
পঞ্চম শ্রেণির এক ছাত্রীর গালে ও হাতে চুমু দেওয়ার অভিযোগে গাইবান্ধা জেলার একটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষককে সাময়িক বরখাস্ত করেছে রংপুর বিভাগীয় শিক্ষা অফিস।
গত সোমবার (২৯ ফেব্রুয়ারি,২০১৬ইং) দুপুর ১২টার দিকে ফুলছড়ি উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসে এ সংক্রান্ত একটি আদেশ এসে পৌঁছেছে।
বিষয়টি নিশ্চিত করে ফুলছড়ি উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার আব্দুলাহ হিল সাফি জানান, রংপুর বিভাগীয় শিক্ষা অফিস থেকে পাঠানো এক পত্রে উপজেলার উদাখালী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আয়নাল হককে (৪৫) সাময়িক বরখাস্ত ও বিদ্যালয়ের সব ধরণের কাজ থেকে বিরত থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
তিনি আরও জানান, পঞ্চম শ্রেণির এক ছাত্রীকে শ্রেণিকক্ষে জাপটে ধরে গালে ও হাতে চুমু দেওয়ার অভিযোগ উঠে। প্রাথমিক তদন্তে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেছে। আজ সোমবার থেকে সাময়িক বরখাস্তের আদেশটি কার্যকর হবে।
শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, গত বৃহস্পতিবার বিদ্যালয়ের ক্লাস চলাকালে শিক্ষার্থীদের সামনে প্রধান শিক্ষক আয়নাল হক ওই ছাত্রীকে জাপটে ধরে চুমু খান।
স্থানীয় সূত্র জানায়, উদাখালী গ্রামের বাসিন্দা জাহিদুল ইসলামের মেয়ে ওই বিদ্যালয়ের পঞ্চম শ্রেণিতে পড়ে। অন্যান্য দিনের মতো গত ২৫ ফেব্রুয়ারি সে বিদ্যালয়ে যায়। দুপুরের দিকে প্রধান শিক্ষক আয়নাল হক অসৎ উদ্দেশ্যে ওই ছাত্রীর হাতে, গালে চুমু দেন। এ সময় শিক্ষকের এ ধরনের আচরণে ও লজ্জায় অন্যান্য শিক্ষার্থীরা ক্লাস থেকে বের হয়ে যায়।
ছাত্রীকে চুমু দেওয়ার বিষয়টি ছড়িয়ে পড়লে এ ঘটনা জানতে পেরে শনিবার (২৭ ফেব্রুয়ারি, ২০১৬ইং) দুপুরে অভিভাবক ও স্থানীয় এলাকাবাসী আয়নাল হককে দ্রুত গ্রেফতার ও বিচারের দাবিতে বিক্ষোভ করেন। একপর্যায়ে বিক্ষুব্ধ জনতা বিদ্যালয়ে তালা লাগিয়ে দেয়। খবর পেয়ে ফুলছড়ি উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান হাবিবুর রহমান ও উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার আব্দুলাহিল সাফি ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করেন। এরই পরিপ্রেক্ষিতে অভিযুক্ত প্রধান শিক্ষক আয়নাল হককে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়।
সানবিডি/ঢাকা/এসএস