
সুপ্রিম কোর্টের বিচারক অপসারণের ক্ষমতা জাতীয় সংসদের হাতে ফিরিয়ে এনে সংবিধানের ষোড়শ সংশোধনী অবৈধ ঘোষণা করে হাইকোর্ট যে রায় দিয়েছেন, তা স্থগিত চেয়ে আবেদন করেছে রাষ্ট্রপক্ষ।
ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল মো. মোতাহার হোসেন বলেন, আজ রোববার দুপুরে সুপ্রিম কোর্টের সংশ্লিষ্ট শাখায় এ আবেদন জমা দেওয়া হয়। আগামীকাল সোমবার চেম্বার আদালতে আবেদনটি শুনানির জন্য উঠতে পারে।
৫ মে ষোড়শ সংশোধনী অবৈধ ও সংবিধানপরিপন্থী বলে ঘোষণা করেন বিচারপতি মইনুল ইসলাম চৌধুরী, বিচারপতি কাজী রেজা-উল হক ও বিচারপতি মো. আশরাফুল কামালের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্টের একটি বিশেষ বেঞ্চ। সংখ্যাগরিষ্ঠ মতে দেওয়া এই রায়ে আদালত বলেন, সংসদের মাধ্যমে বিচারপতি অপসারণের পদ্ধতি ইতিহাসের দুর্ঘটনামাত্র, যদিও এটা বিশ্বের কোনো কোনো দেশে বিদ্যমান। এতে আর বলা হয়, সংবিধানের ২২ অনুচ্ছেদে বিচার বিভাগকে রাষ্ট্রের নির্বাহী বিভাগ থেকে পৃথক রাখার যে বিধান রয়েছে, ষোড়শ সংশোধনী সেই বিধানের সঙ্গে সাংঘর্ষিক। এটি সংবিধানের মৌলিক কাঠামো ও ক্ষমতার পৃথকীকরণ নীতির পরিপন্থী, তাই এটি সংবিধানে ৭ খ অনুচ্ছেদকেও আঘাত করে।
২০১৪ সালের ১৭ সেপ্টেম্বর সংসদে সংবিধানের ষোড়শ সংশোধনী বিল পাস হয়। এতে বিচারপতিদের অপসারণের ক্ষমতা সংসদের হাতে ফিরিয়ে এনে সুপ্রিম জুডিশিয়াল কাউন্সিল সংবিধান থেকে বাদ দেওয়া হয়। এরপর ৫ নভেম্বর সুপ্রিম কোর্টের নয়জন আইনজীবী এই সংশোধনীর বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে হাইকোর্টে রিট আবেদন করেন। ৯ নভেম্বর হাইকোর্ট রুল দিয়ে সরকারের কাছে জানতে চান, ষোড়শ সংশোধনী কেন অসাংবিধানিক ঘোষণা করা হবে না। পরে গত বছরের ২১ মে রুল শুনানি শুরু হয়, গত ১০ মার্চ শুনানি শেষ হয়। রুল শুনানিতে অ্যামিকাস কিউরি হিসেবে মতামত দেন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী ড. কামাল হোসেন, এম আমীর-উল ইসলাম, রোকন উদ্দিন মাহমুদ ও আজমালুল হোসেন কিউসি।
রায় ঘোষণার পরই অ্যাটর্নি জেনারেল জানিয়েছিলেন, হাইকোর্টের রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করা হবে। তবে রায়ের কার্যকারিতা স্থগিত রাখার জন্য চেম্বার জজের কাছে আবেদন করা হবে। সেই অনুসারে আজ চেম্বার আদালতে রায় স্থগিতের আবেদন করা হলো।
সানবিডি/ঢাকা/আহো