
বায়োমেট্রিক পদ্ধতিতে পরীক্ষামূলক মোবাইল সিম নিবন্ধন কার্যক্রমের উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রীর তথ্য-প্রযুক্তি বিষয়ক উপদেষ্টা সজীব ওয়াজেদ জয়। গত বছরের ২১ অক্টোবর বুধবার সকালে এ কার্যক্রমের উদ্বোধন করে তিনি বলেন, ‘বায়োমেট্রিক পদ্ধতিতে সিম নিবন্ধনে বাংলাদেশ বিশ্বের দ্বিতীয় দেশ। এজন্য আমি গর্বিত।’ পরে ওই বছরের ১৬ডিসেম্বর থেকে বায়োমেট্রিক পদ্ধতিতে জাতীয় পর্যায়ে ও চূড়ান্তভাবে সিম নিবন্ধন শুরু করে মোবাইল অপারেটরা।
বায়োমেট্রিক পদ্ধতিতে সিম নিবন্ধনের অগ্রগতি বিষয়ে ডাক ও টেলিযোগাযোগ প্রতিমন্ত্রী তারানা হালিম বলেন, নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই এই কাজ শেষ করতে হবে। এটি এখন আমাদের বড় চ্যালেঞ্জ । কারণ এটি করতে পারলে অবৈধ ভিওআইপি, অনৈতিক ও সন্ত্রাসী কাজে সিমের ব্যবহার হ্রাস পাবে। এই পদ্ধতিতে আগামী এপ্রিল মাসের মধ্যে সিম নিবন্ধনের প্রক্রিয়া শেষ করার পরিকল্পনা আছে বলেও জানান প্রতিমন্ত্রী।
আঙ্গুলের ছাপ নিয়ে অর্থ্যাৎ বায়োমেট্রিক পদ্ধতিতে সিম নিবন্ধন কার্যক্রম কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না তা জানতে চেয়েছে হাইর্কোট। বিটিআরসি চেয়ারম্যান, স্বরাষ্ট্র সচিব, আইন সচিব, প্রধান নির্বাচন কমিশনার, জাতীয় পরিচয়পত্র অনুবিভাগের ডিজি, সকল মোবাইল ফোন অপারেটরসহ ১৩ বিবাদীকে এক সপ্তাহের মধ্যে এর জবাব দিতে বলেছে আদালত।
এস এম এনামুল হক নামে এক আইনজীবী বায়োমেট্রিক পদ্ধতিতে সিম নিবন্ধন কার্যক্রমের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে ৯মার্চ হাইকোর্টে এই রিট আবেদন করেন। রিটকারীর আইনজীবী মুক্তাদির রহমান বলেন, গত ১৩ ডিসেম্বর বিটিআরসি জানায়, সব সিম নিবন্ধন, এ্যাক্টিভেশন ও ভেরিফিকেশনের জন্য আঙ্গুলের ছাপ দিতে হবে।
দেশের ছয়টি মোবাইল ফোন অপারেটরের মধ্যে পাঁচটির মালিকানাই বিদেশীদের হাতে। দেশের ৯৭ শতাংশ গ্রাহকের নিয়ন্ত্রণ তাদের হাতে। আমরা জানি না, এসব তথ্য নিয়ে কিভাবে ব্যবহার করা হচ্ছে। ব্যক্তিগত গোপনীয়তা ও নিরপেক্ষতা লংঘন হতে পারে। এ আশংকা থেকে এই রিট আবেদন করা হয়।
রিটকারীর আইনজীবী আরো বলেন, বিটিআরসি এক র্সাকুলারের মাধ্যমে বায়োমেট্রিক পদ্ধতিতে সিম নিবন্ধনের নির্দেশনা জারি করে। এই নির্দেশনা তথ্য অধিকার, বিটিআরসি আইনের পরিপন্থী। যেহেতু বাংলাদেশে কোন ডাটা প্রটোকল আইন নেই, তাই আমরা বহুজাতিক কোম্পানির কাছে আঙ্গুলের ছাপ দেয়া নিরাপদ নয় বলে আদালতে উল্লেখ করেছি।
বায়োমেট্রিক পদ্ধতিতে সিম নিবন্ধনের বিষয়ে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় রিপোর্টার্স ইউনিটির সভাপতি শহিদুল ইসলাম বলেন, আসলে সিম ব্যবহার করে অপরাধ সংঘটিত করার প্রবণতা হয়ত হ্রাস পাবে। তবে পুরোপুরি সন্ত্রাসী কর্মকান্ড প্রতিরোধ করা সম্ভব হবে না। পাশাপাশি একটি জাতীয় পরিচয়পত্রের মাধ্যেমে একটি সিম নিবন্ধনের সুযোগ রাখা উচিত। অন্যথায় একাধিক সিম নিবন্ধনের সুযোগ অপরাধ সংঘটনের সুযোগকে বাড়িয়ে দিবে।
তিনি আরো বলেন, ২০১৪ সালের শেষের দিকে আমি জাতীয় পরিচয়পত্রের জন্য রেজিস্ট্রেশন করেছি। এখনও আমি পরিচয়পত্র পায়নি। তাহলে আমি কেমন করে সিম নিবন্ধন করতে পারবো। এখনো এই পদ্ধতিতে সিম নিবন্ধন প্রক্রিয়া জনসাধারণের কাছে প্রশ্নবিদ্ধ ।
বিশ্ববিদ্যালয়ের দর্শন বিভাগের আরেক শিক্ষার্থী জাকির হোসেন তমাল বলেন, এই পদ্ধতিতে সিম নিবন্ধনের ফলে আমাদের ব্যক্তিগত তথ্য একটি বেসরকারী প্রতিষ্ঠানের হাতে তুলে দেওয়া হচ্ছে। আমি এই বায়োমেট্রিক পদ্ধতিতে সিম নিবন্ধন করতে অনিরাপদ বোধ করি।
সানবিডি/ঢাকা/আহো