‘বিশ্ব অর্থনীতি পুনরুদ্ধারে শঙ্কা চীন’

আপডেট: ২০১৬-০৩-১৪ ১৬:০০:২৯


China_Economic_108621849কোনোভাবেই ঘুরে দাঁড়াতে পারছে না চীনের অর্থনীতি। একদিকে, উৎপাদন কমছে; অন্যদিকে, প্রবৃদ্ধি। ফলে হোঁচট খাচ্ছে বৈশ্বিক প্রেক্ষাপটে। এতে করে বিশ্ব অর্থনীতির পুনরুদ্ধারেও শঙ্কা তৈরি হচ্ছে। রপ্তানি নির্ভর প্রবৃদ্ধির চেয়ে চীন এখন ভোক্তা ব্যয় ও বিনিয়োগের ওপর জোর দিচ্ছে।

ব্রিটেনের অর্থমন্ত্রী জর্জ অসবর্ন জানান, চীনের অর্থনৈতিক শ্লথগতি এখন ‘ধ্বংসাত্মক ককটেলে’ রূপ নিয়েছে; যা ২০০৮ সালের অর্থনৈতিক সংকট থেকে পুরো বিশ্বকে টেনে তুলতেও বাধা তৈরি করছে।

সম্প্রতি এক তথ্যে দেখা যায়, ফেব্রুয়ারি মাসে চীনের রপ্তানি গত বছরের একই সময়ের তুলনায় ২৫.৪ শতাংশ কমেছে। ২০০৯ সালের পর যা মাসিক হিসেবে সবচেয়ে বড় কোনো অঘটন। জানুয়ারিতেও এই রপ্তানি ১১.২ শতাংশ কমে যায়। বছরের প্রথম দুই মাসে দেশটিতে খুচরো বিক্রি ১০.২ শতাংশ বেড়েছে। যা ১০.৯ শতাংশ প্রত্যাশার চেয়ে কম।

ব্লুমবার্গকে কমার্সব্যাংকের এক অর্থনীতিবিদ জুয়ো হাও জানিয়েছেন, শিল্প ক্ষেত্রে সরবরাহ ও খুচরো ব্যয়- সামগ্রিক অবস্থায় আমাদেরকে উদ্বিগ্ন করে তুলেছে। এর ফলে সামগ্রিক প্রবৃদ্ধি এখন অন্ধকারে পতিত হচ্ছে।

তবে এ অবস্থার মুখেও চীন আগামী ৫ বছরে ৬.৫ শতাংশ গড় প্রবৃদ্ধির লক্ষ্যমাত্রা অর্জন করতে পারবে বলে জানিয়েছেন দেশটির কেন্দ্রীয় ব্যাংকের গভর্নর জুয়ো শিয়াওচুয়ান। এবং সেটা অর্থনীতিকে চাঙ্গা করার জন্য নতুন কোনো উদ্যোগ বাস্তবায়ন ছাড়াই সম্ভব হবে।

এদিকে, বৈশ্বিক অর্থনীতিক প্রবৃদ্ধির জন্য চীনের এ অবস্থাকে দায়ী করেছেন আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ) এর ব্যবস্থাপনা পরিচালক ক্রিশ্চিনে লাগার্দেও। বিশ্ব অর্থনীতি বর্তমানে লাইনচ্যুত হচ্ছে বলেও সতর্ক করেন তিনি।

আইএমএফের তথ্য মতে, চলতি বছর বৈশ্বিক অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি হবে ৩ দশমিক ৪ শতাংশ। এ ধারাবাহিকতায় ২০১৭ সালে বৈশ্বিক অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি হবে ৩ দশমিক ৬ শতাংশ।

সানবিডি/ঢাকা/আহো