
প্রায় ৫০ কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগে রাষ্ট্রায়ত্ত রূপালী ব্যাংকের চার ঋণখেলাপিকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। এর মধ্যে এনডি গ্রুপের চেয়ারম্যান মাহমুদা জামানও রয়েছেন। গ্রেফতার হওয়া অন্য আসামিরা হলেন মো. আলমগীর হোসেন, মাহবুব আলম ও এইচএম শহীদুল আলম মানিক। তারা সবাই এনডি গ্রুপের সঙ্গে সম্পৃক্ত বলে রূপালী ব্যাংক সূত্রে জানা গিয়েছে।
রাজধানীর খিলক্ষেত ও গাজীপুরের তুরাগ থানার পুলিশ সম্প্রতি আসামিদের গ্রেফতারের পর আদালতে সোপর্দ করে। আদালত তাদের জামিন নামঞ্জুর করে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছেন।
সংশ্লিষ্ট সূত্রমতে, রূপালী ব্যাংকের কারওয়ান বাজার টিসিবি ভবন করপোরেট শাখার গ্রাহক এনডি গ্রুপের কাছে ৪৯ কোটি ৪৫ লাখ টাকার ঋণ দীর্ঘদিন ধরে অনাদায়ী। ব্যাংকের পক্ষ থেকে বারবার যোগাযোগ করা হলেও গ্রাহকরা কোনো সাড়া দিচ্ছিলেন না। পরে অর্থঋণ আদালতে এনডি গ্রুপের চেয়ারম্যান, এমডিসহ ঋণের জামিনদারদের বিরুদ্ধে ব্যাংক কর্তৃপক্ষ মামলা দায়ের করে। আদালত গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করায় পুলিশ চার আসামিকে গ্রেফতার করেছে।
এ বিষয়ে রূপালী ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর বলেন, ইচ্ছাকৃত ঋণখেলাপিদের কাছ থেকে অর্থ আদায়ে আমরা কঠোর অবস্থান নিয়েছি। এনডি গ্রুপের চেয়ারম্যানসহ চার আসামিকে গ্রেফতারের মাধ্যমে খেলাপিদের কাছে একটি বার্তা যাবে। ব্যাংকের অন্য ঋণখেলাপিদের বিরুদ্ধেও আইনি প্রদক্ষেপ নেয়া হচ্ছে। খেলাপি ঋণ কমিয়ে আনার ক্ষেত্রে আমরা কোনো আপস করব না।
ঋণের নথি পর্যালোচনায় জানা যায়, এনডি গ্রুপের চেয়ারম্যান মাহমুদা জামান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক আহাদুজ্জামান মূলত গার্মেন্টস ব্যবসায়ী। এক দশক আগে রূপালী ব্যাংকের সাবেক এমডি এম ফরিদ উদ্দিনের মেয়াদে এসব ঋণ বিতরণ করা হয়। একাধিকবার পুনঃতফসিল করা হলেও এ ঋণ আদায় হয়নি। বর্তমানে রূপালী ব্যাংকে এনডি গ্রুপের ঋণের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৪৯ কোটি ৪৫ লাখ টাকায়।