
কেন্দ্র দখল, জাল ভোটসহ নানা অনিয়ম আর সহিংসতার মধ্য দিয়ে শেষ হয়েছে প্রথম ধাপে ৩৪টি জেলার ৭১৭ ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) নির্বাচনের ভোট। এখন চলছে গণনা।
মঙ্গলবার সকাল ৮টা থেকে বিকাল ৪টা পর্যন্ত একটানা প্রথমবারের মতো দলীয় প্রতীকে ভোট অনুষ্ঠিত হয়। সন্ধ্যা থেকে পর্যায়ক্রমে রাতের মধ্যেই সব ইউপির বেসরকারি ফলাফল পাওয়া যাবে।
এই নির্বাচনে অনিয়মের অভিযোগ এনে বিএনপির ২৭ চেয়ারম্যান প্রার্থীসহ অন্তত ৩৪ জন চেয়ারম্যান প্রার্থী ভোট বর্জন করেছেন। তাদের মধ্যে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের দু'জন, জাতীয় পার্টির একজন এবং স্বতন্ত্র চার প্রার্থী রয়েছেন।
ভোটে কেন্দ্র দখল, ভোটারদের ভোটদানে বাধা আর বিএনপি, আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী ও স্বতন্ত্র প্রার্থীদের এজেন্টদের কেন্দ্র থেকে বের করে দেয়ার ঘটনায় অন্তত ৪০টি কেন্দ্রের ভোট গ্রহণ বন্ধ করতে বাধ্য হওয়ার কথা স্বীকার করেছে নির্বাচন কমিশন।
খুলনা, বরিশাল, চট্টগ্রাম বিভাগের অনেক এলাকায় সংঘর্ষ, কেন্দ্র দখল, ব্যালট ছিনতাই হয়েছে। সবচেয়ে বেশি সহিংসতার ঘটনা ঘটেছে ঝালকাঠিতে। এতে এক ব্যক্তি নিহত হয়েছেন। এর আগে সোমবার পর্যন্ত নির্বাচনী সহিংসতায় ১১ জনের প্রাণহানি ও প্রায় ১ হাজার মানুষ আহত হয়।
ইসির নির্বাচন ব্যবস্থাপনা ও সমন্বয় শাখার সহকারী সচিব আশফাকুর রহমান সাংবাদিকদের জানান, সহিংসতার কারণে অন্তত ৪০টি কেন্দ্রে ভোট গ্রহণ সাময়িক বন্ধ করা হয়। তবে পূর্ণাঙ্গভাবে কোনো ইউপির ভোট স্থগিত করা হয়নি। বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব ও মুখপাত্র রুহুল কবির রিজভী আহমেদের দাবি, ইউয়িন পরিষদ নির্বাচনে ভোটকেন্দ্রগুলো থেকে বিএনপি প্রার্থীর এজেন্টদের বের করে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ প্রার্থীরা জোর করে ব্যালট পেপারে সিল মেরেছে।
তবে আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ডা. দীপু মনির দাবি, সারা দেশে শান্তিপূর্ণভাবে উৎসবমুখর পরিবেশে ইউপি নির্বাচনের ভোট অনুষ্ঠিত হয়েছে। তার যুক্তি, সারা দেশে ৬ হাজার ৪৭১টি ভোট কেন্দ্রের মধ্যে মাত্র ১৬টি কেন্দ্রে ভোট গ্রহণ সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, যা সংখ্যার হিসেবে শতকরা দশমিক ২৪ ভাগ। অর্থাৎ এক ভাগ না, অর্ধেক ভাগ না, সোয়া ভাগ বা তারও কম।
এদিকে প্রথম ধাপের ইউপি নির্বাচন পর্যবেক্ষণ করে সার্বিক পরিস্থিতি নিয়ে সন্তুষ্টি প্রকাশ করেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) কাজী রকিবউদ্দীন আহমদসহ চার কমিশনার সকাল থেকেই বিভাগভিত্তিক ইউপি ভোটের খোঁজ-খবর নেন।
নির্বাচন কমিশনার মো. আবু হাফিজ বলেন,ভোটের আগে প্রচারণাকে কেন্দ্র করে যেমন শংকার কথা বলা হয়েছে, আসলে ততটা হয়নি। তিনি বলেন, সাতক্ষীরা, বরিশাল, নোয়াখালী ও চট্টগ্রামের কিছু কিছু জায়গা ছাড়া ভোট সুষ্ঠু হচ্ছে। তৃণমূলের এ নির্বাচন সবাই চায়। ভোটারদের উপস্থিতি ভালো। আশা করি, ৬০ শতাংশের ওপরে ভোট পড়বে।
উল্লেখ্য, প্রথম দফায় ৭৩০টি ইউপিতে ভোট হবে। এর মধ্যে আজ ৭১৭টি ইউপিতে ভোট অনুষ্ঠিত হল। আগামী ২৩ মার্চ টাঙ্গাইলের নাগরপুর উপজেলার ১১টি ও ২৭ মার্চ টেকনাফের দুটিতে ভোট হবে। ইসির দেয়া তথ্য অনুযায়ী, ইউপি নির্বাচনে ভোটের আগেই আওয়ামী লীগ এগিয়ে রয়েছে। দলটির অন্তত ৫৪ জন চেয়ারম্যান বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হয়েছেন। বিএনপির কেউই বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হননি। এমনকি ১২১টি ইউপিতে বিএনপির কোনো প্রার্থীও নেই।
ইসির পরিসংখ্যান অনুযায়ী, প্রথম ধাপের ৭৩৪ ইউপিতে সবমিলিয়ে ৩৬ হাজার ৪৫৬ জন প্রার্থী রয়েছেন। এর মধ্যে ৩ হাজার ৩৪ জন চেয়ারম্যান, ২৫ হাজার ৮৪৭ জন সাধারণ সদস্য ও ৭ হাজার ৫৭৫ জন সংরক্ষিত সদস্য প্রার্থী রয়েছেন। একটি বাদে সবকটিতে আওয়ামী লীগের প্রার্থী রয়েছে। বিএনপির প্রার্থী রয়েছে ৬১৩টিতে। স্বতন্ত্র প্রার্থী রয়েছেন ১ হাজার ২৪৬ জন। এর বড় অংশ আওয়ামী লীগ ও বিএনপির বিদ্রোহী প্রার্থী এবং জামায়াতের প্রার্থী।
সানবিডি/ঢাকা/আহো