
ঘূর্ণিঝড় সিত্রাংয়ের প্রভাবে নৌকাডুবি ও সৃষ্ট ঝড়ে গাছ পড়ে পাঁচ জেলায় প্রায় ১৪ জন নিহত হয়েছেন।
সোমবার (২৪ অক্টোবর) সন্ধ্যা থেকে মঙ্গলবার (২৫ অক্টোবর) ভোর পর্যন্ত এসব ঘটনা ঘটে।
ঘূর্ণিঝড়ের প্রভাবে নিহতের মধ্যে কুমিল্লায় ৩ জন, সিরাজগঞ্জে ২ জন, ভোলায় ৪ জন, গোপালগঞ্জে ২ জন ও নড়াইল, বরগুনায় ১ জন নিহত হয়েছেন।
দেশের বিভিন্ন জায়গায় প্রাণহানির চিত্র তুলে ধরা হলো-
কুমিল্লা : ঘূর্ণিঝড় সিত্রাংয়ের প্রভাবে কুমিল্লার নাঙ্গলকোট উপজেলার হেশাখাল এলাকায় গাছ উপড়ে পড়ে স্বামী-স্ত্রী ও তাদের এক সন্তান নিহত হয়েছেন। সোমবার (২৪ অক্টোবর) রাত ৯টার দিকে এ দুর্ঘটনা ঘটনা ঘটে।
নিহত ব্যক্তিরা হলেন- মো. নিজাম উদ্দিন, তার স্ত্রী সাথি আক্তার ও মেয়ে লিজা আক্তার।
নাঙ্গলকোট উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রায়হান মেহেবব এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
সিরাজগঞ্জ : সিরাজগঞ্জ সদর উপজেলায় যমুনা নদীর ক্যানেলে ঝড়-বৃষ্টির কবলে পড়ে নৌকাডুবিতে মা-ছেলে নিহত হয়েছেন।
নিহত ব্যক্তিরা হলেন- উপজেলার সয়দাবাদ ইউনিয়নের পূর্বমোহন গ্রামের খোকনের স্ত্রী আয়েশা খাতুন (২৮) ও ছেলে আরাফাত হোসেন (২)।
ভোলা : ভোলায় ঘূর্ণিঝড় সিত্রাংয়ের প্রভাবে সদর, লালমোহন, চরফ্যাশন ও দৌলতখান উপজেলায় চারজন নিহত হয়েছেন।
সোমবার (২৪ অক্টোবর) রাতে তিনজন ও মঙ্গলবার (২৫ অক্টোবর) ভোরের দিকে একজন নিহত হয়েছেন।
নিহত ব্যক্তিরা হলেন- ভোলা সদরের ধনিয়া ইউনিয়নের ৩ নম্বর ওয়ার্ডের চেওয়াখালী গ্রামের মো. মফিজুল ইসলাম (৬০), চরফ্যাশন উপজেলার হাজারীগঞ্জ ইউনিয়নের মো. মনির হোসেন (৩০), লালমোহন উপজেলার লর্ডহাডিঞ্জ ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ডের রাবেয়া বেগম (২৫) ও দৌলতখান পৌর ৭ নম্বর ওয়ার্ডের খাতিজা বেগম (৬০)।
জানা গেছে, সদরের মফিজুল ইসলাম একটি গাছ ভেঙে বসতঘরের ওপরে পড়লে চাপা পড়ে নিহত হন। লালমোহনের রাবেয়া বেগম জোয়ারের পানিতে ডুবে নিহত হন। দৌলতখানের খাতিদা বেগমও ঘরের ওপর গাছ পড়ে চাপায় নিহত হন। এ ছাড়া চরফ্যাশনের হাজারীগঞ্জে মনির মোটরসাইকেল করে যাওয়ার সময় গাছের ডাল ভেঙে শরীরে পড়ে নিহত হন।
নড়াইল : ঘূর্ণিঝড়ে নড়াইলে গাছের ডাল পড়ে মর্জিনা বেগম (৩২) নামে এক গৃহপরিচারিকা নিহত হয়েছেন। সোমবার (২৪ অক্টোবর) সকালে লোহাগড়া উপজেলা পরিষদ চত্বর এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
জানা গেছে, ছেলে জিহাদকে (১১) নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে লোহাগড়া পৌর এলাকার রাজুপুর গ্রামের আব্দুল গফ্ফারের বাড়িতে ভাড়া থেকে বিভিন্ন বাড়িতে গৃহপরিচারিকার কাজ করতেন মর্জিনা। তিনি বাগেরহাটের স্থায়ী বাসিন্দা। প্রতিদিনের দিনের মতো সোমবার সকালে বাসা থেকে কাজের উদ্দেশে বের হন তিনি। পথে লোহাগড়া উপজেলা পরিষদ চত্বর এলাকায় পৌঁছালে মেহগনি গাছের ডাল ভেঙে মাথায় পড়ে আহত হন মর্জিনা। পরে স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।
বরগুনা : বরগুনা সদর উপজেলায় ঘূর্ণিঝড় সিত্রাংয়ের প্রভাবে সৃষ্ট ঝোড়ো বাতাসে বসতঘরে গাছ উপড়ে পড়ে এক বৃদ্ধা (১১৫) নিহত হয়েছেন।
সোমবার (২৪ অক্টোবর) রাত ৮টার দিকে উপজেলার সোনাখালি গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। নিহত ব্যক্তির নাম আমেনা খাতুন (১১৫)।
নিহতের পরিবার জানান, সোমবার রাতে ঘূর্ণিঝড় সিত্রাংয়ের প্রভাবে সৃষ্টি হওয়া ঝড়ো বাতাসে তাদের বাড়ির পাশে থাকা চাম্বল গাছ উপড়ে বসতঘরের ওপর পড়ে। এ সময় ঘর ও গাছের নিচে চাপা পড়ে আমেনা ঘটনাস্থলেই মারা যান।
গোপালগঞ্জ : গোপালগঞ্জের টুঙ্গিপাড়া উপজেলায় সিত্রাংয়ের প্রভাবে গাছচাপায় দুই নারী নিহত হয়েছে।
মঙ্গলবার (২৫ অক্টোবর) দুপুরে টুঙ্গিপাড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মুহাম্মদ আবুল মনসুর এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। এর আগে সোমবার (২৪ অক্টোবর) রাতে উপজেলার পাঁচকাহনিয়া ও বাঁশবাড়িয়ার চরপাড়া গ্রামে এ পৃথক ঘটনা ঘটে।
নিহত ব্যক্তিরা হলেন, বাঁশবাড়িয়ার চরপাড়া গ্রামের হান্নান তালুকদারের স্ত্রী রোমেছা বেগম (৫৮) ও পাঁচকাহনিয়া গ্রামের রেজাউল খার স্ত্রী সারমিন বেগম (২৫)।
টুঙ্গিপাড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মুহাম্মদ আবুল মনসুর জানান, সিত্রাংয়ের প্রভাবে সোমবার রাত সোয়া ৮টার দিকে টুঙ্গিপাড়া উপজেলার বাঁশবাড়িয়ার চরপাড়া গ্রামের হান্নান তালুকদারের ঘরের ওপর চম্বল গাছ উপড়ে পড়ে গাছচাপা পড়ে তার স্ত্রীর মৃত্যু হয়। অন্যদিকে সোমবার রাত সাড়ে ৯টার দিকে একই উপজেলার পাঁচকাহনিয়া গ্রামে রেজাউল খার বাড়ির পাশে থাকা খেজুর গাছ তার বসত ঘরে উপড়ে পড়ে। এ সময় ঘরে থাকা তার স্ত্রী সারমিন বেগম গাছচাপা পড়ে ঘটনাস্থলে নিহত হন।
এম জি