
সৌদিআরব ও ইরানের পর এবার মিসরে আন্তর্জাতিক হিফজুল কুরআন প্রতিযোগিতায় অংশ নিয়ে তৃতীয় স্থান অর্জন করেছেন দৃষ্টিহীন হাফেজ তানভীর হোসাইন। বিশ্বসেরাদের এ হাফেজকে নোয়াখালীর নিজ উপজেলায় গণসংবর্ধনা দেয়া হয়েছে।
জন্মান্ধ হাফেজ তানভীর নোয়াখালীর কোম্পানীগঞ্জ উপজেলার চরকাঁকড়া ইউনিয়নের পেশকারহাট ঈদগাহ সংলগ্ন আবদুল মতিন মিয়ার বাড়ির শেখ মো. ইলিয়াসের ছেলে।
সোমবার (১৩ ফেব্রুয়ারি) সকালে হাফেজ তানভীর হোসেনের নিজ উপজেলা নোয়াখালীর কোম্পানীগঞ্জ উপজেলার বসুরহাট রুপালি চত্বরে মারকাযুত তাকওয়া মাদরাসার উদ্যোগে এবং তাওহিদী জনতার পক্ষ থেকে এ সংবর্ধনা দেয়া হয়।
বিশ্বজয়ী হাফেজ তানভীর এলাকায় আগমন উপলক্ষে উৎসুক ধর্মপ্রাণ মুসলমানরা তাকে ফেনীর দাগনভূঞয়া উপজেলা থেকে মোটরসাইকেল শোডাউনের মাধ্যমে বরণ করেন। এরপর সেখান থেকে তাকে বসুরহাট নিয়ে আসা হয়। পরে মারকাযুত তাকওয়া মাদরাসার সভাপতি হাফেজ আবছার উদ্দিনের সভাপতিত্বে এবং মুফতি আমিরুল ইসলামের সঞ্চালনায় সংবর্ধনা অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।
গণসংবর্ধনা অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন- কোম্পানীগঞ্জ উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও বসুরহাট পৌরসভা মেয়র আবদুল কাদের মির্জা। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিশিষ্ট সমাজ সেবক এবং এলিন ফুড কোম্পানির ডিরেক্টর পিপল চৌধুরী, কোম্পানীগঞ্জ থানা অফিসার ইনচার্জ সাদেকুর রহমান, বসুরহাট পৌরসভা প্যানেল মেয়র ফরহাদ হোসেন, দাগনভূঞয়া দারুল কুরআন মাদরাসার প্রিন্সিপাল মাওঃ আতিক উল্যাহ আল মামুন। এছাড়া বিভিন্ন রাজনৈতিক ও সামাজিক সংগঠনের নেতৃবৃন্দরা উপস্থিত থেকে তাকে ফুলেল শুভেচ্ছা জানান।
এর আগে হাফেজ তানভীর হোসাইন সৌদি আরবের মক্কায় অনুষ্ঠিত কুরআন তেলাওয়াত প্রতিযোগিতায় ৭৩টি দেশের প্রতিযোগীদের হারিয়ে প্রথমস্থান অর্জন করেন। এছাড়াও তিনি ইরানে অনুষ্ঠিত আন্তর্জাতিক হিফজুল কুরআন তেলাওয়াত প্রতিযোগিতায় ২০১৬ সালে ৭৫টি দেশের প্রতিযোগীকে পেছনে ফেলে ৪র্থ স্থান অর্জন, হুফফাজুল কুরআন ফাউন্ডেশন বাংলাদেশ কর্তৃক আয়োজিত কুরআন তেলাওয়াত প্রতিযোগিতায় ২০১২ সালে প্রথম স্থান অর্জন, এনটিভিতে অনুষ্ঠিত পিএইচপি কুরআনের আলো প্রতিযোগিতায় ২০১১ সালে ২য় স্থান অর্জনসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশে কুরআন তেলাওয়াত প্রতিযোগিতায় বিজয়ী হয়েছেন।
গত ১ জানুয়ারি মিসরের কায়রোর গ্র্যান্ড নাইল টাওয়ার হোটেলে শুরু হওয়া সপ্তাহব্যাপী ওই প্রতিযোগিতায় ১০৮ জন প্রতিযোগীর মধ্যে (পূর্ণ ৩০ পারা) বাংলাদেশের পক্ষে অংশগ্রহণ করে তৃতীয় স্থান অর্জন করেন কোম্পানীগঞ্জ উপজেলার হাফেজ তানভীর হোসাইন।
হাফেজ তানভীর হোসাইন বলেন, কুরআনের কারণে আমি সম্মানিত হয়েছি। কুরআন হেফজের আগে কেউ আমাকে চিনত না, এমনকি আমি নিজেই নিজেকে চিনতে পারিনি, যখন কুরআন হেফজ করলাম তখন থেকে সারা পৃথিবী আমাকে চিনতে শুরু করেছে। আমি পৃথিবীর কাউকে দেখতে না পেলেও পৃথিবীর মানুষ আমাকে দেখছে। আল্লাহর দয়ায় আমার দৃষ্টি যদি কখনো ফিরে আসে, তার চেয়ে অধিক গুরুত্ব থাকবে আমার কাছে আল কুরআনের।
গণসংবর্ধনা অনুষ্ঠানে অতিথিদের বক্তব্য শেষে হাফেজ তানভীর হোসাইনকে ফুল ও ক্রেস্ট দিয়ে বরণ করে নেন তার নিজ কর্মস্থল কোম্পানীগঞ্জ মারকাযুত তাকওয়া মাদরাসা ও বিভিন্ন সামাজিক সংগঠন, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান এবং বিভিন্ন রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দরা।
এএ