
ইউক্রেনের বাখমুত শহর দখলের চেষ্টায় টানা ছয় মাসের যুদ্ধে প্রায় ২০ হাজার ওয়াগনার যোদ্ধা নিহত হয়েছে। এমনটি স্বীকার করেছেন রাশিয়ার ভাড়াটে বাহিনীটি প্রধান ইয়েভজেনি প্রিগোজিন।
ক্রেমলিনপন্থী এক রণকৌশলীকে দেয়া সাক্ষাত্কারে প্রিগোজিন বলেন, নিয়মিত রুশ সেনারা যুদ্ধের সময় বেসামরিক মানুষকে হত্যা করেছে, যা মস্কো বারবার এবং প্রবলভাবে অস্বীকার করে।
তিনি বলেন, ওয়াগনারের সশস্ত্র যোদ্ধারা অনেক শক্তিশালী হলেও ইউক্রেনীয় সেনাবাহিনী রুশ বাহিনীর বিরুদ্ধে ভয়ংকর লড়াই চালিয়ে যাচ্ছে। ফলে ইউক্রেনীয়দের বিরুদ্ধে লড়াই করতে প্রকৃত অর্থে প্রস্তুত নয় রুশ বাহিনী। রাশিয়ার মাটিতেও তা সম্ভব নয়- এমন মন্তব্য করেন রুশ ভাড়াটে বাহিনীটির প্রধান ইয়েভজেনি প্রিগোজিন।
প্রিগোজিন মঙ্গলবার (২৩ মে) নিজের টেলিগ্রাম চ্যানেলে রুশপন্থি ব্লগার কনস্ট্যান্টিন ডলগভের সঙ্গে সাক্ষাৎকারে বলেন, ‘এখন আমি নিজের অভিজ্ঞতা থেকে বিচার করতে পারি। আমি জানি বিভিন্ন দেশে কীভাবে লড়াই হয়। আজ ওয়াগনার পিএমসি বিশ্বের অন্যতম সেনাবাহিনী। তবে এরপর আমাকে বলতে হবে এটি রাশিয়ার সেনাবাহিনীর হওয়া উচিত। কিন্তু আমি বিশ্বাস করি ইউক্রেনীয়রা বিশ্বের অন্যতম শক্তিশালী সেনাবাহিনী।’
এর আগে, ২ মে হোয়াইট হাউস দাবি করেন, গত পাঁচ মাসে ইউক্রেনের বাখমুত শহরে ২০ হাজারের বেশি রুশ সেনা মারা গেছে। যুদ্ধে আরও ৮০ হাজার আহত হয়েছে। দেশটির জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদের মুখপাত্র জন কিরবির নতুন গোয়েন্দা তথ্যের বরাত দিয়ে এ খবর নিশ্চিত করেছে বিবিসি।
যুক্তরাষ্ট্র বলছে, মৃতদের অর্ধেকই রাশিয়ার ভাড়াটে বাহিনী ওয়াগনারের সেনা।
রক্তক্ষয়ী যুদ্ধের মাধ্যমে মস্কো গত বছর থেকে বাখমুত শহরের নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার চেষ্টা করছে।
এই ছোট শহরে মাত্র কয়েক হাজার বেসামরিক লোক থাকে। তবে এর নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার জন্য প্রতীকী অর্থে উভয় পক্ষের জন্য বিশাল গুরুত্ব বহন করে।
ইউক্রেনের কর্মকর্তারা বলেছেন, রুশ সৈন্যের রিজার্ভ কমাতে তারা যতটা পারছে তাদের হত্যা করেছে যুদ্ধের মাধ্যমে। শহরের একটি ছোট অংশের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে ইউক্রেন।
সূত্র: আল-জাজিরা
এএ