জিম্বাবুয়ের কাছে ওয়ানডেতেও হারলো বাংলাদেশ

স্পোর্টস ডেস্ক আপডেট: ২০২২-০৮-০৭ ২১:৪৭:৪৩


২০১৩ সালের পর জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে টানা দুই ম্যাচে হারল বাংলাদেশ। আর এই হারের মধ্য দিয়ে টি-টোয়েন্টির পর ওয়ানডে সিরিজটিও খোয়ালো বাংলাদেশ। প্রথম ওয়ানডেতে সিকান্দার রাজা ও ইনোসেন্ট কাইয়ার সেঞ্চুরি এবং তাদের ১৯২ রানের জুটিতে হেরে গিয়েছিল বাংলাদেশ। এবার রাজা ও রেজিস চাকাভার সেঞ্চুরি ও তাদের ২০১ রানের জুটিতে এক ম্যাচ বাকি থাকতেই সিরিজ জিতে গেল জিম্বাবুয়ে।

বাংলাদেশের ২৯০ রান ৫ উইকেট ও ১৫ বল হাতে রেখে পেরিয়ে গেল স্বাগতিকরা।

আগের ম্যাচ থেকে উন্নতির ছাপ খুব একটা রাখতে পারেনি বাংলাদেশ। এই ম্যাচেও হাতছাড়া করেছে সুযোগ। বোলাররা ধরে রাখতে পারেননি লাইন ও লেংথ। এরই মাশুল দিতে হলো খর্ব শক্তির জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে হেরে।

টানা দ্বিতীয় সেঞ্চুরিতে ১১৭ রানে অপরাজিত থাকেন রাজা। তার ১২৭ বলের দারুণ ইনিংসটি গড়া চারটি ছক্কা ও আটটি চারে। আগের ম‍্যাচে ৪৩ রানে জীবন পেয়ে শেষ করে এসেছিলেন ম‍্যাচ। এবার ৪২ রানে জীবন পেয়ে সারলেন বাকিটা।

৬ রানে জীবন পেয়ে ঝড় তোলে আগেভাগেই ম‍্যাচ শেষ করে দেন অভিষিক্ত মুনিয়োঙ্গা। ১৬ বলে দুই করে ছক্কা ও চারে তিনি করেন ৩০ রান।

জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে তিন ম্যাচ ওয়ানডে সিরিজে নিজেদের টিকিয়ে রাখতে হলে হারারেতে আজ জিততেই হতো বাংলাদেশকে। তবে দ্বিতীয় ম্যাচে ২৯০ রানের লড়াকু সংগ্রহ তুলতে পারে বাংলাদেশ। প্রথম ম্যাচে যেখানে ৩০৩ রান তুলেও হার নিয়ে মাঠ ছাড়তে হয় বাংলাদেশকে।

সেই হিসেবে দ্বিতীয় ম্যাচে সংগ্রহ কমই হয়েছে বাংলাদেশের জন্য। তবে টাইগার বোলারদের দাপটে জিম্বাবুয়ের ব্যাটিং ইনিংসের শুরুটা দখল করে নেয় বাংলাদেশ। ২৯১ রানের লক্ষ্যে ব্যাটিং করতে নেমে জিম্বাবুয়ে ৪ উইকেট হারিয়ে তুলতে পেরেছিল মাত্র ৪৯ রান।

হাসান মাহমুদ ১৬ মাস পরে ওয়ানডে দলে ফিরেই প্রথম তিন ওভারেই ২ উইকেট তুলে নেয় জিম্বাবুয়ের। প্রথম ওভারে কাইতানোকে শূন্য রানে ফেরানোর পর গত ম্যাচের সেঞ্চুরিয়ান ইনোসেন্ট কাইয়াকে ৭ রানে ফেরান হাসান মাহমুদ। ১৬ মাস পর ওয়ানডে দলে ফিরেই প্রথম স্পেলে ৫ ওভারে ১ মেডেনে ১৪ রান দিয়ে ২ উইকেট শিকার করেছেন হাসান।

এই পেসারের পর টাইগারদের হয়ে উইকেট সংগ্রহ করেছেন স্পিনার মেহেদী মিরাজ ও তাইজুল ইসলাম। ব্যক্তিগত তৃতীয় ওভারে মিরাজ ওয়েসলি মাধবেরেকে ২ রানে এলবির ফাঁদে ফেলে ফেরান মিরাজ। এদিকে তাইজুল ফেরান অভিষিক্ত মারুমানিকে। জিম্বাবুইয়ান এই ওপেনার করেছেন ২৫ রান।

এর আগে টসে হেরে ব্যাট করতে নেমে টাইগার দুই ওপেনার দলকে উড়ন্ত সূচনা এনে দেন। প্রথম ১০ ওভারে ৬২ রান তোলে দুই ব্যাটসম্যান। এরমধ্যে অধিনায়ক তামিম ৪৪ বলে নিজের ফিফটি পূর্ণ করেন। যদিও পরের ওভারে তানাকা চিভাঙ্গার বলে ১০ চার ও ১ ছয়ে ৫০ রানের মাথায় আউট হয়ে ফেরেন।

তামিম ফেরার পরে দুর্ভাগ্যজনকভাবে রান আউট হন বিজয়ও। নাজমুল হোসেন শান্তর স্ট্রেইট ড্রাইভে বোলারের হাত ছুঁয়ে স্টাম্প ভেঙে গেলে ৩ চারে ২০ রানে আউট হন বিজয়। দ্রুত ২ উইকেট হারানো বাংলাদেশ তৃতীয় উইকেট জুটিতে যোগ করেন ৫০ রান। মুশফিকুর রহিম ২৫ রানে ফিরলে ভাঙে জুটিটি।

লিটনের চোটে সুযোগ পাওয়া শান্ত এদিন ৩৮ রান করে আউট হয়ে ফেরেন। দেড়শ রানের আগে ৪ উইকেট হারানো বাংলাদেশকে এরপর বড় স্কোর এনে দিতে সহায়তা করেন আফিফ ও মাহমুদউল্লাহ জুটি। দুইজনে পঞ্চম উইকেটে ৮১ রান যোগ করেন। আফিফ ৪১ রানে ফিরলে ভাঙে জুটিটি। ২২৯ রানে আফিফকে হারানোর পর একাই লড়ে যান মাহমুদউল্লাহ।

এরপর টাইগারদের পক্ষে মিরাজ ১৫ রান নেওয়া ছাড়া টেল এন্ডারের অন্য ব্যাটসম্যানরা খুব একটা সাহায্য করতে পারেনি। রিয়াদ শেষদিকে ৩টি করে চার ও ছয়ে ৮৪ বলে ৮০ রান করে দলকে ২৯০ রানের সংগ্রহ এনে দেন।

জিম্বাবুইয়ানদের পক্ষে সিকান্দার রাজা ৫৬ রানের বিনিময়ে ৩ উইকেট শিকার করেন। এছাড়াও ওয়েসলি মাধবেরে ৪০ রানে ২ উইকেট শিকার করেন।

এম জি