বিদেশে ক্রেডিট লাইন কমায় বিপাকে দেশি ব্যাংক
নিজস্ব প্রতিবেদক প্রকাশ: ২০২২-১০-০৫ ১১:১৭:২৯

দেশে বৈদেশিক মুদ্রা আয়ের তুলনায় ব্যয় বেড়ে যাওয়ায় এমনিতেই সংকট চলছে। বাজার সামলাতে প্রতিনিয়ত ডলার বিক্রির ফলে কমছে রিজার্ভ। এ অবস্থার মধ্যে বাংলাদেশি ব্যাংকগুলোর ঋণসীমা বা ক্রেডিট লাইন কমিয়ে দিয়েছে অনেক বিদেশি ব্যাংক। এতে আমদানি দায় পরিশোধে বিপাকে পড়েছে দেশের বিভিন্ন ব্যাংক। এ পরিস্থিতিতে ১০টি বিদেশি ব্যাংকের প্রতিনিধিদের সঙ্গে বৈঠক করেছেন গভর্নর আব্দুর রউফ তালুকদার।
এ ব্যাপারে জানা গেছে, মঙ্গলবার বাংলাদেশ ব্যাংকের সভাকক্ষে এ বৈঠকে বিদেশি মাশরেক ব্যাংক, স্ট্যান্ডার্ড চার্টার্ড, কমার্জ ব্যাংক এজি, জেপি মরগান, আইসিআইসিআই ব্যাংক, ডেভেলপমেন্ট ব্যাংক সিঙ্গাপুর, ডেটাচ ব্যাংক, এইচএসবিসি, সিটিব্যাংক এনএ এবং দোহা ব্যাংকের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন। এ ছাড়া ব্যাংকের প্রধান নির্বাহীদের সংগঠন এবিবির চেয়ারম্যান ও ব্র্যাক ব্যাংকের এমডি সেলিম আর এফ হোসেন, বৈদেশিক মুদ্রা লেনদেনকারী ব্যাংকের সংগঠন বাফেদার চেয়ারম্যান ও সোনালী ব্যাংকের এমডি আফজাল করিম বৈঠকে অংশ নেন। বাংলাদেশ ব্যাংকের বৈদেশিক মুদ্রা বিনিয়োগ, ফরেক্স রিজার্ভ অ্যান্ড ট্রেজারি ম্যানেজমেন্ট ও বৈদেশিক মুদ্রানীতি বিভাগের বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তারাও উপস্থিত ছিলেন।
বেসরকারি একটি ব্যাংকের একজন ব্যবস্থাপনা পরিচালক বলেন, ক্রেডিট লাইন কমানোর ফলে ডলারের সংস্থান না করে আমদানি এলসি খোলা যাচ্ছে না। এর প্রভাবে দেশের বাজারে ডলার সংকট কাটছে না। বিদেশি ব্যাংকগুলো ঋণ কমিয়ে দেওয়ায় বাড়তি চাপ তৈরি হয়েছে। বাংলাদেশে ব্যাংক তাদের প্রতিনিধিদের সঙ্গে বৈঠক করার ফলে পরিস্থিতির উন্নতি প্রত্যাশা করছেন তাঁরা।
জানা গেছে, বৈঠকে বাংলাদেশ ব্যাংকের পক্ষ থেকে বিভিন্ন বিদেশি ব্যাকের ঋণ পরিস্থিতির একটি তুলনামূলক চিত্র তুলে ধরে সমস্যা সমাধানের অনুরোধ জানানো হয়। চলতি বছরের জুলাই, আগস্ট ও সেপ্টেম্বরের ব্যাংকভিত্তিক ঋণের তথ্য তুলে ধরা হয়।
কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, বাংলাদেশি ব্যাংকগুলোর সবচেয়ে বেশি ঋণ ছিল মাশরেক ব্যাংকে। গত জুলাইয়ে ব্যাংকটিতে ঋণ ছিল ৩৪ কোটি ডলার। আগস্টে তা কমিয়ে ২৫ কোটি ডলারে নামানো হয়। সেপ্টেম্বরে আরও কমিয়ে নামানো হয় ৮ কোটি ডলারে। আইসিআইসিআই ব্যাংকে জুলাইয়ে ছিল ৯ কোটি ৮১ লাখ ডলার। আগস্টে কমে ৩ কোটি ৭৯ লাখ এবং সেপ্টেম্বরে ৩ কোটি ৮৮ লাখ ডলারে নেমেছে। ডেভেলপমেন্ট ব্যাংক সিঙ্গাপুরের জুলাইয়ে ১১ কোটি ৬০ লাখ ডলার থেকে বেড়ে আগস্টে ১৩ কোটি ৬০ লাখ ডলার হয়। তবে সেপ্টেম্বরে তা ১০ কোটি ডলারে নেমেছে। স্ট্যান্ডার্ড চার্টার্ড ব্যাংকের জুলাইয়ে ছিল ১৪ কোটি ৭৭ লাখ ডলার। আগস্টে তা ১৪ কোটি ৩২ লাখ এবং সেপ্টেম্বরে ১৪ কোটি ১৭ লাখ ডলারে নেমেছে। সিটিব্যাংক এনএতে জুলাইয়ের ৫৬ লাখ ডলার থেকে বেড়ে আগস্টে ১ কোটি ৮৮ লাখ ডলার হয়। তবে সেপ্টেম্বরে আবার ৬০ লাখ ডলারে নেমেছে।
অবশ্য সব ব্যাংকই ঋণমীমা কমায়নি। এইচএসবিসি ব্যাংকের ঋণসীমা জুলাইয়ে ৪ কোটি ৬০ লাখ ডলার এবং ২৭ লাখ ইউরো ছিল। আগস্টে ডলারের ঋণ বেড়ে ৫ কোটি ১৮ লাখ ডলার হলেও ইউরোতে ২ লাখ ৮০ হাজারে নামে। আর সেপ্টেম্বরে ডলারে আরও বেড়ে ৮ কোটি ৭০ লাখ এবং ইউরোতে ৩৫ লাখ হয়েছে। কমার্জ ব্যাংক এজির জুলাইয়ে ৫ কোটি ৬০ লাখ ডলার এবং ৭৬ লাখ ইউরো ঋণ ছিল। আগস্টে ডলারের ঋণ সামান্য বেড়ে ৬ কোটি ৮৮ লাখ ডলার হয়। তবে ইউরোর ঋণ কমে ৪২ লাখ ডলারে নামে। সেপ্টেম্বরে ডলারের ঋণ কমে ৬ কোটি ৪৮ লাখ ডলার এবং ৫৯ লাখ ইউরোতে নামে। বৈঠকে ডেভেলপমেন্ট ব্যাংক এজি ও জেপি মর্গান ব্যাংকের ঋণের তথ্য বাংলাদেশ ব্যাংকের নথিতে উল্লেখ করা হয়নি।
ব্যাংকাররা জানান, বৈশ্বিক সংকটের এ সময়ে পরিশোধের ঝুঁকি বিবেচনায় বিশ্বব্যাপী ঋণসীমা কমিয়েছে বেশিরভাগ ব্যাংক। তবে বাংলাদেশের ক্ষেত্রে কিছুটা দ্রুত ঘটেছে। এর প্রধান কারণ, সাম্প্রতিক সময়ে কিছু ব্যাংক যথাসময়ে বিদেশি ব্যাংকের ঋণ পরিশোধ করতে পারেনি। আবার ডলার বাজার নিয়ন্ত্রণের জন্য কেন্দ্রীয় ব্যাংক থেকে একেক সময় একেক সিদ্ধান্ত চাপিয়ে দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি দেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ ধারাবাহিকভাবে কমছে। আবার রিজার্ভের যে তথ্য বাংলাদেশ ব্যাংক প্রকাশ করছে, আইএমএফের হিসাবে সে তুলনায় অন্তত ৭ বিলিয়ন ডলার কম। অন্যদিকে, ডলারে বেশি মুনাফা করায় তিন দফায় ১৩টি ব্যাংকের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার উদ্যোগের পর বিদেশি ব্যাংকগুলোর কাছে একটা খারাপ বার্তা গেছে। ফলে তারা বাংলাদেশে ঋণের ক্ষেত্রে ঝুঁকি কমিয়ে আনতে চাচ্ছে।
এনজে







সানবিডি২৪ এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি ফলো করুন













