
দেশের প্রধান শেয়ারবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) মোবাইল ট্রেডিংয়ের যাত্রা শুরু। বুধবার সকালে এর উদ্বোধন করেন অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত।
বুধবার সকালে রাজধানীর বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে এর আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করা হয়।
ডিএসই জানায়, বিনিয়োগকারীরা মোবাইলে ট্রেড করতে চাইলে সিকিউরিটিজ হাউসগুলোর মাধ্যমে করতে হবে। রেজিস্ট্রেশনের মাধ্যমে একজন মোবাইল ট্রেডার তার লেনদেনের অর্ডার সম্পন্ন হয়েছে কি না, তা জানতে পারবেন। তবে লেনদেন করতে চাইলে প্রতিবার অর্ডার দেওয়ার ক্ষেত্রে বিনিয়োগকারীকে পাসওয়ার্ড দিতে হবে ।
ডিএসইর পরিচালক ওলিউল ইসলামের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (বিএসইসি) চেয়ারম্যান ড. এম খায়রুল হোসেন, বিএসইসির কমিশনার, ডিএসইর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
জানা গেছে, ডিএসই মোবাইলে মোট তিন ধরনের সংস্করণ থাকবে। এর মধ্যে একটি ব্রোকার হাউজগুলোর এবং বাকি দুটি বিনিয়োগকারীদের জন্য। যেসব বিনিয়োগকারী এ অ্যাপসের মাধ্যমে লেনদেনের আদেশ দিতে চান, তাদের জন্য অর্ডার ভার্সন নামে একটি সংস্করণ থাকবে; যারা দিনের লেনদেনের সবকিছু লাইভ দেখতে চান। কিন্তু লেনদেনের আদেশ সরাসরি দিতে চান না, তাদের জন্যও আরেক ধরনের সংস্করণ রয়েছে। আর ব্রোকারদের জন্য রাখা সংস্করণটির মাধ্যমে হাউজগুলো ডিলার হিসেবে থাকা শেয়ারের সর্বশেষ তথ্য দেখা ছাড়াও কেনাবেচার আদেশ দিতে পারবে।
‘ডিএসই মোবাইল’-এর মাধ্যমে যেকোনো স্থান থেকে শেয়ার ক্রয়-বিক্রয়ের আদেশ দিতে পারবেন বিনিয়োগকারীরা। তবে বিনিয়োগকারীরা মোবাইলে শেয়ার কেনাবেচার আদেশ দিতে পারলেও তা সংশ্লিষ্ট ব্রোকারেজ হাউজের টার্মিনাল হয়েই যাবে। এ ক্ষেত্রে বিনিয়োগকারীর শেয়ার কেনাবেচার আদেশ কার্যকর করবেন ব্রোকার হাউজের সংশ্লিষ্ট ট্রেডার। এমনকি ব্রোকার হাউজ কর্তৃপক্ষ চাইলে বিনিয়োগকারীর আদেশ বাতিলও করতে পারবেন।
মোবাইলে লেনদেন সুবিধা গ্রহণ করতে আগ্রহীদের অবশ্যই স্মার্টফোন ব্যবহার করতে হবে। সেই সঙ্গে আগে থেকে নিজ নিজ ব্রোকারেজ হাউজ বা মার্চেন্ট ব্যাংকের মাধ্যমে রেজিস্ট্রেশন সম্পন্ন করতে হবে। এ জন্য প্রথমে বিনিয়োগকারীকে ব্রোকারেজ হাউজে ‘ডিএসই মোবাইল’-এর কোনো একটি নির্দিষ্ট সংস্করণের জন্য আবেদন জানাতে হবে। এরপর ব্রোকারেজ হাউজ সংশ্লিষ্ট বিনিয়োগকারীকে ই-মেইলে মোবাইল অ্যাপসের লিঙ্ক পাঠাবে, যা ডাউনলোড করে লেনদেন সুবিধা চালু করতে পারবেন।
ডিএসই কর্তৃপক্ষ জানান, প্রাথমিকভাবে তিন মাস এ সুবিধা গ্রহণের জন্য বিনিয়োগকারীদের কোনো চার্জ বা ফি দিতে হবে না। পরে প্রতি মাসে নির্দিষ্ট হারে ফি দিতে হবে। প্রথম সপ্তাহে সর্বোচ্চ পাঁচ থেকে ছয় হাজার বিনিয়োগকারী মোবাইল ফোনের মাধ্যমে শেয়ার কেনাবেচার সুযোগ পাবেন।