
বিএনপির নতুন মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের বিরুদ্ধে দায়েরকৃত সকল ‘মিথ্যা’ মামলা প্রত্যাহার করে এই মুহূর্তে তার মুক্তি দাবি করেছে দলটি। অন্যথায় কঠোর কর্মসূচি ঘোষণার হুমকি দিয়েছে বিএনপি।
পল্টন থানার নাশকতার দুই মামলায় মির্জা ফখরুল ইসলামকে বুধবার দুপুরে জেলহাজতে পাঠানোর নির্দেশ দেন আদালত। এরপর নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে দলের পক্ষে তাৎক্ষণিক এক প্রতিক্রিয়ায় এ কথা বলেন বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম-মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী আহমেদ।
রিজভী বলেন, ‘সকল মিথ্যা মামলা প্রত্যাহার করে এই মুহূর্তে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরকে কারাগার থেকে মুক্তি দেয়ার জোর দাবি জানাচ্ছি। অন্যথায় আমরা কর্মসূচি ঘোষণা করবো। আলাপ-আলোচনা করে সে কর্মসূচির বিষয়ে জানানো হবে।’
তিনি অভিযোগ করে বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ক্ষমতা হারানোর ভয়ে বিএনপির সদ্য মনোনিত মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরকে কারাগারে প্রেরণ করেছে।’
শত জুলুম-অত্যাচারেও গত সাত বছরে বিএনপি বার বার জেগে উঠেছে- এমনটা দাবি করে দলের এ সিনিয়র যুগ্ম-মহাসচিব বলেন, ‘বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরকে জেলহাজতে প্রেরণ করার কোনো কারণ ছিল না। এটা ভোটবিহীন ও অবৈধ সরকারের যিনি প্রধান তার মনোবাঞ্ছা। মির্জা ফখরুল ইসলাম নতুন মহাসচিব হয়েছেন। এরপর রাজনীতির গতিধারা কোনো দিকে প্রবাহিত হয়, তাই আগেই সেটি বন্ধ করে দেয়া। এই ধরনের আশঙ্কা ও ক্ষমতা হারানোর ভয়ে ভোটারবিহীন সরকারের প্রধানমন্ত্রী জঘন্য কাজটি করেছেন।’
এ প্রসঙ্গে তিনি আরো বলেন, ‘এটা শুধু বিএনপির মহাসচিবকে কারাগারে প্রেরণ করা নয়, এটা বিএনপির ওপর নগ্ন হামলা। তবে তাদের কোনো চক্রান্ত সফল হবে না। আমি অবিলম্বে দেশের একজন সজ্জন রাজনীতিবিদ বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের মুক্তির দাবি জানাচ্ছি। একইসঙ্গে তাকে কারাগারের প্রেরণ করায় এর তীব্র নিন্দা, প্রতিবাদ ও ক্ষোভ জানাচ্ছি।’
রিজভী বলেন, ‘দলের নবনির্বাচিত মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরকে ফুলেল শুভেচ্ছা জানানোর জন্য নেতাকর্মীরা অপেক্ষা করছিলেন। কিন্তু সরকার সংক্ষিপ্ত আনন্দের সময়টুকু বরদাস্ত করলো না। এটি শুধু হীন রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রেণোদিতই নয়, এটি সুগভীর চক্রান্ত। একটি সরকার যখন গণবিচ্ছিন্ন হয়ে যায়, যখন গণভিত্তি থাকে না, তখন মরণ কামড়ে যে উন্মক্ত হয়ে পড়ে, বেসামাল হয়ে পড়ে- এর উদাহরণ হচ্ছে বিএনপির মহাসচিবকে জেল হাজতে প্রেরণের ঘটনা।’
তিনি বলেন, ‘সরকার এখন ভূতলে সায়িত হওয়ার পথে, তাই শেষ চেষ্টা করছে, মরণ কামড় দেয়ার চেষ্টা করছে। বিএনপির মতো একটি গণভিত্তিক রাজনৈতিক দল সুষ্ঠু নির্বাচন হলে বিপুল ভোটে বিজয়ী হবে। সেই ভয় তাদেরকে কুরে কুরে খাচ্ছে। তাই বিএনপিকে নানাভাবে ধ্বংস করার চেষ্টা করা হচ্ছে।’
এর আগে, বিএনপির নবনির্বাচিত মহাসচিব হন মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। একইসঙ্গে সিনিয়র যুগ্ম-মহাসচিবের দায়িত্ব পান রিজভী আহমেদ। এছাড়া মিজানুর রহমান সিনহাকে কোষাধ্যক্ষ ঘোষণা করা হয়।
গত ১৯ মার্চ রাজধানীর ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশনে অনুষ্ঠিত বিএনপির ষষ্ঠ জাতীয় কাউন্সিলে মহাসচিবসহ কমিটি গঠনে সর্বময় ক্ষমতা চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার ওপর ন্যস্ত করেন কাউন্সিলররা। সেই ক্ষমতাবলে খালেদা জিয়া এই তিনজনকে মনোনীত করেছেন।
বেলা সাড়ে ১১টায় বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে রুহুল কবির রিজভী আহমেদ নিজে এ তথ্য জানান।