
‘অর্জনে গৌরবে সতেরো’ স্লোগানকে সামনে রেখে বর্ণাঢ্য আয়োজনের মধ্য দিয়ে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় দিবস-২০২২ উদযাপিত হয়েছে। এর মধ্যে দিয়ে সতেরো বছর শেষ করে আঠারো বছরে পদার্পণ করলো বিশ্ববিদ্যালয়টি।
বৃহস্পতিবার (২০ অক্টোবর) জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় দিবস-২০২২ তথা ১৭তম প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী উদযাপিত হয়। সকাল ৯টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য কবুতর ও বেলুন উড়িয়ে অনুষ্ঠান উদ্বোধন করেন।
দিনব্যাপী অনুষ্ঠানসমূহের মধ্যে ছিল আনন্দ র্যালি, বার্ষিক চারুকলা প্রদর্শনী, শিক্ষা উপকরণ প্রদর্শনী, নাটক পরিবেশনা, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, প্রকাশনা উৎসব, মঞ্চনাটক ছাড়াও বিভিন্ন ব্যান্ডদলের অংশগ্রহণে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান।
শিক্ষা ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের উদ্যোগে পোগোজ ল্যাবরেটরি স্কুল অ্যান্ড কলেজে শিক্ষা উপকরণ প্রদর্শনী ২০২২ এর উদ্বোধন করেন উপাচার্য অধ্যোপক ড. মো. ইমদাদুল হক।
বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা জানান, আমাদের প্রাণের স্পন্দন এই জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়। বিশ্ববিদ্যালয় দিবসের আয়োজনে আমরা খুবই সন্তুষ্ট। সবাই মন খুলে আনন্দ করতে পেরেছে। আঠারো বছরের নব যৌবনে আমাদের জবি নিজেকে উত্তরোত্তর ছাড়িয়ে যাবে।
জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়েরউপাচার্য অধ্যাপক ড .মো. ইমদাদুল হক বলেন, এই অনুষ্ঠানটি ছিল একটি সময়োপযোগী উদ্যোগ। এতে শিক্ষার্থীরা জড়তা কাটিয়ে পড়াশোনায় মনোযোগ দিতে পারবে।
দেশের অন্যতম শ্রেষ্ঠ বিদ্যাপীঠ জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় ঐতিহ্যবাহী পুরান ঢাকার বুড়িগঙ্গার কোল ঘেঁষে অবস্থিত। ২০০৫ সালের ১১ সেপ্টেম্বর ৮ম জাতীয় সংসদের ১৮ তম অধিবেশনে `জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় আইন–২০০৫' সংসদে উত্থাপিত হয় এবং ওই বছরেরই ২০ অক্টোবর সরকার প্রজ্ঞাপন জারি করে জগন্নাথ কলেজকে একটি পূর্ণাঙ্গ বিশ্ববিদ্যালয় হিসেবে ঘোষণা করে। বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার পর থেকেই ২০ অক্টোবর জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় দিবস হিসেবে পালিত হয়ে আসছে।
১৮৫৮ সালে ঢাকা ব্রাহ্ম স্কুল নামে প্রতিষ্ঠানটি যাত্রা শুরু করে। পরবর্তীতে ১৮৭২ সালে বালিয়াটির জমিদার কিশোরীলাল রায় চৌধুরী এ প্রতিষ্ঠানটির নাম বদলে তার বাবার নামে জগন্নাথ স্কুল নামকরণ করেন। সময়ের পরিক্রমায় ১৮৮৪ সালে এ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানটি একটি দ্বিতীয় শ্রেণির কলেজে ও পরবর্তীতে ১৯০৮ সালে প্রথম শ্রেণির কলেজে পরিণত হয়।
১৯২১ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠিত হলে তৎকালীন জগন্নাথ কলেজের স্নাতক কার্যক্রম ও সেইসাথে আইএ, আইএসসি, মাস্টার্স বন্ধ করে দেওয়া হয় এবং এ প্রতিষ্ঠানটিকে ইন্টারমিডিয়েট কলেজে অবনমিত করা হয়।
সময়ের ক্রমধারায় তৎকালীন জগন্নাথ কলেজ অর্থাৎ বর্তমান জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বেরিয়েছে নানা মহৎ ও আলোচিত ব্যক্তিবর্গ। যারা বিভিন্ন সময়ে দেশকে প্রতিনিধিত্ব করেছে এবং সামনে এগিয়ে নিয়েছে। এ সকল মহৎ ব্যক্তিবর্গের মধ্যে রয়েছেন বাংলাদেশের প্রথম প্রধানমন্ত্রী তাজউদ্দীন আহমেদ, ভাষা শহীদ রফিকউদ্দিন আহমদ, প্রখ্যাত আয়ুর্বেদ শাস্ত্র বিশারদ এবং শিক্ষাবিদ, আনিসুজ্জামান, ব্রিটিশবিরধী নৌ বিদ্রোহের শহীদ মানকুমার বসু ঠাকুর, সাহিত্যিক শামসুল হক, অভিনেতা এটিএম শামসুজ্জামান, লেখক ও সম্পাদক ইমদাদুল হক মিলন, অভিনেতাপ্রবীর মিত্র, মুক্তিযোদ্ধা ও সঙ্গীত শিল্পী ফকির আলমগীর, মুক্তিযুদ্ধের শহীদ বুদ্ধিজীবী, কবি-কথাসাহিত্যিক ও সাংবাদিক শহীদ সাবের, সাবেক স্বাস্থ্যমন্ত্রীমোহাম্মদ নাসিম, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী, আসাদুজ্জামান খাঁন কামাল, কবি ও সাংবাদিক, হাসান হাফিজুর রহমান, ঔপন্যাসিক, আলাউদ্দিন আল আজাদ, কথাসাহিত্যিক, আখতারুজ্জামান ইলিয়াসসহ আরও অনেকে।
বর্তমান সময়ের শিক্ষার্থীরাও সময়ের সাথে তাল মিলিয়ে এগিয়ে যাচ্ছে। বিসিএস, ব্যাংকসহ বিভিন্ন সরকারি চাকরি, বিভিন্ন প্রাইভেট প্রতিষ্ঠান ও বিদেশী সংস্থায় চাকরি করছেন এ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা। দিন দিন গবেষণা খাতা ও এগিয়ে যাচ্ছে তারা অর্জন করছে নানা পুরস্কার।
বিশ্ববিদ্যালয়টির বয়স প্রায় দেড় যুগ হলেও এখনো পর্যন্ত তেমন অবকাঠামো কত উন্নয়ন হয়নি। সম্প্রতি সরকার জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়কে দক্ষিণ কেরানীগঞ্জের ২০০ একর অভিধান করেছে নতুন ক্যাম্পাস নির্মাণের জন্য। কিন্তু এখনো পর্যন্ত সম্পূর্ণ জমি অধিগ্রহণ হয়নি। হল না থাকার বিপাকে আছি শিক্ষার্থীরা যদিও সম্প্রতি একটি ছাত্রী হল হয়েছে। অন্যান্য বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীদের মতো এ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা তেমন সুযোগ-সুবিধা পান না তবুও তারা বিভিন্ন ক্ষেত্রে সংগ্রাম করে এগিয়ে যাচ্ছে নিজ মহিমায়। এ বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক ও বর্তমান সকল শিক্ষার্থীদের আশা দ্রুত জগন্নাথ একটি বড় ক্যাম্পাস পাবে এবং শিক্ষার্থীদের জন্য বিভিন্ন সুবিধাদি নিশ্চিত হবে।
উল্লেখ্য, বর্তমানে এ বিশ্ববিদ্যালয়টিতে মোট ৬টি অনুষদে ৩৬টি বিভাগ ও ২টি ইনস্টিটিউট রয়েছে । বর্তমানে ১৬ হাজারেরও অধিক শিক্ষার্থী নিয়ে শিক্ষা কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে জবি।