
বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর ড. আতিউর রহমানের পদত্যাগে শেয়ারবাজারের সূচক উত্থানে ফিরেছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
আতিউর রহমান শেয়ারবাজার বিদ্বেসি দাবি করে তারা বলেন, ২০১০ সালের শেয়ারবাজারে মহাধসের নেপথ্যে তিনি ছিলেন। শেয়ারবাজারে ব্যাংকের বিনিয়োগ সীমিত করে দেওয়ায় এখনো বাজার অস্থিরতা বিরাজ করছে।
গভর্নরের পদত্যাগের দিন মঙ্গলবার
ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) ডিএসইর প্রধান সূচক ডিএসইএক্স ৮ পয়েন্ট বেড়ে ৪ হাজার ৪৭৫ পয়েন্টে অবস্থান করছে।
গতকালের তুলনায় ডিএসইতে শেয়ার লেনদেন বেড়েছে ৯৮ কোটি টাকার। আগের দিন ডিএসইতে লেনদেন হয়েছিল ৩৩৬ কোটি ৭৫ টাকার শেয়ার।
ডিএসইতে লেনদেন হয়েছে ৩১৫টি কোম্পানি ও মিউচ্যুয়াল ফান্ডের শেয়ার। এর মধ্যে দর বেড়েছে ১৭৬টির, কমেছে ৯০টির এবং অপরিবর্তিত রয়েছে ৪৯টির শেয়ার দর।
টাকার পরিমাণে ডিএসইতে লেনদেনের শীর্ষে থাকা দশ কোম্পানি- লংকাবাংলা ফিন্যান্স লিমিটেড, এএফসি অ্যাগ্রো বায়োটেক লিমিটেড, ওরিয়ন ইনফিউশন লিমিটেড, আমান ফিড, ওরিয়ন ফার্মা, বিডি থাই, অলটেক্স, পাওয়ার গ্রীড, ইফাদ অটোস এবং সামিট পাওয়ার লিমিটেড।
দিনশেষে অপর শেয়ারবাজার সিএসইর সার্বিক সূচক ২০ পয়েন্ট বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১৩ হাজার ৮০৭ পয়েন্টে। সিএসইতে মোট লেনদেন হয়েছে ২৪৫টি কোম্পানি ও মিউচ্যুয়াল ফান্ডের শেয়ার। এর মধ্যে দর বেড়েছে ১২২টির, কমেছে ৭৯টি এবং অপরিবর্তিত রয়েছে ৪৪টির।
মঙ্গলবার গভর্নরের পদত্যাগের পরে কথা হয় শেয়ারবাজারের কয়েকজন বিনিয়োগকারি ও ট্রেক হোল্ডারের সঙ্গে। তারা আতিউর রহমানের পদত্যাগকে শেয়ারবাজারের জন্য ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন।
এ প্রসঙ্গে ডিএসইর প্রাক্তন সভাপতি মো: রাকিবুর রহমান রাইজিংবিডিকে বলেন, 'ড, আতিউর রহমান আর এ্যান্ট্রি মার্কেট ম্যান। এই মানুষটি কখনোই শেয়ারমার্কেট উন্নয়নে ভূমিকা রাখেননি। কেন্দ্রিয় ব্যাংকের অসহযোগিতার মধ্য দিয়ে কখনই একটি সুস্থ শেয়ারবাজার গড়ে উঠতে পারে না।'
তার কথার রেশ না কাটতেই ডিএসইর আরেক প্রাক্তন সভাপতি শাকিল রিজভী রাইজিংবিডিকে বলেন, তিনি (আতিউর রহমান) শেয়ারবাজর বিদ্বেসী। তাই বিনিয়োগকারিরা নি:স্ব হয়েছেন। এখন যিনিই আসবেন তিনি বিনিয়োগকারিদের কথা চিন্তা করবেন। একইসঙ্গে শিল্পায়নে যে শেয়ারবাজার ভূমিকা রাখতে পারে সেটি বুঝবেন।
গভর্নরের পদত্যাগে শেয়ারবাজারে যেন প্রান ফিরে পেয়েছে বলে দাবি করেছেন সুমন হোসেন নামের এক বিনিয়োগকারি। তিনি রাইজিংবিডিকে বলেন, ব্যাংকের এক্সপোজার বিষয়ে আাতিউর রহমানের ভূমিকা সবসময়ই নেতিবাচক ছিল। তার কোন মুদ্রনীতিই শেয়ারবাজারবান্ধব ছিল না।
আরেক বিনিয়োগকারি বিউটি ব্মে বলেন, গভর্নরের পদত্যাগে শেয়ারবাজারে লেনদেন বাড়ছে, এটাই প্রমান করে যে, তার পদত্যাগ শেয়ারবাজারের জন্য ইতিবাচক।