স্বস্তির জয়ে ত্রাতা তামিম

আপডেট: ২০১৬-০৩-১০ ১১:৩২:৫৩


23_105042_0ধর্মশালায় এখন কনকনে শীত। কিন্তু নেদারল্যান্ডসের বিপক্ষে বিশ্বকাপ বাছাই পর্বে ‘এ’ গ্রুপে নিজেদের প্রথম ম্যাচে টাইগারদের সেই শীত উধাও! প্রচণ্ড শীতেও  ঘেমে একাকার! মাশরাফিদের ঘাম ঝড়িয়ে ছাড়লো নেদারল্যান্ডস। আর ঘাম ঝরানো এ ম্যাচ ৮ রানে জিতে শেষ পর্যন্ত স্বস্তিতে মাঠ ছাড়ল টাইগাররা। বাংলাদেশের পরের ম্যাচ ১১ মার্চ, হল্যান্ডের বিপক্ষে।

প্রথমে ব্যাট করে বাংলাদেশের ১৫৩ রানের মাঝারি পুঁজি।  এই রান নিয়ে জয় সম্ভব তো? এই প্রশ্ন ছিল প্রায় শেষ পর্যন্ত।  শেষ ৫ ওভারে প্রতিপক্ষের দরকার ৫৪ রান। হাতে ৩ উইকেট। এক পর্যায়ে ২০ বলে ৪০ । এরপর শেষ দুই ওভারে ২৬ এবং শেষ ওভারে ১৭। কখনও বাংলাদেশ ম্যাচে থেকেছে। কখনও নেদারল্যান্ডস। তবে শেষ হাসি মাশরাফিদেরই।

ধর্মশালার  উইকেট অনেকটাই ব্যাটিং বান্ধব। তাই ১৫৪ রান বড় কোন টার্গেট নয়। শুরুটাও দেখেশুনে করেছিল নেদারল্যান্ডস।  বিনা উইকটে ২০ রান তুলে ফেলে ডাচরা। তবে এরপরই আঘাত হানেন নিয়মিত উইকেট টেকার আল আমিন। ৯ রানে ব্যারিসিকে ফিরিয়ে কিছুটা স্বস্তি আনেন এ পেসার। ওপেনিং জুটি  ভাঙ্গার পর বাংলোদেশের চিন্তার কারণ হয়ে দাড়ায় দ্বিতীয় উইকেট জুটি।

23 (2)_105042_1যখন ২৯ রানে মাইবার্গকে নাসির ফেরান, তখন ডাচদের রান চলে গেছে ৫৩। বাংলাদেশের চিন্তা প্রশমিত করতে পারত দ্রুত ক’য়েকটি উইকেট। কিন্তু সেই জনিসিটাই হচ্ছিল না। কুপার যখন ১৫ বলে ২০ করে সাকিবের বলে ফিরলেন তখন নেদাল্যান্ডসের স্কোর ৭৭।

এরপর বাংলাদেশের জন্য চিন্তার কারণ হয়ে দাঁড়ান বোরেন-কুপার জুটি। এ জুটিতে ৩৫ রান তুলে বাংলাদেশকে আরও চাপে ফেলে দেন। ২৮ বলে ২৯ করে বোরেন ফিরলে কিছুটা স্বস্তিতে ফিরে টাইগাররা। তবে আসল স্বস্তি এনে দেন অধিনায়ক মাশরাফি, ১ রানে ফন ডার মারইউকে আউট করে।

শেষ ৩ ওভারে নেদারল্যান্ডসের দরকার ছিল ৩৯ রান। হাতে পাঁচ উইকেট থাকলেও, টেলএন্ডারদের পক্ষে কাজটা ছিল কঠিন। মানে ভাল করেই ম্যাচে ফিরে বাংলাদেশ। তবে ১৯তম ওভারে বুখারির ঝড়ো ব্যাটিং ফের চিন্তায় ফেলে দিয়েছিল মাশরাফিদের। কিন্তু ৫ বলে ১৪ করে বুখারি  রান আউট হলে শেষ ওভারে ডাচদের দরকার পড়ে ১৭। কিন্তু তাসকিন দেন মাত্র ৮ রান। ফলে ৮ রানে ম্যাচ জিতেত স্বস্তিতে মাঠ ছাড়ে টাইগাররা।

এর আগে টসে হেরে ব্যাট করতে নামা বাংলাদেশের শুরুটাই ছিল খারাপ।  প্রথম ওভারের পঞ্চম বলে ক্যাচ দিয়েও বেঁচে যান সৌম্য। তবে সুযোগ পেয়ে বেশিক্ষণ উইকেটে থাকতে পারেননি তিনি। চতুর্থ ওভারের প্রথম বলে উইকেটের পেছনে ক্যাচ দিয়ে ফেরেন  সৌম্য। করেন ১৩ বলে ১৫। তামিম ধীরে ধীরে প্রভাব বিস্তার করার চেষ্টা করেন। তাকে রেখে সাব্বির ফেরেন ব্যক্তিগত ১৫ রানে। তৃতীয় ব্যাটসম্যান হিসেবে অল্পতে ফিরে যান সাকিব আল হাসানও (৫)। এরপর রিয়াদ (১০) ভালো শুরুর ইঙ্গিত দিয়ে মিলিয়ে যান। মুশফিক (০) এসে দ্বিতীয় বলে ফিরলে বড় স্কোর গড়ার আশা ধূসর হতে থাকে টাইগারদের।

2_105042_3নাসিরকে নিয়ে তামিম দেখেশুনে খেলতে থাকেন। ১৮তম ওভারের চতু্র্থ বলে আকাশে বল তুলে ধরা পড়েন নাসির (৩)। অধিনায়ক এসে এক ছয়ে সাত করে ফেরেন। তখনো অপর প্রান্ত আগলে রাখেন তামিম।

শেষ ওভারের প্রথম বলে অফস্ট্যাম্পের উপরের বলে পুল করে ছয় মারেন। পরের বলে সিঙ্গেল। সানি এসে তৃতীয় বলটি ব্যাটে লাগাতে পারলেন না। চতুর্থ বলেরও নাগাল পেলেন না। নন-স্ট্রাইকে অপেক্ষায় তামিম। পঞ্চম বলে সানি সিঙ্গেলে গেলেন না। ছয়ই মেরে দিলেন। শেষ বলে হলো দুই, বাংলাদেশ ১৫৩। তামিম অপরাজিত ৮৩।

সানবিডি/ঢাকা/রাআ