

দেশের অধিকাংশ ব্যাংকেরই এডি (অথরাইজড ডিলার) (আমদানি-রফতানি শাখা) শাখা থাকলেও সেসব শাখার সংখ্যা তুলনামূলক সীমিত। এবার একাধিক নতুন শাখায় বৈদেশিক মুদ্রা লেনদেনের অনুমতি চেয়ে বাংলাদেশ ব্যাংক বরাবর আবেদন করেছে ২৩টি ব্যাংক। চলমান ডলার সংকট মোকাবিলা ও মানি এক্সচেঞ্জের দৌরাত্ম্য কমাতে এডি শাখা বাড়ানোর গুরুত্ব তুলে ধরে এ আবেদন করেছে ব্যাংকগুলো।
রোববার (২১ আগস্ট) বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র মো. সিরাজুল ইসলাম গণমাধ্যমকে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
সম্প্রতি স্থানীয় বাজারে সৃষ্ট ডলার সংকট পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে বাংলাদেশ ব্যাংক দেশের ব্যাংকগুলোর কাছে এলাকভিত্তিক তালিকা চেয়েছে। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কাছে নতুন এডি শাখা নেওয়ার জন্য আবেদনের শেষ সময় ছিল আগস্টের ১৭ তারিখ পর্যন্ত। ওই সময়ের মধ্যে মোট ২৩টি ব্যাংক আবেদন করেছে। এসব ব্যাংকগুলোর শাখার পরিমাণ ৬৬৬টি বলে জানিয়েছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক সূত্র।
দেশের বাজারে বর্তমানে ডলার বেচাকেনার জন্য ২০০টি এডি শাখা রয়েছে। আর ২৩৫টি মানি এক্সচেঞ্জ প্রতিষ্ঠানের অনুমতি রয়েছে। তবে অবৈধ মানি এক্সচেঞ্জের সংখ্যা এর দ্বিগুণেরও বেশি। নগদ ডলার কেনাবেচার জন্য মানি চেঞ্জার প্রতিষ্ঠানের ওপরই বেশি নির্ভর করেন গ্রাহকেরা। বিশেষ করে প্রবাসী বাংলাদেশি, বিদেশি পর্যটকসহ সাধারণ গ্রাহকরা। আর ব্যাংক থেকে ডলার কিনতে অ্যানডোর্সমেন্ট বাধ্যতামূলক হলেও খোলা বাজারে সে বাধ্যবাধকতা নেই। ফলে মানি এক্সচেঞ্জগুলো নগদ ডলারের বাজারে একক নিয়ন্ত্রণ করছে।
চলতি বছরের শুরু থেকে দেশের বাজারে ইলেকট্রনিক ডলারের সঙ্গে নগদ ডলারের সংকট শুরু হয়েছে।
তীব্র সংকটে দেশে মার্কিন ডলারের দাম বাড়ছে, অন্যদিকে কমছে টাকার মান। খোলাবাজার বা কার্ব মার্কেটে গত ১০ আগস্ট নগদ এক ডলার কিনতে গ্রাহককে গুনতে হয়েছে ১১৮ থেকে ১২০ টাকা।
দেশে চাহিদার তুলনায় ডলার আসার পরিমাণ কম বলে মুদ্রাটির দাম বাড়ছে বলে মনে করছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক।
রোববার (২১ আগস্ট) খোলাবাজারে প্রতি ডলার বিক্রি হয়েছে ১০৮ থেকে ১১০ টাকায়। আন্তঃব্যাংক লেনদেনে ডলার বিক্রি হয়েছে ৯৫ টাকায়।
ব্যাংকগুলো বিদেশি এক্সচেঞ্জ হাউজগুলোর মাধ্যমে ১১২ টাকায় ডলার কিনেছে। ব্যবসায়ীদের এলসি নিষ্পত্তিতে ডলারের দাম রাখা হয়েছে ১০৬ টাকা।
এএ