
দেশের পুঁজিবাজারে মার্কেট মেকার (বাজার সৃষ্টিকারী) হিসেবে লাইসেন্স পেতে যাচ্ছে ঢাকা ও চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই-সিএসই) সদস্যভুক্ত ব্রোকারেজ হাউজ বা ট্রেকহোল্ডার গ্রিন ডেল্টা সিকিউরিটিজ লিমিটেড। প্রতিষ্ঠানটি মার্কেট মেকার লাইসেন্স প্রদানের বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিয়েছে পুঁজিবাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি)।
সম্প্রতি অনুষ্ঠিত বিএসইসির কমিশন সভায় এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে বিএসইসি সূত্রে জানা গেছে। এর আগে দেশের পুঁজিবাজারের ইতিহাসে প্রথমবারের মতো মার্কেট মেকার হিসেবে নিবন্ধন সনদ পায় ডিএসই ও সিএসইর সদস্যভুক্ত ব্রোকারেজ হাউজ বি রিচ লিমিটেড।
বিএসইসি সূত্রে জানা গেছে, মার্কেট মেকারের জন্য আবেদন জানায় গ্রিন ডেল্টা সিকিউরিটিজ। ওই আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে সার্বিক দিক বিবেচনা করে সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বাজার সৃষ্টিকারী) বিধিমালা, ২০১৭ এর অধীনে প্রতিষ্ঠানটিকে মার্কেট মেকারের নিবন্ধন সনদ প্রদান করার সিদ্ধান্ত নেয় বিএসইসি। এ বিষয়ে নিবন্ধন বিভাগকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য নির্দেশ দিয়েছে বিএসইসি।
তথ্য মতে, ২০২০ সালের শেষের দিকে মার্কেট মেকারের লাইসেন্সের জন্য ইনভেস্টমেন্ট করপোরেশন অব বাংলাদেশ (আইসিবি), ঢাকা ব্যাংক সিকিউরিটিজ লিমিটেড, কবির সিকিউরিটজ লিমিটেড ও বি রিচ লিমিটেড বিএসইসতে আবেদন করে। তবে মার্কেট মেকারের বিধিমালা অনুযায়ী স্টক এক্সচেঞ্জের অনুমোদন সাপেক্ষে মার্কেট মেকারের জন্য আবেদন করতে আইসিবি ও ঢাকা ব্যাংক সিকিউরিটিজকেপরামর্শ দিয়েছে কমিশন। অপরদিকে কবির সিকিউরিটিজ ও বি রিচ লিমিটেডের পরিশোধিত মূলধনে কিছুটা ঘাটতি থাকায় তাদেরকে ওই শর্ত পরিপালনের জন্য পরামর্শ দেয় বিএসইসি। পরবর্তীতে সকল শর্ত পরিপালন করায় বি রিচ লিমিটেডকে পুঁজিবাজারের ইতিহাসে প্রথম মার্কেট মেকারের নিবন্ধন সনদ প্রদান করা হয়। পরবর্তীতে শর্ত পরিপালন সাপেক্ষে গ্রিন ডেল্টা সিকিউরিটিজকে লাইসেন্স প্রদানের অনুমোদন দেওয়া হয়। বর্তমানে বিএসইসিতে আইসিবি সিকিউরিটিজ ট্রেডিং কোম্পানি লিমিটেড ও সোহেল সিকিউরিটিজ লিমিটেডের মার্কেট মেকারের আবেদন জমা রয়েছে। বিএসইসি প্রতিষ্ঠান ওই দুই প্রতিষ্ঠানের আবেদন যাচাই বাছাই করে দেখছে।
বাজর সৃষ্টিকারী বিধিমালায় উল্লেখ রয়েছে, কোনো মার্চেন্ট ব্যাংক, তফসিলি ব্যাংক বা আর্থিক প্রতিষ্ঠান, স্টক ডিলার বা স্টক ব্রোকার বিএসইসি থেকে এ সনদ পাওয়ার যোগ্য হবে। বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বাজার সৃষ্টিকারী) বিধিমালা, ২০১৭ অনুযায়ী, মার্কেট মেকার হওয়ার জন্য স্টক এক্সচেঞ্জের অনুমোদন সাপেক্ষে বিএসইসির কাছে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠান আবেদন করবে। একইসঙ্গে লাইসেন্সের জন্য আবেদন করতে হলে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের পরিশোধিত মূলধন কমপক্ষে ১০ কোটি টাকা থাকতে হবে। আর উল্লিখিত পরিমাণ টাকা পরিশোধিত মূলধন হিসেবে থাকলে যে কোনো মার্কেট মেকার একটি অনুমোদিত সিকিউরিটিজ প্ররিচালনার জন্য নিয়োজিত থাকতে পারবে। নিবন্ধন পাওয়া বাজার সৃষ্টিকারীরা সর্বোচ্চ সততা, বিশ্বস্ততা, দক্ষতা ও নিষ্ঠার সঙ্গে বাজার কার্যক্রম পরিচালনা করবে। প্রত্যেকে এক বছরের জন্য সনদ পাবে এবং তাদের সব হিসাব ১০ বছরের জন্য সংরক্ষণ করতে হবে। অনুমোদিত বাজার সৃষ্টিকারী সিকিউরিটির বা শেয়ারের তারল্য ও উপযুক্ত মূল্য নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেবে এবং বাজারের আচরণের ওপর তাদের ভূমিকা নির্ধারণ করবে।
এ বিষয়ে বিএসইসির নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র মোহাম্মদ রেজাউল করিম বলেন, ‘সম্প্রতি গ্রিন ডেল্টা সিকিউরিটিজ লিমিটেডকে মার্কেট মেকার নিবন্ধন সনদ প্রদানের সিদ্ধান্ত নিয়েছে বিএসইসি। এখনও প্রতিষ্ঠানটিকে লাইসেন্স প্রদান করা হয়নি। এছাড়া আরো দুইটি প্রতিষ্ঠানের মার্কেট মেকারের আবেদন জমা পড়েছে, যা যাচাই-বাছাইয়ের কাজ চলছে।’
এদিকে গ্রিন ডেল্টা সিকিউরিটিজের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) ওয়াফি শফিক মিনহাজ খান বলেন, ‘মার্কেট মেকারের লাইসেন্স এখনও ফরমালি হাতে পাইনি। কিন্তু বিএসইসি থেকে একটি কনফারমেশন চিঠি এসেছে। এক্সচেঞ্জ ট্রেডেট ফান্ডের (ইটিএফ) সঙ্গে মার্কেট মেকারের কার্যক্রম চালু করার ইচ্ছে রয়েছে। আমরা এখন ইটিএফকে টার্গেট করে কাজ করছি। যেহেতু ইটিএফ মার্কেটে নতুন একটি ফ্লেবার নিয়ে আসবে, সেহেতু সেটার সঙ্গে কাজ করা যথোপযুক্ত বলে মনে করি। এ বছরের শেষের দিকে অথবা আগামী বছরের প্রথম দিকে আমরা মার্কেট মেকারের কার্যক্রম শুরু হতে পারে।’
পুঁজিবাজারের সব খবর পেতে জয়েন করুন
Sunbd News–ক্যাপিটাল নিউজ–ক্যাপিটাল ভিউজ–স্টক নিউজ–শেয়ারবাজারের খবরা-খবর
এএ