
দেশে যক্ষ্মায় আক্রান্ত হয়ে প্রতিদিন ১০০ মানুষের মৃত্যু হচ্ছে বলে জানিয়েছেন স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণমন্ত্রী জাহিদ মালেক। এর মূল কারণ হিসেবে তিনি সচেতনতার অভাব এবং ট্যাবুকে (সামাজিক বেড়াজাল) দায়ী করেছেন।
বুধবার (২২ মার্চ) দুপুরে রাজধানীর একটি হোটেলে বিশ্ব যক্ষ্মা দিবস উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে তিনি এ কথা বলেন। আগামী ২৪ মার্চ বিশ্বজুড়ে যক্ষ্মা দিবস পালন করা হবে। দিবসটিতে এবারের প্রতিপাদ্য নির্ধারণ করা হয়েছে, ‘ইয়েস, উই ক্যান এন্ড টিবি।’ বাংলায় যাকে বলা হচ্ছে, ‘হ্যাঁ, আমরা যক্ষ্মা নির্মূল করতে পারি।’
বিশ্ব যক্ষ্মা দিবস উপলক্ষে যৌথভাবে এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের জাতীয় যক্ষা নিয়ন্ত্রণ কর্মসূচি ও আইসিডিডিআর,বি পরিচালিত ইউএসএআইডির অ্যালায়েন্স ফর কমব্যাটিং টিবি ইন বাংলাদেশ (এসিটিবি)।
অনুষ্ঠানে স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেক বলেন, যক্ষ্মার ওষুধ এখন বাংলাদেশে তৈরি হচ্ছে। দেশের প্রায় উপজেলা, জেলা হাসপাতালে এ রোগের চিকিৎসা হচ্ছে এবং ওষুধসহ সবকিছু বিনামূল্যে দেওয়া হচ্ছে। এরপরও সচেতনতা ও যথাসময়ে চিকিৎসা গ্রহণের অভাবে প্রতিদিন দেশে প্রায় ১০০ জন যক্ষ্মা রোগীর মৃত্যু হচ্ছে।
স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, যক্ষ্মা একটি বায়ুবাহিত রোগ। আগে মনে করা হতো শিশুদের টিবি হয় না, কিন্তু এখন অনেক শিশুও এতে আক্রান্ত হচ্ছে। তবে আগে ‘যক্ষ্মা হলে রক্ষা নাই’র বদলে এখন আমরা বলতে পারি, যক্ষ্মাকেও জয় করা যায়। তার জন্য প্রয়োজন প্রাথমিক পর্যায়ে রোগী শনাক্ত করে তার চিকিৎসা শুরু করা।
বিশ্বের প্রায় ২০০ কোটি মানুষের শরীরে টিবি বা যক্ষ্মা আছে জানিয়ে মন্ত্রী বলেন, যক্ষ্মায় বছরে ১৫ কোটি মানুষের মৃত্যু হয়। আমাদের দেশে যক্ষ্মা শনাক্তের হার প্রায় ৮০ শতাংশ আর সুস্থতার হার প্রায় ৯৫ শতাংশ। তবে এখনো প্রায় ২০ শতাংশ রোগী শনাক্তের বাইরে থাকছে এবং তারা চিকিৎসার আওতায় আসছে না।
জাহিদ মালেক বলেন, বিশ্বে আট থেকে দশ দেশের মধ্যে ৭০ শতাংশ রোগী। সেই তালিকায় ভারত, পাকিস্তান, ইন্দোনেশিয়ার মতো বাংলাদেশও রয়েছে। তবে আশার কথা হচ্ছে ২০০২ সালে যেখানে প্রতি লাখে ৫৪ জনের মৃত্যু হতো সেখানে এখন মৃত্যু হচ্ছে ২৪ জনের। প্রতি বছর দেশে ২ লাখ ৯০ হাজার নতুন রোগী শনাক্ত হয়, আর বছরে মারা যায় ৪০ হাজার।
তবে সরকারের একার পক্ষে এই সংক্রামক ব্যাধি নিয়ন্ত্রণ সম্ভব নয় জানিয়ে মন্ত্রী সরকারি-বেসরকারি সব পক্ষকে এগিয়ে আসার আহ্বান জানান। তিনি বলেন, সবাই এগিয়ে এলে যক্ষ্মা নির্মূল আগামী ২০৩০ সালের মধ্যেই সম্ভব হবে।
অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য দেন স্বাস্থ্যসেবা বিভাগের সচিব ড. মু আনোয়ার হোসেন হাওলাদার, আইসিডিডিআর,বির নির্বাহী পরিচালক ডা. তাহমিদ আহমেদ, ইউএসআইডির ইনফেকশাস ডিজিজ টিম লিডার ডা. শামীমা চৌধুরী, জাতীয় টিবি প্রোগ্রামের লাইন ডিরেক্টর ডা. মো. মাহফুজুর রহমান সরকারসহ অন্যরা।
এএ