শ্রীলংকার চা উৎপাদন কমে ২৬ বছরের সর্বনিম্নে

সান বিডি ডেস্ক প্রকাশ: ২০২২-১০-২৫ ০৯:১৫:৪৩


অর্থনৈতিকভাবে বিপর্যস্ত শ্রীলংকায় চা উৎপাদন কমে ২৬ বছরে সর্বনিম্নে নেমেছে। দেশটিতে চলমান অর্থনৈতিক বিপর্যয় ও সার সংকটে দেশটির চা শিল্প প্রায় পঙ্গু হয়ে পড়েছে। খবর ইকোনমিনেক্সট।

এ বিষয়ে ফোর্বস ও ওয়াকারস টি ব্রোকারস থেকে প্রাপ্ত তথ্যানুসারে, গত মাসে শ্রীলংকায় সিলন চায়ের উৎপাদন গত বছরের একই সময়ের তুলনায় কমেছে ৭ দশমিক ৮ শতাংশ। বছরের প্রথম নয় মাসে মোট উৎপাদন কমেছে ১৮ শতাংশ, বিপরীতে উৎপাদন খরচ বেড়েছে ৩৫ শতাংশ।

চলতি বছরের জানুয়ারি-সেপ্টেম্বর পর্যন্ত মোট উৎপাদন হয় ১৯ কোটি ২৩ লাখ ৭০ হাজার কেজি চা। যেখানে গত বছরের ঠিক একই সময়ে উৎপাদনের পরিমাণ ছিল ২৩ কোটি ৪৭ লাখ ২০ হাজার কেজি। ১৯৯৬ সালের পর এটিই উৎপাদনের সর্বনিম্ন রেকর্ড। ওই বছর দেশটিতে চা উৎপাদনের পরিমাণ ছিল ১৮ কোটি ৮৪ লাখ কেজি।

২০২০ সালের কভিড-১৯ মহামারীর মধ্যেও দেশটি চা উৎপাদনের পরিমাণ অনেকটাই ধরে রাখতে সক্ষম হয়। ওই সময় মোট ২০ কোটি ১৪ লাখ ৩০ হাজার কেজি চা উৎপাদন করে শ্রীলংকা। কিন্তু ২০২১ সালের পর থেকে দেশটিতে চা উৎপাদন ক্রমে কমেছে। তথ্যানুসারে, চলতি বছরের সেপ্টেম্বরে উচ্চফলনশীল জাতের চা উৎপাদনের পরিমাণ ১৪ দশমিক ৫ শতাংশ বেড়ে হয় ৪৬ লাখ কেজি। মাঝারি জাতের চা উৎপাদনের পরিমাণ কমেছে ৩ দশমিক ৬ শতাংশ, কেজি হিসেবে যার পরিমাণ ৩৪ লাখ।

দেশটির শিল্পোদ্যোক্তারা অবশ্য আগেই সতর্ক করে বলেছিলেন, প্রায় ১৮ মাস পর্যন্ত কিছু অঞ্চল চা উৎপাদনের জন্য প্রয়োজনীয় সার পায়নি, যা আগামী বছরগুলোয় তাদের চা উৎপাদনে ক্ষতিকারক প্রভাব ফেলবে।

যদিও এখন কৃষি রাসায়নিক দ্রব্যের ওপর নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করা হয়েছে। তবে বাইরের দেশ থেকে সারের আমদানি নিষেধাজ্ঞার মধ্যেই শ্রীলংকার রুপির অবমূল্যায়ন হওয়ায় চাষীদের উৎপাদন ব্যয় চলতি বছর এ পর্যন্ত ৩০-৩৫ শতাংশ বেড়েছে।

বিদ্যুৎ থেকে শুরু করে মজুরি, চায়ের প্যাকেজিং দাম বেড়েছে সবকিছুরই। তাছাড়া ৭০ শতাংশ মূল্যস্ফীতির কারণে চা শিল্পের সঙ্গে জড়িত শ্রমিকদেরও উচ্চ মজুরি দিতে হচ্ছে।

এনজে