
বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ বলেছেন, দেশের বিদ্যুৎ খাতের কোম্পানিগুলো আগামী দিনে দেশ ও বিদেশের পুঁজিবাজারে শেয়ার বিক্রি করে অর্থ সংগ্রহ করবে। আর এ অর্থে নির্মাণ করা হবে নতুন নতুন বিদ্যুৎ কেন্দ্র। এ বিষয়ে সরকার কাজ করছে বলে উল্লেখ করেন তিনি।
এ বিষয়ে তিনি আরও বলেন, সরকার ২০৪১ সালের মধ্যে দেশের বিদ্যুৎ উৎপাদন ক্ষমতা ৬০ হাজার মেগাওয়াটে উন্নীত করার লক্ষ্যমাত্রা ঠিক করেছে। এর জন্য বিপুল বিনিয়োগ দরকার।
মঙ্গলবার সন্ধ্যায় রাজধানীর একটি হোটেলে অনুষ্ঠিত চুক্তি সাক্ষর অনুষ্ঠানে তিনি এ কথা বলেন। চিনের একটি কোম্পানির সঙ্গে যৌথ উদ্যোগে বিদ্যুৎকেন্দ্র স্থাপনের বিষয়ে এ চুক্তি সই হয়। অনুষ্ঠানে অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত, প্রধানমন্ত্রীর জ্বালানি বিষয়ক উপদেষ্টা তৌফিক ই ইলাহি চৌধুরীসহ সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের সচিব ও অন্যান্য উর্ধতন কর্মকর্তা উপস্থিত ছিলেন।
অনুষ্ঠানে অর্থমন্ত্রী বলেন, বিনিয়োগের জন্য বাংলাদেশ এখন ভালো জায়গা। বিদ্যুতের মতো উল্লেখযোগ্য খাতে চীনের বিনিয়োগের জন্য তাদের ধন্যবাদ।’
উল্লেখ, পটুয়াখালীর পায়রায় এক হাজার ৩২০ মেগাওয়াট ক্ষমতার কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকন্দ্র স্থাপন করবে পায়রায় বাংলাদেশের সরকারি প্রতিষ্ঠান নর্থওয়েস্ট পাওয়ার জেনারেশন কম্পানি ও চীনের রাষ্ট্রায়ত্ত কম্পানি চায়না ন্যাশনাল মেশিনারি ইম্পোর্ট অ্যান্ড এক্সপোর্ট করপোরেশন (সিএমসি)। এ লক্ষ্যে গতকাল প্রতিষ্ঠান দুটির মধ্যে ইপিসি (ইঞ্জিনিয়ারিং, প্রকিউরমেন্ট অ্যান্ড কনস্ট্রাকশন) চুক্তি সই হয়। কেন্দ্রটি স্থাপনে মোট ব্যয় হবে ২০০ কোটি ডলার। চীনের দুটি ব্যাংক এই কেন্দ্রে ১৫০ কোটি ডলার বিনিয়োগ করবে।
কেন্দ্রটি পরিচালনায় বাংলাদেশ-চায়না পাওয়ার কোম্পানি লিমিটেড নামে পৃথক একটি কম্পানি গঠন করা হয়েছে। সমান অংশীদারির ভিত্তিতে এই কেন্দ্রের মালিকানা যৌথভাবে নর্থওয়েস্ট পাওয়ার জেনারেশন কম্পানি ও সিএমসির। কেন্দ্রটি নির্মাণে ইপিসি কন্ট্রাক্টের কাজটি পেয়েছে যৌথভাবে চীনের তিন কম্পানি এনইপিসি, সিইসিসি ও সিইইজিএন।
বাংলাদেশ-চায়না কোম্পানির পক্ষে এর সচিব দিপক কুমার ঢালি, এনইপিসির প্রেসিডেন্ট চাই মিং ও সিইসিসির প্রেসিডেন্ট চেন ইউয়ের মধ্যে চুক্তিতে সই করেন।