
চুয়াডাঙ্গায় টানা ২ সপ্তাহ ধরে তাপপ্রবাহে জনজীবন দুর্বিষহ হয়ে উঠেছে। শনিবার (১৫ এপ্রিল) থেকে শুরু হয়েছে অতি দাবদাহ। ঝাঁঝালো রোদ আর গরমে রোজাদারদের অবস্থাও ওষ্ঠাগত। আবহাওয়া অফিস বলছে, সহজে দেখা মিলছে না বৃষ্টির। শনিবার বেলা ৩টায় এ জেলায় তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ৪২ দশমিক ২ ডিগ্রি সেলসিয়াস। এ সময় বাতাসের আর্দ্রতা ছিল ১৬ শতাংশ।
তাপদাহে জনজীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। বিশেষ করে দুপুরের পর থেকে বাইরে বের হওয়া দায় হয়ে পড়ছে। বিশেষ প্রয়োজন ছাড়া বাইরে বের হচ্ছে না কেউ। জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে এলাকায় মাইকিং করা হচ্ছে বিভিন্ন নির্দেশনা দিয়ে যাতে হিটস্ট্রোক, পানি শূন্যতা ও ডায়রিয়া আক্রান্ত না হয় সাধারণ মানুষ।
চুয়াডাঙ্গা প্রথম শ্রেণির আবহাওয়া পর্যবেক্ষণাগারের ইনচার্জ জামিনুর রহমান বলেন, প্রতিদিনই দেশের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা চুয়াডাঙ্গায় রেকর্ড হচ্ছে। গত টানা ২ সপ্তাহ ধরে জেলায় সর্ব্বোচ্চ তাপমাত্রা বিরাজ করছে। আজ সকাল ৯টায় ছিল ৩০.৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস। এরপর দুপুর ১২টায় তাপমাত্রা বেড়ে ৪০.৪ ডিগ্রি হয়ে যায়। এরপর বেলা ৩টায় ৪২.২ ডিগ্রীতে পৌঁছায়। শুরু হয় অতি দাবদাহ। আকাশ আংশিক মেঘাচ্ছন্ন থাকতে পারে তবে বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনা নেই। ফলে তাপমাত্রা আরও বাড়তে পারে।
এদিকে চলমান তাপপ্রবাহে সবচেয়ে কষ্টে পড়েছে খেটে খাওয়া দিনমজুর, রিকশা-ভ্যান চালক ও কৃষক। অন্যদিকে তীব্র খরায় ঝরে যাচ্ছে আম-লিচুর গুটি। বোরো ধান, সবজি ক্ষেতে প্রতিদিন সেচ দিতে হচ্ছে। ফলে বিপাকে পড়েছে কৃষকরা। বাড়তি দামে প্রতিদিন ডিজেল কিনতে গিয়ে নাভিশ্বাস ছুটে যাচ্ছে তাদের।
চুয়াডাঙ্গা আবহাওয়া পর্যবেক্ষণাগারের রেকর্ড অনুযায়ী, শুক্রবার এ জেলায় ৪১.৭ ডিগ্রি, বৃহস্পতিবার ছিল ৪১ ডিগ্রী, বুধবার ছিল ৩৯.৭ ডিগ্রি, মঙ্গলবার তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ৩৯.৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস। সোমবার জেলায় সর্বোচ্চ ৩৯.২ ডিগ্রি, রোববার তাপমাত্রা ৩৯ ডিগ্রি, শনিবার ছিল ৩৮.৫ ডিগ্রি ও শুক্রবার ৩৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস সর্বোচ্চ তাপমাত্রা রেকর্ড হয়েছিল।
এএ