

ধৈর্যর বিচারে দিনের শুরুতে ভালোভাবেই মোকাবেলা করছিলেন বাংলাদেশের ব্যাটসম্যানরা। কিন্তু দিন শেষে গড় মার্কে ফেল করেছেন তামিম, জয়, শান্ত, সাকিবরা। বাংলাদেশের প্রথম ইনিংস গুটিয়ে গেছে ২৩৪ রানে। অথচ টস হেরে ব্যাটিং করতে নেমে প্রথম ঘণ্টায় ৪১ রান তুলে নিয়েছিলেন তামিম ও জয়।
দ্বিতীয় ঘণ্টা থেকেই বাংলাদেশের ব্যাকফুটে চলা শুরু। জয়, তামিম প্রথম সেশনেই ফেরেন আলগা শটে। নিজের আউট নিয়ে তামিমের ব্যাখ্যা, টেস্ট ক্রিকেটে শুরু পেয়ে গেলে আমার ইনিংসগুলো সচরাচর বড় হয়। কিন্তু দূর্ভাগ্যজনক আজ বড় করতে পারিনি (৪৬ রান)। আমার কাছে মনে হয়, আমি যেহেতু শুরু পেয়েছিলাম সিনিয়র ক্রিকেটার হিসেবে আমার উচিত ছিল বড় স্কোর করার। নিজের আউট নিয়ে কোনো অজুহাত নেই।
প্রথম ইনিংসে বাংলাদেশের দেয়া ২৩৪ রানের জবাবে ব্যাট করতে নেমে ক্যারিবীয়রা দিন শেষ করেছে বিনা উইকেটে ৬৭ রান তুলে।
ক্রেইগ ব্র্যাথওয়েট ৩০ (৫৫) আর জন ক্যাম্পবেল ৩২ (৪১) রানে অপরাজিত থেকে শেষ করেছেন দিন। বলা যায় কাল দ্বিতীয় দিনে বড় লিড নেয়ার প্রাথমিক আভাসটা দিয়ে রাখল স্বাগতিকরা।
সকালে টস জিতে বাংলাদেশকে ব্যাট করতে পাঠায় ক্যারিবীয়রা। ব্যাট করতে নেমে মুহূর্তেই ভেঙে যায় ওপেনিং জুটি। ক্যারিবীয় পেসা অ্যাটাকের সামনে যেন পেরে উঠছিল না মাহমুদুল হাসান জয়।
১৩তম ওভারে প্রথম ওভার করতে আসা অভিষিক্ত অ্যান্ডারসন ফিলিপ তার দ্বিতীয় বলেই জয়কে ফেরান ১০ রানের মাথায় বোল্ড করে। তামিম ইকবাল আর নাজমুল হোসেন শান্ত মিলে প্রায় শেষ করে দিচ্ছিলেন প্রথম সেশনটা। কিন্তু হতে দেননি আলজারি জোসেফ।
মধ্যাহ্ন বিরতির আগ মুহুর্তে শর্ট বলে কাবু করেন তামিমকে। ৬৭ বলে ৪৭ রানের ইনিংস খেলে ক্যাচ দেন জার্মেইন ব্ল্যাকউডের হাতে।
প্রথম সেশনে ২ উইকেটে ৭৭ রান তুললেও দ্বিতীয় সেশন শেষ হতে আরও ৪ উইকেট হারিয়ে ফেলে বাংলাদেশ।
প্রায় আট বছর পর দলে ফেরা এনামুল হক বিজয়কে নিয়ে লম্বা জুটীর আভাস দিচ্ছিলেন শান্ত। কিন্তু জুটিটা ৩৭ রানে থামিয়ে দেন ফিলিপ। এনামুল হক বিজয়কে এলবিডব্লুর ফাঁদে ফেলে ২৩ রানে ফেরান সাজঘরে।
এরপরের ওভারেই ১০৫ রানের মাথায় শান্তকে ২৬ রানে ফেরান কাইল মায়ার্স। সাকিব আল হাসানও এদিন নিজেকে থিতু করতে পারেননি। মাত্র ৮ রানে থামেন জ্যাডেন সিলসের বলে বোল্ড হয়ে।
আগের ম্যাচে অর্ধশতক হাঁকানো নুরুল হাসান সোহানকে ৭ রানে বিদায় করেন জোসেফ।
দলীয় ১৩৮ রানে ৬ উইকেট হারানোর পর লিটন দাসের ব্যাটে রান আসতে থাকলেও তাকে যোগ্য সঙ্গ দিতে ব্যর্থ হন মেহেদী হাসান মিরাজ। মাত্র ৯ রান করে ক্যাচ তুলে দেন মায়ার্সের বলে।
একের পর এক উইকেট হারাতে থাকলেও লিটন দাস তুলে নেন ক্যারিয়ারের ১৪তম অর্ধশতক। যদিও পঞ্চাশ পূর্ণ করে থাকতে পারেননি বেশিক্ষণ। ৭০ বলে ৫৩ রানের ইনিংস খেলে জোসেফের বলে তুলে দেন ক্যাচ।
দলীয় ১৯১ রানের মাথায় ৮ উইকেট হারানোর পর ৩৬ রানের মূল্যবান জুটি গড়েন শরিফুল ইসলাম ও এবাদত হোসেন। দুজনেই খেলেছেন ক্যারিয়ার সেরা ইনিংস।
শরিফুল সাজঘরে ফেরেন ২৬ রান করে। এবাদত মাঠ ছাড়েন ২১ রানে অপরাজিত থেকে। খালেদ আহমেদের ব্যাটে আসে ১ রান।
উইন্ডিজের পক্ষে ৩ উইকেট করে নেন জ্যেডেন সিলস ও আলজারি জোসেফ। ২টি করে উইকেট নেন অ্যান্ডারসন ফিলিপ ও কাইল মায়ার্স।