দেশে চলমান অর্থনৈতিক সংকটের মধ্যেই জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধির প্রভাব পড়তে শুরু করেছে সব সেক্টরে। দ্রব্যমূল্য, বাসভাড়ার পাশাপাশি বেড়েছে রিকশাভাড়া, সিএনজি অটোরিকশা ভাড়াও। দ্রুত গন্তব্যে পৌঁছাতে মোটরসাইকেল ব্যবহার করেন রাজধানীর বড় একটি অংশের মানুষ। যাতায়াত খরচ বাঁচাতে বিকল্প হিসেবে বাইসাইকেলে ঝুঁকছেন অনেকে। এতে গত কয়েকদিনে বিক্রি বেড়েছে বাইসাইকেলের। রাজধানীর বাজার ঘুরে এ চিত্র দেখা যায়।
বাংলাদেশ সাইকেল মার্চেন্ট অ্যাসেম্বলিং অ্যান্ড ইমপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (বিবিএমএআইএ) তথ্যানুসারে, দেশে প্রতি বছর স্থানীয় বাজারে সাইকেলের চাহিদা ১২ লাখের কাছাকাছি। যার বাজারমূল্য তিন হাজার কোটি টাকা। এছাড়া দেশের বাইরে প্রচুর সাইকেল রপ্তানি হচ্ছে। গত অর্থবছরে প্রায় ৯ লাখ পিস সাইকেল রপ্তানি হয়েছে। বছরে রপ্তানি থেকে আয় হচ্ছে প্রায় ১০ কোটি ডলার।
জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধিতে বাইসাইকেলের চাহিদার বিষয়ে বিবিএমএআইএ সভাপতি সাইদুল ইসলাম মন্টি বলেন, গত কোরবানি ঈদ পর্যন্ত বাইসাইকেলের বিক্রি একদম কম ছিল। এখন সেটি পিকআপ করেছে। বিক্রি এখন ভালো। তবে জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধিতে বিক্রি কতটা বেড়েছে সেটা বুঝতে আরও কিছু সময় লাগবে।
তিনি বলেন, এসময় ডলারের দাম অস্বাভাবিক। কয়েক মাসে কাঁচামালের দামও বেড়েছে। বাইসাইকেলের উৎপাদন ও আমদানি উভয় খরচ বেড়েছে। সেজন্য বাজার স্থিতিশীল নয়। বোঝা যাচ্ছে না পরিস্থিতি কোনদিকে যাচ্ছে। অনেকে চাহিদা থাকলেও এলসি করতে পারছেন না। আবার অনেক ক্রেতার ইচ্ছে থাকলেও অর্থের অভাবে বাইসাইকেল কিনতে পারছেন না। সবার পরিস্থিতি নাজুক।
জানা যায়, ঢাকার বাইরে সারাদেশে প্রায় সাড়ে চার হাজার বাইসাইকেল বিক্রির খুচরা বিক্রেতা প্রতিষ্ঠান রয়েছে। বর্তমানে ঢাকা, চট্টগ্রাম, রাজশাহী ও রংপুর মিলে দেশের অন্তত ৭৫ আমদানিকারক বিদেশ থেকে সাইকেল আনছেন।
এছাড়া দেশে আরএফএল, মেঘনা, জার্মান বাংলা, আলিটা, করভোসহ আরও কয়েকটি প্রতিষ্ঠান তাদের ব্র্যান্ডের সাইকেল বিক্রি করছে। স্থানীয় বাজারের ৩০ শতাংশ জোগান দিচ্ছে এসব দেশি ব্র্যান্ড। যদিও ২০১০ সাল পর্যন্ত এ বাজারের পুরোটাই ছিল আমদানিনির্ভর। আবার দেশের চাহিদা মিটিয়ে এসব বাংলাদেশি প্রতিষ্ঠান বিভিন্ন দেশে বাইসাইকেল রপ্তানিও করছে।
এনজে