
বাংলাদেশে আইএস ও আল-কায়দার অস্তিত্ব রয়েছে বলে জানিয়েছেন জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের (জবি) ভিসি অধ্যাপক ড. মীজানুর রহমান। তিনি বলেছেন, আইএস বা আল কায়দা বাংলাদেশে অফিস খুলে না বসলেও তাদের মতাদর্শীরা একত্তরে ছিল, পচাত্তরে ছিল এবং এখনও আছে। তাদের অস্তিত্বের কথা অস্বিকার করা যাবেনা।
বুধবার দুপুর সাড়ে ১১টায় জবি শহীদ মিনারের সামনে জবি শিক্ষার্থী নাজিমুদ্দিন হত্যাকান্ডের প্রতিবাদে জবি শিক্ষক সমিতি আয়োজিত মানববন্ধন ও প্রতিবাদ সমাবেশে এসব কথা বলে জবি ভিসি।
তিনি বলেন, বিগত সময়ে মুক্তমনাদের যেবাবে খুন করা হয়েছে নাজিমুদ্দিনকের একই ভাবে খুন করা হয়েছে। এ ধরনের কোন হত্যাকান্ড ঘটলে দুই ধরনের কথা শোনা যায়। পুলিশ বাহিনি বলে খুনিদের গেফতারের চেষ্টা করা হচ্ছে। আর কিছু রাজনৈতিক ব্যাক্তি বলেন, তার বিরুদ্ধে ধর্ম অবমাননার অভিযোগ আছে কিনা তা ক্ষতিয়ে দেখা হচ্ছে। গণমাধ্যমে এ দুই ধরনের বক্তব্য প্রকাশিত হওয়ায় যে বিভ্রান্তি সৃষ্টি হয় তাতে খুৃনিরা পার পেয়ে যায়। এসব বক্তব্য না দিয়ে প্রধান কাজ হচ্ছে খুনিদের সনাক্তক করা। কেউ যদি নাজিমুদ্দিনের খুনের ব্যাপারে কোন তথ্য জেনে থাকেন তা জবি সংশ্লিষ্ট দপ্তরকে বা জবি ভিসি দপ্তরে জানাতে অনুরোধ করেন তিনি।
জবি ভিসি আরো বলেন, ধর্ম নিয়ে অবমাননা করলে তার বিচারের জন্য সংবিদানের আইন আছে। এজন্য কাউকে চাপাতি দিয়ে কুপিয়ে খুন করার অধিকার রাষ্ট্র বা কোন ব্যক্তির নেই।
মানববন্ধনে সভাপতির বক্তব্যে অধ্যাপক ড. কাজী সাউফুদ্দীন বলেন, বাংলাদেশকে সিরিয়া এবং লিবিয়ার মত ব্যর্থ রাষ্ট্রে পরিণত করার জন্য একটি মহল বিভিন্ন হিন কর্মকান্ড পরিচালিত করছে। দেশে যখন একাত্তরের মানবতাবিরোধীদের বিচার হচ্ছে, বঙ্গবন্ধুর খুনিদের যখন বিচার হচ্ছে, তখনই একটি মহল দেশকে অস্থিতিশীল করার লক্ষে ধর্মের দোহাই দিয়ে মানুষ খুন করছে।
জবি শিক্ষকজ সমিতির সাধারন সম্পাদক নূরে আলমের সঞ্চালনায় মানববন্ধনে আরো বক্তব্য রাখেন জবি শিক্ষক সমিতির সাবেক সভাপতি সরকার আলী আক্কাস, সাবেক সাধারন সম্পাদক ড. পরিমল বালা, আরেক সাবেক সাধারন সম্পাদক অধ্যাপক ড. আবুল হোসেন, বর্তমান সহ-সভাপতি ড. মনিরুজ্জামন, সাবেক ছাত্রকল্যান পরিচালক নাসির উদ্দিন এবং জবি রেজিস্ট্রার প্রকৌশলী মো: ওহিদুজ্জামান প্রমুখ। প্রায় এক ঘন্টাব্যাপী এ মানববন্ধনে অর্ধশতাধিক শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা অংশ নেন।
সানবিডি/ঢাকা/ইসমাইল/এসএস