
শুধু রাশিয়া থেকেই নয়, অন্য সূত্রগুলো থেকে জ্বালানি তেল আমদানির সম্ভাব্যতা এবং বাস্তবতা নিয়ে সরকার পরীক্ষা-নিরীক্ষা করছে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর জ্বালানি বিষয়ক উপদেষ্টা ড. তৌফিক-ই-ইলাহী চৌধুরী।
বুধবার (৩১ আগস্ট) প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে এ কথা বলেন তিনি।
তৌফিক-ই-ইলাহী চৌধুরী বলেন, ‘মার্কিন আন্ডার সেক্রেটারি জোসে ডব্লিউ ফার্নান্দেজ বললেন যে তেল, সার এবং ওষুধের ওপর কোনও নিষেধাজ্ঞা নেই। আমি তো সেখান থেকে ধরবো বিষয়টি। যদি নিষেধাজ্ঞা না থাকে তাহলে আমি অন্যান্য সূত্র...শুধু রাশিয়া না অন্যান্য সূত্র থেকে যদি আমরা আনতে চাই, আমি মনে করি এটা আমরা আনতে পারি। এটা পরীক্ষা করে দেখা হচ্ছে।’
কয়লারও দাম বাড়বে শঙ্কা প্রকাশ করে তিনি বলেন, ‘আমাদের দু’তিনটি প্রকল্প কয়লার এবছর এবং সামনের বছরে আসবে। সেগুলো আসলে আমাদের বিদ্যুতের ওপর যে চাপ সেটি কমে যাবে। আমাদের মোটামুটি আমাদের অর্থনীতিকে চালু রাখতে পারবো।’
এসময় তিনি জানান, বিদ্যুৎ পরিস্থিতি স্বাভাবিক হতে অন্তত দু’মাস সময় লাগতে পারে। তবে সেপ্টেম্বরের শেষের দিকে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হতে শুরু হবে।
জ্বালানি উপদেষ্টা বলেন, তেলের দাম এখন যে পাঁচ টাকা কমানো হয়েছে এই দাম যে থাকবে এটা কেউ বলতে পারে না। তেলের বাজার আন্তর্জাতিক বাজার যেরকম টাইট মার্কেট! বলা হয়েছিল যে, তেলের মূল্য আমরা সমন্বয় করবো; সেই ভিত্তিতে ৫ টাকা কমানো হয়েছে। কিন্তু কী দাম থাকবে বাজারে এটা অ্যানি বডি ক্যান গেজ।
জ্বালানি মজুদের সক্ষমতা বাড়াতে সরকারের উদ্যোগ সম্পর্কে অপর এক প্রশ্নের জবাবে তৌফিক-ই-ইলাহী চৌধুরী বলেন, আমাদের মজুত যেটা মোট ৪৫ দিনের মতো আছে। এটা দুই মাসের থাকা স্ট্যান্ডার্ড। আমাদের টার্গেট হলো সেটা ৬০ দিনের করা। সেজন্য আমাদের প্রক্রিয়া চলমান আছে। তবে ৪০-৪৫ দিনের মজুত যথেষ্ট বলেও মনে করেন তিনি।
বিশ্ববাজারে এলএনজি নিয়ে কাড়াকাড়ি হচ্ছে জানিয়ে তিনি বলেন, হোগের একটি জাহাজ ছিলো সিঙ্গাপুরে; এটা আমাদের এখানে কোনও একটা কোম্পানির নিয়ে আসার কথা ছিল। সেটা জার্মানি নিয়ে গেছে। এইচএনার্জির একটি এফএসআরইউ ছিল ইন্ডিয়ার ওখানে তারা কন্ট্রাক্ট ক্যান্সেল করে জার্মানিতে চলে গেছে। এখন ইউরোপে এমন কাড়াকাড়ি পড়েছে এফএসআরইউ ও এলএনজি নিয়ে। এলএনজি কন্ট্রাক্ট ২০২৬ এর আগে কেউ করছে না।
‘যদি আমাদের মার্কেটটা স্টাবিলাইজড করে এবং পৃথিবীতে যে ধরনের প্রাইসিং হওয়া দরকার তাই হয়; তাহলে আরও এফএসআরইউ আনবো। আমাদের দেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলে কোনও গ্যাস সরবরাহ নেই। সেখানে গ্যাস সরবরাহ করতে হলে ওদিক থেকে পায়রা সাইট থেকে একটা এলএনজি সোর্স করতে হবে। সেটা হয়তো ভোলায় যদি আমরা কিছু পাই, সেটাও সংযুক্ত হতে পারে। সেটার জন্য সমুদ্র এফএসআরইউ ছাড়া আমাদের আর কোনও সম্ভাবনা নেই।’
এম জি