ব্যবধানটা ১ রানের! আক্ষেপে পুড়ছে বাংলাদেশ
আপডেট: ২০১৬-০৩-২৪ ১০:৫৬:৪৭

ভারতের বিপক্ষে জয়ের বন্দরের একেবারে কাছাকাছিই পৌঁছে গিয়েছিল বাংলাদেশ। জয়ের জন্য ৩ বলে প্রয়োজন ছিল ২ রান। কিন্তু মুশফিক-মাহমুদউল্লাহ রিয়াদের মতো দুই সিনিয়র খেলোয়াড় মাথা ঠান্ডা রাখতে পারলেন না। পর পর দুই বলে আউট হয়ে সাজঘরে ফিরে গেলেন তারা। সঙ্গে বাংলাদেশের দুর্ভাগ্যকেও টেনে আনলেন। শেষ বলে তখন প্রয়োজন ২ রান। কিন্তু ক্রিজে শুভাগত হোম ও মুস্তাফিজুর রহমান। ব্যাটে বল লাগাতে পারলেন না শুভাগত। বল ধোনির হাতে জমা পড়লো। ম্যাচটা অন্তত টাই করার জন্য রান নিতে ছুটলেন বাংলাদেশের দুই ব্যাসম্যান। কিন্তু মুস্তাফিজ দৌড় শুরু করতে দেরি করেছিলেন। রান আউট হয়ে গেলেন তিনি। টি২০ বিশ্বকাপে বুধবার রাতে ভারতের কাছে মাত্র ১ রানে ম্যাচ হেরে গেল বাংলাদেশ। আর মাত্র ২ রান জন্য ঐতিহাসিক এক জয় মুঠো ফস্কে বেরিয়ে যাওয়ার আক্ষেপে পুড়তে হলো বাংলাদেশকে। এই জয়টা পেলে ভারতের বিপক্ষে টি২০ ক্রিকেটে প্রথম জয়ের স্বাদ পেত বাংলাদেশ।
তুলনামুল ছোট মাঠ। পিচে রান রয়েছে প্রচুর। তেমন পরিবেশে স্বাগতিক ভারতকে মাত্র ১৪৬ রানে বেঁধে ফেলেছিল বাংলাদেশের বোলাররা। টি২০ বিশ্বকাপের এই ম্যাচ জিততে তাই মাশরাফিবাহিনীর প্রয়োজন ছিল ১৪৭ রান। যা তাড়া করে জয়ের দারুণ সম্ভাবনা জাগিয়ে তুলেছিলেন বাংলাদেশের ব্যাটসম্যানরা। কিন্তু শেষ ওভারের চতুর্থ ও পঞ্চম বলে মুশফিক-মাহমুদউল্লাহর সামন্য ভুলে নিশ্চিত জয় থেকে বঞ্চিত হতে হয়েছে বাংলাদেশকে। হার্দিক পান্ডের দেওয়া পর পর ফুল টস বল দুটিকে বাতাসে ভাসিয়ে মারতে গিয়েই আউট হয়েছেন এই দু’জন। অথচ তখন বাতাসে নয়, মাটি কামড়ে এক রান করে নিলেও ম্যাচটা জিতে যেত বাংলাদেশ।
বেঙ্গালুরুর এম চিন্নাস্বামী স্টেডিয়ামে বল হাতে দারুণ করেছিল বাংলাদেশ। দলকে প্রথম সাফল্য দিয়েছিলেন ‘কাটার মাস্টার’ মুস্তাফিজুর রহমান; ৬ষ্ঠ ওভারে। ভারতীয় ওপেনার রোহিত শর্মাকে সাব্বির রহমানের ক্যাচে পরিণত করেছেন তিনি। সপ্তম ওভারে ফের সাফল্য পেয়েছে বাংলাদেশ। এবার সাফল্য উপহার দিয়েছেন সাকিব আল হাসান। আরেক ভারতীয় ওপেনার শেখর ধাওয়ানকে এলবিডব্লিউ করেছেন তিনি। ১৪তম ওভারে ফের সাফল্য পেয়েছে বাংলাদেশ। এবার বিরাট কোহলিকে বোল্ড করেছেন স্পিনার শুভাগত হোম। ১৬তম ওভারের প্রথম দুই বলে পরপর সুরেশ রায়না ও হৃদ্বিক পাণ্ডেকে ফিরিয়ে ভারতকে চাপে ফেলেছেন আল-আমিন হোসেন। পরের ওভারেই যুবরাজ সিংকে ফিরিয়ে ভারতকে কঠিন চাপে ফেলেছেন মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ। এরপর ইনিংসের শেষ ওভারের প্রথম বলে রবিন্দ্র জাদেজার উইকেট উপড়ে ফেলেন মুস্তাফিজুর রহমান। শেষ অব্দি নির্ধারিত ২০ ওভারে ৭ উইকেট হারিয়ে ১৪৬ রান তুলতে সক্ষম হয়েছে ভারত।
ভারতের পক্ষে সর্বোচ্চ ৩০ রান (২৩ বলে) করেছেন সুরেশ রায়না। বাংলাদেশের পক্ষে ২টি করে উইকেট নিয়েছেন মুস্তাফিজ ও আল-আমিন। এর মধ্যে আল-আমিন হ্যাটট্রিক চান্স তৈরি করেছিলেন। বাংলাদেশের পক্ষে বাকি উইকেটগুলো নিয়েছেন সাকিব আল হাসান, শুভাগত হোম ও মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ।
এর আগে ম্যাচের শুরুতে টানা ৮ ম্যাচে হারার পর টস ভাগ্য সহায় হয়েছিল মাশরাফি বিন মর্তুজার। আর সেই সুবাদে ভারতের বিপক্ষে টস জিতেছিল বাংলাদেশ। ম্যাচে আগে ফিল্ডিং বেছে নিয়েছেন বাংলাদেশের অধিনায়ক মাশরাফি বিন মর্তুজা।
ম্যাচের ভেন্যু বেঙ্গালুরুর এম চিন্নাস্বামী স্টেডিয়ামের এই ম্যাচটি সেমিফাইনালের আশা টিকিয়ে রাখতে দুই দলের জন্যই ছিল অতি গুরুত্বপূর্ণ।
অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে খেলা একাদশে পরিবর্তন এনে ভারতের বিপক্ষে মাঠে নেমেছিল বাংলাদেশ। অসুস্থতা কাটিয়ে দলে ফিরেছিলেন ওপেনার তামিম ইকবাল। বাদ দেওয়া হয়েছিল বিশেষজ্ঞ স্পিনার সাকলাইন সজীব। আর ব্যাটিং অর্ডার পরিবর্তন করে সৌম্য সরকারকে পাঠানো হয়েছিল সাত নাম্বারে। পরিকল্পনাগুলো এদিন বেশ সুফল দিতে শুরু করেছিল বাংলাদেশকে। ভারতের দেওয়া ১৪৭ রানের টার্গেট তাড়া করে বেশ সাবলীল গতিতেই এগুচ্ছিল মাশরাফিরা। মাঝে স্পিন দিয়ে ম্যাচ খানিকটা নিজেদের অনুকূলে নিয়েছিল ভারত। ১৯ ওভার শেষে বাংলাদেশের সংগ্রহ ছিল ৬ উইকেটে ১৩৬ রান। শেষ ওভারে তাই জয় পেতে প্রয়োজন ১১ রান। দুই অভিজ্ঞ ও সিনিয়র খেলোয়াড় ক্রিজে থাকায় জয়ের স্বপ্নে ভাসছিল বাংলাদেশ। দুই ক্রিকেটার সেই আস্থার প্রতিদানও দিয়েছিলেন প্রথম ৩ বলে ৯ রান তুলে নিয়ে। শেষ ওভারের প্রথম বলে মাহমুদউল্লাহ সিঙ্গেল নিলে স্ট্রাইক পান মুশফিক। পর পর দুই বলে দুই বাউন্ডারিতে ম্যাচটা বাংলাদেশের নাগালে এনে দেন তিনি। কিন্তু এর পরের দুই বলেই এই দুই ব্যাটসম্যানের বোকামিতেই ম্যাচটা শেষ অব্দি হেরে গেল বাংলাদেশ।
দলের পক্ষে সর্বোচ্চ ৩৫ রান করেছেন তামিম। এ ছাড়া সাব্বির ২৬, সাকিব ২২, সৌম্য ২১, মুশফিক ১১ (৬ বলে) এবং মাহমুদউল্লাহ ১৮ রান করেছেন। ভারতের পক্ষে ২টি করে উইকেট নিয়েছেন রবিচন্দ্রন অশ্বিন, রবিন্দ্র জাদেজা ও হার্দিক পান্ডে।







সানবিডি২৪ এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি ফলো করুন












