
গত বছর ভারত আন্তর্জাতিক বাজারে রেকর্ড পরিমাণ চাল রফতানি করেছিল। তবে এ বছর রফতানি কমে প্রায় অর্ধেকে নেমে আসতে পারে। সম্প্রতি এ পূর্বাভাস দিয়েছে মার্কিন কৃষি বিভাগের (ইউএসডিএ) ফরেন এগ্রিকালচারাল সার্ভিস (এফএএস)।
এ বিষয়ে গ্লোবাল এগ্রিকালচারাল ইনফরমেশন নেটওয়ার্ক শীর্ষক প্রতিবেদনে এফএএস জানায়, ২০২২-২৩ মৌসুমে ভারত ১ কোটি ৭০ লাখ টন চাল রফতানি করতে সক্ষম হবে। গত বছর রফতানি করা হয়েছিল ২ কোটি ১৫ লাখ টন।
গত ৮ সেপ্টেম্বর ভারত সরকার ভাঙা চাল রফতানিতে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে। সে সময়ে অন্যান্য চাল রফতানিতে ২০ শতাংশ রফতানি শুল্কও আরোপ করা হয়। সরকারের এমন সিদ্ধান্তে অসন্তোষ দেখা দেয় আমদানি ও রফতানিকারক পর্যায়ে। ক্রেতারা অতিরিক্ত শুল্ক পরিশোধে অস্বীকৃতি জানালে বন্দরগুলোয় আটকা পড়ে অন্তত ১০ লাখ টন চাল।
এ বিষয়ে সর্বশেষ সরকারি পরিসংখ্যানের তথ্যানুসারে, ২০২১-২২ বিপণন মৌসুম শেষে চালের মজুদ ৩ কোটি ৫০ লাখ টনে দাঁড়িয়েছে। ২০২২-২৩ বিপণন মৌসুম শেষে চালের মজুদ কমে ৩ কোটি ২০ লাখ টনে দাঁড়াবে। রফতানি কমলেও স্থানীয় ব্যবহার বৃদ্ধির কারণে মজুদ নিম্নমুখী হয়ে উঠছে।
সরকার জানায়, ২০২২-২৩ বিপণন মৌসুমে ধান রোপণ ও খরিপ চালের উৎপাদন কম হওয়ায় স্থানীয় বাজারে চালের মূল্য বেড়েছে। তবে চলতি সপ্তাহের শুরুতে ভারত সরকার জানায়, দেশে চাল ও গমের পর্যাপ্ত মজুদ রয়েছে। প্রয়োজনে স্থানীয় বাজারে মূল্য নিয়ন্ত্রণে সহায়তা করবে সরকার।
এক দশকের বেশি সময় ধরে স্থিতিশীল চালের আন্তর্জাতিক বাজার। কিন্তু সম্প্রতি ভারত চাল রফতানি বন্ধ ঘোষণা করার পর থেকে সরবরাহ নিয়ে অনিশ্চয়তা চরম আকার ধারণ করেছে। ফলে শস্যটির বৈশ্বিক দাম আকাশচুম্বী হয়ে ওঠার আশঙ্কা করছেন ব্যবসায়ীরা।
এনজে