

মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রী আ ক ম মোজাম্মেল হক বলেছেন, আজকে স্বজনদের যে আর্তনাদ শুনেছি আকাশ বাতাসও মনে হয় কেঁপে উঠেছে। জীবনকে বাজি রেখে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর বিরুদ্ধে যুদ্ধ করে দেশকে স্বাধীন করেছিলেন মুক্তিযোদ্ধারা। সেসব বীর মুক্তিযোদ্ধাকে ১৯৭৭ সালের অক্টোবর মাসে জিয়াউর রহমান ফাঁসি দিয়েছেন। দেশে গুম এবং হত্যা জিয়াই শুরু করেছিলেন।
মঙ্গলবার (৩০ আগস্ট) বেলা ১১টায় রাজধানীর কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারের সামনে গুমের শিকার ব্যক্তিদের স্মরণে ৩০ আগস্ট আন্তর্জাতিক গুম দিবস উপলক্ষে আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন মন্ত্রী।
মন্ত্রী বলেন, বিচার করার বিধিবিধান আছে। কিন্তু কোনো নিয়ম জিয়া মানেননি। নাম একজনের দেখে আরেকজনকে ফাঁসির কাষ্ঠে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। আগে গুম করা হয়েছে তারপর ফাঁসি কার্যকর করা হয়েছে। বিচার হয়েছে পরে ফাঁসি কার্যকর হয়ে গেছে আগেই। তাদের লাশটা পর্যন্ত পাওয়া যায়নি। আজকে স্বজনদের আর্তনাদ শুনতে হয়।
মন্ত্রী আরও বলেন, পৃথিবীর অনেক দেশে নজির রয়েছে মুক্তিযোদ্ধাদের অপরাধকে ক্ষমা করে দেওয়া হয়, আর এখানে তাদেরকে বিচার করার আগেই ফাঁসি দেওয়া হয়েছে। আজকে তাদের বিচারের জন্য দাবি উঠেছে। মরণোত্তর বিচার অবশ্যই প্রয়োজন। আইনের দায়িত্ব অপরাধীকে চিহ্নিত করে বিচার করা। আইনের শাসনের স্বার্থে প্রকৃত ঘটনা জনগণের জানার অধিকার রয়েছে। তাই আমি মনে করি এটা হওয়া প্রয়োজন। সেই সঙ্গে কমিশন গঠন করে সেই সময়কার ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত হওয়ারও প্রয়োজন রয়েছে। ১৫ আগস্টে যারা আত্মস্বীকৃত খুনি তাদেরকে জিয়া পুনর্বাসন করেছেন। যারা মুক্তিযোদ্ধাদের বিরোধিতাকারী তাদেরকে মন্ত্রী বানিয়েছেন। ধর্মভিত্তিক রাজনীতি করার সুযোগ করে দিয়েছিলেন। জিয়ার নানা কর্মকাণ্ড প্রমাণ করে তিনি পাকিস্তানিদের সহচর ছিলেন। মুক্তিযোদ্ধাদের পক্ষে ছিলেন না। তিনি ছিলেন নামধারী মুক্তিযোদ্ধা।
এম জি