


আরেকটি ফাইনাল। আরেকটি হার। আরেকবার কান্না। এবারও এশিয়া কাপের শিরোপা জেতা হলো না বাংলাদেশের। রবিবার রাতে ফাইনালে মিরপুর শের-ই-বাংলা স্টেডিয়ামে ভারতের কাছে ৮ উইকেটে হেরেছে মাশরাফিরা।
এশিয়া কাপ টি২০ ক্রিকেটের ফাইনালে বাংলাদেশের দেওয়া ১২১ রানের লক্ষ্যে ব্যাট করতে নেমে শুরুতেই উইকেট হারিয়েছিল ভারত। ১.৩ ওভারে পেসার আল আমিন হোসেন ভারতের ওপেনার রোহিত শর্মাকে সৌম্যের ক্যাচে পরিণত করেন। কিন্তু এরপরই শুরু হয় ভারতীয়দের প্রতিরোধ। বিরাট কোহলি ও শিখর ধাওয়ান জুটি বেধে ম্যাচকে অনেকটাই নিজেদের দিকে নিয়ে যাচ্ছিলেন। আর তখনই শিখর ধাওয়ানকে সৌম্য সরকারের ক্যাচ বানিয়ে জুটি ভাঙ্গেন পেসার তাসকীন আহমেদ। তিনি ৪৪ বলে ৬০ রান করেছেন। ১৩ ওভারে ভারতের সংগ্রহ ২ উইকেটে ১০২ রান।
এর আগে নির্ধারিত ১৫ ওভারে ৫ উইকেট হারিয়ে ১২০ রান সংগ্রহ করেছে বাংলাদেশ। জিততে হলে ভারতকে ১২১ রান সংগ্রহ করতে হবে। বাংলাদেশের পক্ষে মাহমুদুল্লাহ ১৩ বলে ৩৩ রান ও সাব্বির রহমান ২৯ বলে ৩২ রানে অপরাজিত ছিলেন। মিরপুর শের-ই-বাংলা ক্রিকেট স্টেডিয়ামে রবিবার রাত সাড়ে ৯টায় ম্যাচটি শুরু হয়।
প্রথমে টসে হেরে ব্যাট করতে নেমে শুরুটা ভালই করেছিল স্বাগতিক বাংলাদেশ। বাংলাদেশের দুই ওপেনার তামিম ইকবাল ও সৌম্য সরকার দলকে এনে দিয়েছিলেন শুভসূচনা। কিন্তু চতুর্থ ওভারের শেষ বলে আউট হয়ে যান সৌম্য সরকার, নেহরার বলে পান্ডের ক্যাচে পরিণত হওয়ার আগে তিনি ১৪ রান করেছেন। পরে পঞ্চম ওভারের চতুর্থ বলে তামিম ইকবালও বুমরাহ’র এলবিডব্লিউ’র ফাঁদে পড়েন। তিনি করেছেন ১৩ রান।
তামিম-সৌম্যের বিদায়ের পর সাকিব আল হাসান ও সাব্বির রহমানের ব্যাটে দারুন খেলছিল বাংলাদেশ। কিন্তু দারুন খেলতে থাকতে থাকা অলরাউন্ডার সাকিব আল হাসান দশম ওভারের প্রথম বলে অশ্বিনের ডেলিভারিতে বুমরাহ’র ক্যাচে পরিণত হন। তিনি ১৬ বলে ২১ রান করেছেন। পরে ১১.৩ ওভারে রান আউট হয়ে যান মুশফিকুর রহিম, পরের বলেই শট খেলতে গিয়ে জাদেজার বলে কোহলির ক্যাচে পরিণত হন অধিনায়ক মাশরাফি।
মিরপুর শের-ই-বাংলা ক্রিকেট স্টেডিয়ামে রবিবার রাত সাড়ে ৯টায় ম্যাচটি শুরু হয়েছে। এ ম্যাচে দুটি পরিবর্তন এসেছে বাংলাদেশ দলে। দলে ফিরেছেন অলরাউন্ডার নাসির হোসেন, পেসার আবু হায়দার রনি। এছাড়া ইনজুরির শংকা কাটিয়ে দলে রয়েছেন বিশ্বসেরা অলরাউন্ডার সাকিব আল হাসান। আর দল থেকে বাদ পড়েছেন স্পিনার আরাফাত সানি ও ব্যাটসম্যান মোহাম্মদ মিঠুন। অন্যদিকে ভারতের একাদশে কোন পরিবর্তন আসেনি।
ম্যাচটি সন্ধ্যা ৭ টায় শুরু হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু এর আগেই ঝড়ো বৃষ্টি শুরু হলে খেলা শুরু হওয়া নিয়েই অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছিল। পরে মাঠ পর্যবেক্ষণ শেষে রাত সাড়ে ৯ টায় ম্যাচটি শুরু করার সিদ্ধান্ত হয়। তবে বিলম্বের কারণে ম্যাচের পরিধি কমিয়ে আনা হয়েছে। ২০ ওভারের খেলা এখন ১৫ ওভারে রুপ নিয়েছে।
এর আগে টুর্নামেন্টের গ্রুপ পর্বের লড়াইয়ে ভারতের কাছে হেরেছিল মাশরাফির বাংলাদেশ। কিন্তু এরপর আর কোন ম্যাচে হারেনি মাশরাফিরা। অন্যদিকে টুর্নামেন্টে এখনো অপরাজিত রয়েছে ভারত।
বাংলাদেশ ২০১২ সালে প্রথমবারের মত এশিয়া কাপের ফাইনাল খেলেছিল। রুদ্ধশ্বাস ফাইনালে বাংলাদেশ ২ রানে হেরেছিল পাকিস্তানের কাছে।