
না, কখনোই না! শিশু চুরির ঘটনা আমাদের এ ইউনিটে (ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতাল বার্ন ইউনিট) কখনোই হয়নি। বিষয়টি খুবই উদ্বেগের। সৃষ্টিকর্তার কাছে শুকরিয়া, শিশুটি উদ্ধার হয়েছে।' উদ্বেগ আর উৎকণ্ঠায় কথাগুলো বলছিলেন বার্ন ইউনিটের প্রতিষ্ঠাতা পরিচালক ডা. সামন্ত লান সেন।
শুক্রবার বিকালে ঢামেক হাসপাতালের বার্ন ইউনিট থেকে দেড় বছর বয়সী আয়েশা আক্তার নামের এক শিশু চুরি করে নিয়ে যাওয়ার সময় আনসার সদস্যদের হাতে আটক হন পলি আক্তার নামের এক শিশু চোর। তবে আটক পলি আক্তার জানিয়েছেন, তিনি বাচ্চা চোর নন, শখের বসে শিশুটিকে কোলে নিয়ে নিচে নেমে এসেছিলেন। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ প্রাথমিকভাবে জানিয়েছেন, আটক পলি আক্তার শিশু চুরি সঙ্গে সম্পৃক্ত।
শিশুটির মা রেহানা বেগম জানান, তার স্বামী প্রায় ছয় মাস বার্ন ইউনিটে চিকিৎসাধীন আছেন। পঞ্চম তলার ৫২৫ নাম্বার কক্ষে তিনি চিকিৎসা নিচ্ছেন। স্বামীর সঙ্গেই সন্তান নিয়ে তিনি থাকছেন। স্বামী বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হলে বার্ন ইউনিটে ভর্তি করান।
তিনি জানান, অপরিচিত পলি আক্তার বৃহস্পতিবার রাতে তাদের কাছে এসে শিশু আয়েশা আক্তারকে আদর করেন, কোলে নেন। তখন পলি আক্তার জানান, নতুন ভবনে তার রোগী আছে।
'শুক্রবার বিকালে আবারও পলি তাদের কাছে আসেন। তার শিশুকে আদর করেন, গল্প করেন। তিনি বাথরুমে গেলে ওই সুযোগে শিশু আয়েশাকে নিয়ে পলি নিচে চলে যান। এ সময় বার্ন ইউনিটের প্রধান গেট দিয়ে বের হওয়ার সময় আনসার সদস্যদের হাতে পলি বাচ্চাসহ আটক হন' যোগ করেন রেহানা।
ঢামেক হাসপাতালের পুলিশ ক্যাম্প ইনচার্জ পরিদর্শক মোজাম্মেল হক জানান, উদ্ধারকৃত বাচ্চাটি নিয়ে গেট দিয়ে বের হওয়ার সময় পলি আক্তার আটক হয়। তাকে জিজ্ঞসাবাদ করা হচ্ছে, তার সঙ্গে আরও লোক আছে কি না খোঁজ নেয়া হচ্ছে।
এদিকে ডা. সামন্ত লাল সেন্ত বলেন, 'ঢামেক হাসপাতালে শিশু চুরির ঘটনা থাকলেও বার্ন ইউনিটে এমন ঘটনা এর আগে ঘটেনি। বার্ন ইউনিটে রোগীর স্বজনদের সঙ্গে থাকা শিশুদের যথাযথ নজরে রাখা জরুরি।