জনসংখ্যা বাড়ানোর পরিকল্পনা চীনের
প্রকাশ: ২০১৬-০৩-০৬ ১১:৫২:৩৪

আগামী পাঁচ বছরে অর্থাৎ, ২০২০ সালের মধ্যে জনসংখ্যা সাড়ে চার কোটি বাড়ানোর পরিকল্পনা করছে চীন। এক সন্তান নীতি থেকে সরে আসার পর এবার জনসংখ্যা সংকট কাটানোর উদ্যোগ নিয়েছে চীন।
এরই অংশ হিসেবে দেশটির কমিউনিস্ট নিয়ন্ত্রিত পার্লামেন্টে জনসংখ্যা বাড়ানোর ইস্যুতে নতুন পরিকল্পনার কথা বলা হয়েছে। শনিবার বেইজিংয়ে ন্যাশনাল পিপলস কংগ্রেসের উদ্বোধনী অধিবেশনে এ ব্যাপারে পাঁচ বছর মেয়াদি একটি খসড়া পরিকল্পনা প্রকাশ করা হয়েছে। সেখানে বলা হয়েছে, এর ফলে ২০২০ সালের মধ্যে দেশটির জনসংখ্যা হবে ১৪২ কোটি।
সেই সঙ্গে প্রবৃদ্ধির লক্ষ্যমাত্রা কমিয়ে নতুন অর্থনৈতিক পরিকল্পনা প্রণয়ন করেছে চীন। এ পরিকল্পনায় ব্যাপক শ্রমিক ছাঁটাই এবং সামরিক ব্যয় কমানোরও সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম গার্ডিয়ান বলছে, নতুন এ পরিকল্পনার মধ্য দিয়ে স্পষ্ট হয়েছে, বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহৎ অর্থনীতির এ দেশের অর্থনৈতিক গতি এখন মন্থর।
বেইজিংয়ের ওই বার্ষিক ন্যাশনাল পিপলস কংগ্রেসে চীনের প্রধানমন্ত্রী লি কেকিয়াং দেশটির আগামী পাঁচ বছরের এসব পরিকল্পনা (পঞ্চবার্ষিকী পরিকল্পনা) তুলে ধরেন। এটি দেশটির ১৩তম পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনা। এতে ২০১৬ থেকে ২০২০ সাল পর্যন্ত চীনের অর্থনৈতিক ও সামাজিক উন্নয়নের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে।
চীনা প্রধানমন্ত্রী লি কেকিয়াং সরকার জানিয়েছে, চীন প্রথমবারের মতো আগামী পাঁচ বছরে গড় অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির হার ৬.৫ শতাংশ নির্ধারণ করেছে।
দেশে-বিদেশে মন্থর চাহিদা, অতিরিক্ত শিল্প ক্ষমতা এবং সংশয়পূর্ণ বিনিয়োগের ফলে ২০১৫ সালে চীনের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ৬.৯ শতাংশে নেমে আসে, যা গত ২৫ বছরের মধ্যে সর্বনিু। অর্থনীতিবিদরা ধারণা করছেন, চলতি বছরে এ প্রবৃদ্ধি ৬.৫ শতাংশ হবে।
তবে সরকার ২০১৬ সালের জন্য প্রবৃদ্ধির লক্ষ্যমাত্রা ৭ শতাংশ থেকে নামিয়ে ৬.৫ থেকে ৭ শতাংশের মধ্যে রাখার ঘোষণা দিয়েছে।
পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনায় বলা হয়েছে, বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম অর্থনীতিতে মৌলিক অর্থনৈতিক অবকাঠামো, আবর্তিত শেয়ার বাজার এবং বিশ্ব বাজারে নমনীয় নীতি গ্রহণ করা হবে।
কংগ্রেসে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘হ্যাঁ, ২০১৫ সালটি ছিল একটি কষ্টকর বছর। তা শুধু চীনের জন্যই নয়, বরং পুরো বিশ্বের জন্য। কিন্তু চীনা কমিউনিস্ট পার্টির লক্ষ্য এবং কর্মসূচির কারণে আমরা তা কাটিয়ে উঠতে পেরেছি।’ লি কেকিয়াং তার পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনায় সামরিক ব্যয় কমানোর ঘোষণা দিয়েছেন।
চলতি বছরে চীন সামরিক ব্যয় ৭.৬ শতাংশ বাড়াচ্ছে। গত ছয় বছরের মধ্যে এই বৃদ্ধির হার সর্বনিু। প্রধানমন্ত্রী আধুনিকায়ন পরিকল্পনার ওপর জোর দিয়েছেন, যা সামরিক খরচ কমাতে সহায়ক হবে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
পঞ্চবার্ষিকী খসড়া
২০১৬-২০২০ সালের পঞ্চবার্ষিকী পরিকল্পনার খসড়া প্রকাশ করেছে বিশ্বের অন্যতম অর্থনৈতিক পরাশক্তি চীন। এটাই দেশটির অর্থনৈতিক ও সামাজিক উন্নয়নের ক্ষেত্রে ত্রয়োদশ পঞ্চবার্ষিকী পরিকল্পনা। চীনের ক্ষমতাসীন কমিউনিস্ট সরকারের চলমান জাতীয় কংগ্রেস অধিবেশনে ১৪৮ পৃষ্ঠার এ খসড়া প্রস্তাব অনুমোদিত হয়েছে। চীনের এ খসড়া পরিকল্পনার প্রধান প্রধান খাতের বিবরণ তুলে ধরা হল।
১. প্রতি বছরে বার্ষিক অর্থনৈতিক উন্নয়ন গড়ে ৬.৫ শতাংশ হারে তরান্বিত করা। চলতি বছরের বার্ষিক উৎপাদন (জিডিপি) মাত্রা ৬৭ দশমিক ৭ ট্রিলিয়ন ইউয়ান থেকে বাড়িয়ে ৯২ দশমিক ৭ ট্রিলিয়নের অধিক করার পরিকল্পনা নির্ধারণ।
২. ২০২০ সালের মধ্যে সেবা খাতে জিডিপির ৫৬ শতাংশ ব্যয়ের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ। যা বর্তমানে ৫০ দশমিক ৩ শতাংশ ব্যয় হচ্ছে।
৩. গত বছরের ৪ দশমিক ৩ বিলিয়ন টন কয়লা উত্তোলনের বিপরীতে ২০২০ সালের মধ্যে তা ৫ বিলিয়ন টনে উন্নীত করা।
৪. ২০২০ সালের মধ্যে জিডিপির প্রতি ইউনিটে ১৫ থেকে ১৮ শতাংশ কার্বন-ডাই-অক্সাইড নিঃসরণ কমিয়ে আনা।
৫. শহরের দূষণ কমিয়ে বাতাসের গুণগতমান ৮০ শতাংশে ত্বরান্বিত করা। যা বর্তমানে ৭৬ দশমিক ৭ শতাংশ বিরাজ করছে।
৬. ২০২০ সালের মধ্যে ৫৮ গিগাওয়াট ক্ষমতাসম্পন্ন পারমাণবিক বিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্র স্থাপন করা। এখন ৩০ গিগাওয়াট ক্ষমতাসম্পন্ন বিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্রের কাজ চলছে। বর্তমানে ২৮ দশমিক ৩ গিগাওয়াট ক্ষমতাসম্পন্ন বিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্র থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদিত হচ্ছে।
৭. ৩০ হাজার কিলোমিটার (১৮ হাজার ৬০০ মাইল) দূরত্বের দ্রুতগতির রেলওয়ে সংযোগ স্থাপন এবং ৫০টির অধিক বেসামরিক বিমানবন্দর তৈরি করা।
৮. প্রতি বছর মাথাপিছু আয় ৬ দশমিক ৫ শতাংশের অধিক বৃদ্ধি করা। ২০১৪ সালের তুলনায় ২০১৫ সালে মাথাপিছু আয় বেড়েছে ৭ দশমিক ৪ শতাংশ।
৯. পাঁচ বছরের মধ্যে শহুরে এলাকায় ৫ কোটির অধিক কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করা।
১০. ২০২০ সালের মধ্যে পৌর এলাকার স্থায়ী বাসিন্দা চীনের মোট জনসংখ্যার ৬০ শতাংশে উত্তীর্ণ করা। যা বর্তমানে ৫৬ দশমিক ১ শতাংশ।







সানবিডি২৪ এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি ফলো করুন













