
বগুড়ার কাহালু থেকে নিখোঁজ তিন নারীকে ১১ দিন পর সিরাজগঞ্জের কাজীপুর থেকে উদ্ধার করেছে পুলিশ। তারা হলেন দুই জা মৌসুমি (২০) ও মাহমুদা বেগম (৩০) এবং মাহমুদার মেয়ে মনিকা (১৪)। স্বামীদের পরকীয়া আর সংসারের অশান্তির কারণে তিনজন একই রশিতে ঝুলে আত্মহত্যা করতে চেয়েছিলেন বলে পুলিশকে জানিয়েছেন তারা ।
জানা গেছে, দু’বছর পূর্বে পার্শ্ববর্তী কাহালু উপজেলার বাকরাপানাই গ্রামের শাহীন আলমের সঙ্গে নন্দীগ্রাম উপজেলার আমড়াগোহাইল গ্রামের আনছার আলীর মেয়ে মৌসুমী খাতুনের (২০) বিয়ে হয়।
ওই বাড়িতেই শাহীন আলমের ভাই মানিক মিয়ার সাথে গোড়াই গ্রামের আবুল কালামের মেয়ে মাহমুদা বেগমের (৩০) বিয়ে হয়। এদের মধ্যে শাহীন আলমের ১ ছেলে ও ১ মেয়ে সন্তান রয়েছে।
একপর্যায়ে শাহীন ও মানিক মিয়া একই গ্রামে পরকীয়ায় জড়িয়ে পড়লে দুই গৃহবধূ মৌসুমী ও মাহমুদা বাঁধা দেন। এ নিয়ে কথায় কথায় স্ত্রী ও মেয়ের উপর নির্যাতন করে দুই ভাই। নির্যাতন সইতে না পেরে চলতি বছরের ২৬ ফেব্রুয়ারি মৌসুমী, মাহমুদা বেগম ও তার মেয়ে কাহালু হাটপুকুর দাখিল মাদরাসার ৮ম শ্রেনীর ছাত্রী মনিকাকে নিয়ে বাড়ি থেকে পালিয়ে সিরাজগঞ্জ জেলার কাজীপুর উপজেলার পীরগাছা গ্রামের ভগ্নিপতি আলম হোসেনের বাড়িতে আশ্রয় নেন। কিন্তু সেখানে বেশি দিন থাকার সুযোগ না পেয়ে তারা এক সঙ্গে একই রশিতে আত্মহত্যার পরিকল্পনা করেন।
এই অবস্থায় গত ২৯ ফেব্রুয়ারি মৌসুমীর মা নন্দীগ্রাম থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি করলে পুলিশ তৎপর হয়ে ওঠে। এক পর্যায়ে রায়গঞ্জে তাদের নিকটাত্মীয় আলম হোসেনের ভাড়া বাসা থেকে ৭ মার্চ রাতে তিনজনকে উদ্ধার করে পুলিশ। নন্দীগ্রাম থানার ওসি হাসান শামীম ইকবাল তিন নারীকে উদ্ধারের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
সানবিডি/ঢাকা/রাআ