধারণ সম্পাদক দেওয়ান রেজাউল করিম রেজাসহ অন্য প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক বৃন্দ।
তদন্তকারি কর্মকর্তা প্রতিষ্ঠানের কিছু শিক্ষার্থী এবং প্রত্যেক শিক্ষক-কর্মচারীদের কাছ থেকে একটি লিখিত পত্র, অভিভাবকদের স্বাক্ষরিত অভিযোগপত্র, ম্যানেজিং কমিটির সহসভাপতি মো: দুলাল হোসেন এবং সদস্য মোছা: মাজেদা বেগমের কাছ থেকে একটি লিখিত পত্র, আগের অভিযোগকারির উপস্থিত সুজন মীর, এ বি এম হাসান রিপু, সুবল চন্দ্র কবিরাজ, মো: নজমুল হক, সেলিম হোসেন দিপু, মো: আশরাফুল ইসলামসহ ক’জনের কাছ থেকেও একটি লিখিত অভিযোগপত্র সংগ্রহ করেছেন বলে জানা গেছে।
শেষের দিকে স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান আবুল কালাম আজাদকেও সেখানে উপস্থিত থাকতে দেখা গেছে। ভাল কাজের জন্য সবাইকে সঙ্গে থাকতে হবে। প্রতিষ্ঠানের মান ক্ষুন্ন না হয় এমন কোন কাজ করা যাবে না বলে চেয়ার্যান জানান। প্রতিষ্ঠানের শিক্ষকগণ সাংবাদিকদের জানান, তাদের বিরুদ্ধে মিথ্যা অভিযোগকারিদের মধ্যে সুবল চন্দ্র কবিরাজ এবং এ বি এম হাসান রিপুসহ বেশ কিছু ব্যক্তি প্রতিষ্ঠানের অভিভাবক সদস্য নন। তবুও তারা যোগসাজোসে তাদের হেউ করার মানসে ও প্রতিষ্ঠানের সুনাম ক্ষুন্ন করার জন্য পূর্বের শত্র“তার জের ধরে তারা এ ঘটনাটি ঘটিয়েছে।
৫ম শ্রেণিতে পড়ুয়া আবু কব্বর বাধনের পিতা আব্দুর রহমান জানান, বই কেড়ে নেওয়ার ঘটনা নয়। ছাত্র-ছাত্রীরা ক্লাস ফাঁকি ও অনেক দেরিতে ক্লাসে উপস্থিত হওয়ায় প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক তাৎক্ষণিক বইপত্র ক্লাশে রেখে তাদের অভিভাবককে প্রতিষ্ঠানে ডেকে আনার জন্য বাড়িতে পাঠিয়ে দেন। প্রতিষ্ঠানের অভিভাবকসহ স্থানীয় ক’জন জানান, পূর্ব শত্রুতার জের ধরে প্রতিষ্ঠানের মান ক্ষন্ন ও শিক্ষকদের হয়রানির করার জন্য তারা ক’জন ব্যক্তি উঠে পড়ে লেগেছে।
প্রতিষ্ঠানের প্রধান শিক্ষক আনজুয়ারা বেগম ওই প্রতিষ্ঠানের একজন পুরানো ছাত্রী হিসেবে দাবি করে সাংবাদিককে জানান, ওই শ্রেণির ছাত্র-ছাত্রীরা অধিকাংশ সময়ই ক্লাসে দেরিতে আসে। ঘটনার দিন ৪/৫জন শিক্ষার্থী সকাল সাড়ে ৯টার ক্লাসে উপস্থিত না হয়ে সোয়া ১০টার দিকে তারা ক্লাসে উপস্থিত হলে দেরিতে আসার কারণ জানতে চেয়ে তাদেরকে প্রধান শিক্ষক তার একজন শিক্ষকের উপস্থিতিতে তাৎক্ষণিক তাদের অভিভাবককে প্রতিষ্ঠানে ডেকে আনার জন্য বাড়িতে পাঠান। সে বিষয়টিকে কেন্দ্র করে তিলকে তাল বানিয়ে তারা ওই ঘটনাটি ঘটিয়েছে যা অত্যন্ত দু:খ জনক।
এ বি এম হাসান রিপু জানান, বিগত দিনে বই বিক্রি করাসহ পুরানো কিছু ক্ষোভ এবং প্রতিষ্ঠানের অন্যান্য শিক্ষকসহ প্রধান শিক্ষক কোচিং এর নামে ৫ম শ্রেণির শিক্ষার্থীদের বই কেড়ে নেওয়ায় অভিভাবকসহ স্থানীয়দের সহযোগীতায় শিক্ষকদের শাস্তি দাবি করে মানব বন্ধনের মাধ্যমে প্রতিবাদ জানিয়ে তা উদ্ধারের চেষ্টা করেছি।
উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষক সমিতির সভাপতি শাহদত হোসেন ও সাধারণ সম্পাদক রেজাউল করিম রেজা জানান, বই কেড়ে নেওয়ার ঘটনা সঠিক নয়। তবে প্রধান শিক্ষককে আরো কঠোর হয়ে প্রতিষ্ঠান পরিচালনা করলে প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার মান আরও বৃদ্ধি পাবে এবং শিক্ষকদের সচেতনসহ আরো যত্নবান হতে হবে।
তদন্ত কর্মকর্তা মান্দা উপজেলা রিসোর্স সেন্টারের ইন্সট্যাক্টর কায়সার হাবিব জানান, ৩ শ্রেণি থেকে ৫ম শ্রেণির কিছু শিক্ষার্থী, অভিভাবক, শিক্ষক-কর্মচারী এবং আগের মানব বন্ধনকারীদের কাছ থেকে লিখিত অভিযোগপত্র নেয়া হয়েছে। যা পর্যালোচনা করে প্রতিবেদন দাখিল করা হবে।
উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা মো: মকলেছুর রহমান জানান, মানববন্ধনের ঘটনার সংবাদ পেয়ে উপজেলা নির্বাহী মহোদয়ের সহযোগীতায় সে দিন তিনি নিজে এবং উপজেলা নির্বাহী অফিসার, উপজেলা চেয়ারম্যান ঘটনাস্থলে গিয়ে তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে বলে তাদের শান্ত করেন। এ বিষয়ে ৩ জনের একটি টিম গঠন করে তদন্ত কাজ চলছে। তদন্ত প্রতিবেদন পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে বলেও তিনি জানান।
উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো: সাইফুর রহমান খান জানান, বিষয়টি নিয়ে তদন্ত চলছে। তদন্ত শেষে প্রতিবেদনের মাধ্যমে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।
সানবিডি/ঢাকা/আহো