জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধির প্রভাব
বস্তাপ্রতি সিমেন্টের দাম বেড়েছে ২০–৫০ টাকা
নিজস্ব প্রতিবেদক প্রকাশ: ২০২২-০৮-০৯ ১৬:৩০:২৩

জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধির প্রভাব পড়তে শুরু করেছে বিভিন্ন পণ্যের দামে। গত শুক্রবার ডিজেল, কেরোসিন, অকটেন ও পেট্রলের দাম সর্বনিম্ন ৩৪ টাকা থেকে সর্বোচ্চ ৪৬ টাকা পর্যন্ত বাড়িয়েছে। আর তাতেই গত ৩ দিনে সিমেন্টের দাম বেড়েছে প্রতি বস্তায় ৪০ থেকে ৫০ টাকা। গত তিন দিনে সিমেন্ট খাতের বেশির ভাগ কোম্পানিই দাম বাড়িয়েছে। আর কেউ কেউ তেলের দাম বাড়ার আগে গত সপ্তাহেই দাম বাড়িয়েছিল। সিমেন্ট খাতের একাধিক কোম্পানির সঙ্গে কথা বলে এ তথ্য পাওয়া গেছে।
কোম্পানিসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বলছেন, ডলারের দাম বেড়ে যাওয়ায় কাঁচামাল আমদানিতে খরচ ২০ থেকে ২৫ শতাংশ বেড়েছে। তার সঙ্গে নতুন করে যুক্ত হয়েছে বাড়তি জ্বালানি খরচ। এ কারণে কোম্পানিগুলো ধীরে ধীরে দাম সমন্বয় করতে শুরু করেছে। ভবিষ্যতে আরও দাম সমন্বয় করতে হবে বলে জানান কোম্পানিসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা। একসঙ্গে বেশি দাম বাড়ালে হঠাৎ করে বিক্রি অনেক কমে যেতে পারে, এ শঙ্কায় ধীরে ধীরে দাম সমন্বয়ের পথে হাঁটছে কোম্পানিগুলো।
একাধিক কোম্পানির সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, খুচরা পর্যায়ে এখন ৫০ কেজির প্রতি বস্তা সিমেন্টের দাম কোম্পানিভেদে বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৫৪০ থেকে ৫৫০ টাকা। ১৫ দিন আগেও এ দাম ছিল ৪৯০ থেকে ৫০০ টাকা।
সিমেন্ট প্রস্তুতকারক সমিতির (বিসিএমএ) সভাপতি মো. আলমগীর কবির বলেন, গত ৩০ বছরের মধ্যে সিমেন্ট খাত এখন ভয়াবহ এক সংকটের মুখোমুখি। বিশ্ববাজারে কাঁচামাল, পণ্য পরিবহনে জাহাজভাড়া ও ডলারের মূল্যবৃদ্ধির সঙ্গে নতুন করে যুক্ত হয়েছে বাড়তি জ্বালানি খরচ। এত সব সংকটের মধ্যে পড়ে লোকসান কমাতে সিমেন্ট খাতের কোম্পানিগুলোর কেউ কেউ প্রতি বস্তায় ২০ থেকে ৫০ টাকা পর্যন্ত দাম বাড়িয়েছে। কারণ, লোকসান কাটাতে মূল্য সমন্বয়ের বিকল্প কোম্পানিগুলোর সামনে নেই।
সিমেন্ট খাতের কোম্পানিগুলোর সঙ্গে কথা বলে প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী বর্তমানে দেশে সচল সিমেন্ট কারখানা রয়েছে ৩৫টি। চলতি বছরের গত ৭ মাসের গড় হিসাবের ভিত্তিতে সিমেন্টের বাজারের ৮০ শতাংশই ১০ কোম্পানির দখলে। বাকি সব কোম্পানি মিলে বাজার অংশীদারত্ব ২০ শতাংশ।
একাধিক সিমেন্ট কোম্পানি সূত্রে প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী গত বছরের শেষে দেশে সিমেন্টের বাজার ছিল প্রায় ৩৫ হাজার কোটি টাকার। গত ৫ বছরের ব্যবধানে এ বাজারের আকার বেড়েছে প্রায় ১৫ হাজার কোটি টাকা। ২০১৬ সাল শেষে দেশের সিমেন্টের বাজার ছিল ২০ হাজার কোটি টাকার।
সিমেন্ট প্রস্তুতকারক সমিতির নেতারা জানান, সাম্প্রতিক সময়ে নানামুখী সংকটের কারণে সিমেন্টশিল্পে ক্রান্তিকাল দেখা দিয়েছে। এ কারণে সদ্য বিদায়ী ২০২১-২২ অর্থবছরে এ খাতে প্রবৃদ্ধি ছিল সোয়া ৭ শতাংশের মতো ঋণাত্মক। বৈশ্বিক ও অর্থনৈতিক চাপের কারণে সরকারি ও বেসরকারি উন্নয়নকাজ ১৫ থেকে ২০ শতাংশ কমে গেছে। তাতে সিমেন্টের বিক্রিও কমেছে।
সিমেন্টশিল্পের কাঁচামালের শতভাগই আমদানিনির্ভর। সিমেন্ট তৈরিতে পাঁচ ধরনের কাঁচামাল ব্যবহার করা হয়। কাঁচামাল আমদানির তথ্য দিয়ে সিমেন্ট উৎপাদনের তথ্য পাওয়া যায়। জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) তথ্য অনুযায়ী, গত ২০২১-২২ অর্থবছরে ৩ কোটি ৩৫ লাখ টন সিমেন্টের কাঁচামাল আমদানি হয়েছে। কাঁচামালের আমদানি কমলেও খরচ বেড়েছে প্রায় ১৭ শতাংশ। গত ২০২১-২২ অর্থবছরে সব মিলিয়ে ১৫৪ কোটি মার্কিন ডলারের কাঁচামাল আমদানি করা হয়েছে। দেশে সিমেন্ট উৎপাদনকারী ৪০টি প্রতিষ্ঠান (একই গ্রুপের একাধিক প্রতিষ্ঠানসহ) এ কাঁচামাল আমদানি করেছে। কোম্পানিভেদে কয়েকটি প্রতিষ্ঠানের কাঁচামাল আমদানি বাড়লেও বেশির ভাগ প্রতিষ্ঠানেরই আমদানি কমেছে।
এএ







সানবিডি২৪ এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি ফলো করুন













