
দেশে ২৬ হাজার ১৯৩টি বেসরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় জাতীয়করণ হলেও এখনো ১৪ হাজার শিক্ষকের চাকরি জাতীয়করণ হয়নি। আমলাতান্ত্রিক জটিলতায় আটকে গেছে সেই প্রক্রিয়া। ফলে বেতন নিয়ে বিড়ম্বনায় পড়েছেন এসব শিক্ষক। মন্ত্রণালয় বলছে, এসব শিক্ষকের চাকরি জাতীয়করণের প্রক্রিয়া চলছে। তৈরি হচ্ছে পদ সৃষ্টির সারাংশ।
প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সচিব হুমায়ুন খালিদ এ বিষয়ে বলেন, “১৪ হাজার শিক্ষকের চাকরি জাতীয়করণ হয়নি তা নয়। আমরা এ জন্য অর্থ মন্ত্রলালয়ে চিঠি দিযেছি। জনপ্রশাসন ও অর্থ মন্ত্রণালয়ের সম্মতি মিললেও দ্বিতীয় ধাপের শিক্ষকদের পদ সৃষ্টির সারাংশ তৈরি হচ্ছে। এগুলো হলে আর সমস্যা থাকবে না।”
প্রথম ধাপের ২২ হাজার ৯৫৬টি বেসরকারি রেজিস্টার্ড প্রাথমিক বিদ্যালয়ের জাতীয়করণের গেজেট প্রকাশিত হয় ২০১৩ সালের ফেব্রুয়ারিতে। এসব বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের চাকরি জাতীয়করণ করা হয় একই বছরের মে মাসে।
২০১৩ সালের নভেম্বরে দ্বিতীয় ধাপে দুই হাজার ২৫২টি ও ২০১৫ সালের জুলাইয়ে তৃতীয় ধাপে ৫৫৭টি স্কুল জাতীয়করণ করা হয়। কিন্তু এসব স্কুলের প্রায় ১৪ হাজার শিক্ষকের চাকরি জাতীয়করণ হয়নি এখনো।
প্রথম ধাপের শিক্ষকদের চাকরি সহজেই সরকারি হওয়ার পর দ্বিতীয় ও তৃতীয় ধাপের শিক্ষকদের চাকরি জাতীয়করণে কেন জটিলতা সৃষ্টি হচ্ছে, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।
প্রধানমন্ত্রীর ঘোষণার মধ্য দিয়ে এসব বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের মনে আশার সঞ্চার হয়েছে ঠিক, কিন্তু আমলাতান্ত্রিক জটিলতা তাদের বিড়ম্বনায়ও ফেলছে। আগে বেসরকারি স্কুল থেকে সামান্য হলেও বেতন পাওয়া যেত। এখন স্কুল জাতীয়করণের পর সেই বেতনও বন্ধ। চাকরি জাতীয়করণ না হওয়া পর্যন্ত এই ভোগান্তি দূর হবে না।
এদিকে প্রথম ধাপের ২২ হাজার ৯৫৬টি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের জাতীয়করণের গেজেট প্রকাশিত শিক্ষকদের মধ্যে যারা ২০১৩ ও ১৪ সালে অবসরে গিয়েছেন, তারা পড়েছেন বিপাকে। অবসর ভাতা পাচ্ছেন না তারা।
সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়েরিএকজন শিক্ষক জানান, অবসরে যাওয়ার কারণে উপজেলা হিসাবরক্ষণ কর্মকর্তা তার বেতন আটক রেখেছেন। ছয় মাস হলো বেতন-ভাতা পাচ্ছেন না তিনি।
সানবিডি/ঢাকা/আহো