
জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. নজরুল ইসলামের ওপর হামলার ঘটনার প্রতিবাদে সমাবেশ ও মানববন্ধন করেছে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতি (জবিশিস)। রোববার (৭ মে) বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার চত্বরে এ মানববন্ধন হয়।
মানববন্ধনে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতির সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক ড. লুতফর রহমান হামলার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়ে বলেন, কোনো শিক্ষককে নির্যাতন করা হলে আমরা বসে থাকতে পারি না। শিক্ষা জাতির মেরুদণ্ড। শিক্ষকের মর্যাদাকে সমুন্নত রাখতে হবে। এ সময় অভিযুক্ত চেয়ারম্যান ও মাদরাসা ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি আব্দুল্লাহ আল মাহমুদসহ সবার বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান তিনি।
মানববন্ধনে কলা অনুষদের ডিন ও জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় সাদা দলের সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক ড. রইস উদদীন বলেন, অধ্যাপক নজরুল ইসলামের সঙ্গে থাকা মাদরাসা শিক্ষা বোর্ডের পরিচালক জিয়াউল আহসানকে জিজ্ঞাসাবাদ করলেই আমার মনে হয় প্রকৃত ঘটনা বেরিয়ে আসবে। একই ঘটনায় আমাদের সহকর্মীর ওপর হামলা হলো কিন্তু ওই বোর্ড পরিচালক একেবারে অরক্ষিত অবস্থায় সেখান থেকে ফিরে আসেন। এখানেই সন্দেহ হয়, ইউপি চেয়ারম্যান আবদুল্লাহ আল মামুনের সঙ্গে ওই কর্মকর্তার কোনো দেনাপাওনার যোগসাজশ আছে কি না?
ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আবদুল অদুদ বলেন, অধ্যাপক নজরুল ইসলামের ওপর যে ন্যক্কারজনক হামলা করা হয়েছে, তা দেশের আর কোনো বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকের ওপর বিগত সময়ে হয়েছে বলে আমার জানা নেই। আমার বিভাগের সহকর্মীর ওপর এ ঘটনার তীব্র নিন্দা জানাই এবং ঘটনার সঙ্গে সম্পৃক্ত সবাইকে দ্রুত আইনের আওতায় আনার দাবি জানাচ্ছি। এ সময় বিভিন্ন অনুষদের ডিন, বিভাগের শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা উপস্থিত ছিলেন।
উল্লেখ্য, খুলনার কয়রার উত্তর চক আমিনিয়া বহুমুখী কামিল মাদরাসার প্রিন্সিপাল নিয়োগকে কেন্দ্র করে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগের প্রফেসর নজরুল ইসলামকে আটকে রেখে তার ওপর নির্মম নির্যাতনের অভিযোগ ওঠে মহারাজপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আব্দুল্লাহ্ আল মাহমুদের বিরুদ্ধে।
অধ্যাপক নজরুল ইসলাম সেখানে ইসলামী আরবি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যের প্রতিনিধি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন।
এএ